লক্ষ্মীপুরে নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে তৃণমূলে যুবদল নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম উত্তেজনা

লেখক: Admin
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন ও সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন ভূইঁয়া কে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুর জেলা তৃণমূলে যুবদল নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা জজ কোর্টের সুপরিচিত আইনজীবী ও যুবদল নেতা অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া ও ইকবাল হোসেন বিগত ১৭ বছরের প্রতিকূল সময়ে তৃণমূলের পাশে থাকা এই নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের এমন বিদায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব মহলে সাধারণ কর্মী-সমর্থকেরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে সমালোচনা তোর পাড় খাচ্ছে এডভোকেট আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া লক্ষ্মীপুরের আইনি অঙ্গনে একজন সদা হাস্যোজ্জ্বল ও মানবিক মানুষ হিসেবে অত্যন্ত সমাদৃত। বিগত ১৭ বছর ধরে বিএনপি যখন চরম রাজনৈতিক সংকট, মামলা-হামলা ও জুলুমের মুখোমুখি হয়েছিল, তখন তিনি ঢাল হয়ে তৃণমূলের অসহায় নেতা- কর্মী দের পাশে থাকা অবস্থায়।কোনো ধরনের পারিশ্রমিক বা আর্থিক সুবিধা ছাড়াই সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে দায়িত্ব পালন করে শত শত নেতা-কর্মীকে তিনি আইনি সুরক্ষা ও আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতা দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে দল থেকে অব্যাহতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতিতে নানা-মুখী আলোচনা-সমালোচনা শুনা যাচ্ছে বিভিন্ন পথে-ঘাটে মহল্লায় ও চায়ের দোকানে।আবার অনেক নেতা-কর্মী কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় এই পদক্ষেপকে দলের জন্য একটি ‘আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে অব্যাহতি ঘোষণার পর হইতে বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মত প্রসঙ্গে জানা গেছে, একাধিক মাঠপর্যায়ের কর্মী আরও দলের কঠিন সময়ে যারা নিজেদের জীবন, পরিবার ও পেশাকে ঝুঁকিতে ফেলে রাজপথে এবং আদালতে লড়েছেন, সু-সময়ে এসে তাদের এভাবে মূল্যায়ন না করে সরিয়ে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ধরণের সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকলে আগামীতে ত্যাগী কর্মীরা রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার এবং দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের আন্দোলন-সংগ্রামের পরীক্ষিত, নিঃস্বার্থ ও জনবান্ধব নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া মাঠপর্যায়ে দলের অভ্যন্তরীণ চেইন অব কমান্ড এবং ঐক্যে মারাত্মক নৈতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেক নেতাকর্মীদের মন্তব্য। এছাড়াও দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায় এই সিদ্ধান্তের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো সাংগঠনিক কারণ দেখিয়েছে কি না—তা নিয়ে তৃণমূলের মাঝে এখনও অসন্তোষ জনক সন্দেহ কাটেনি।

উল্লেখ্য যে, গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্যাডে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পরে যুবদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর দায়িত্বে থাকা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন ও সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেনকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া খালি পোস্টে সাইফুল ইসলাম জুয়েল ও সুমন চৌধুরীকে নতুন দায়িত্ব দিয়ে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নেতাকর্মীদের মাঝে।

 

📢 আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর:

👉 বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন