
বিশেষ প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুরঃ
লক্ষ্মীপুর বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবির) কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কার্যালয়টির ভিতরে ও বাহিরে নির্বাহী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে একাধিক সিন্ডিকেট কাজ করে চলছে। কার্যালয়টিতে সিন্ডিকেট তৈরি মূলত অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে সোলাইমান মঞ্জিল গত মঙ্গলবার দিন যাইয়ে রাত আনুমানিক ১১টার সময় তার ঘরে বিদ্যুৎ এর মিটারের টাকা শেষ হয়।

পরে বিকাশের মাধ্যমে টাকা রিসার্চ করিলে দেখতে পায় ২২০ টি মিটার সংখ্যা। নিরুপায় হয়ে ২২০টি মিটার সংখ্যা দিয়ে পর পর তিন বার ট্রাই করেও ব্যর্থ হই মিটারে সংযোগ পেতে। পরের দিন সকালে নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়ের রিসিভশনে গিয়ে মিটারে সংযোগ নেই জানাইলে তিনি তিনটি সংখ্যা ও সাথে তার মোবাইল নম্বর দিয়ে তাকে কল করে জানাতে বলে। মিটারে তিন টি সংখ্যা দেওয়ার পর তিন, শুন্য, নয়, আসলে আবার আট শুন্য ছয় সংখ্যা দিয়ে দেখতে বলে । পরে আবার দ্বিতীয় বার দেওয়া হলে নাইন, সিক্স, সংখ্যাটি আসছে বললেই মুঠোফোনে জানান মিটার লক হয়েছে। এই লক খুলতে ৬’শ থেকে ৭’শ টাকা জমা দিতে হবে নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়ে। পরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পিডিবি বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র অফিস উপ-সহকারী কর্মকর্তা খাইরুল কে মিটারে সংযোগ নেই জানাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী কর্মকর্তা খাইরুল এক প্রকার মিটার ও বিদ্যুৎ গ্রাহকদের বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে গ্রাহকদের কে ৬৯০ টাকার পূবালী ব্যাংক জমা দেওয়ার জন্য অফিস কর্মকর্তাদের সই স্বাক্ষর ছাড়া খালি একটি রিসিট হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে তার পেশা আর নেশা।একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, নতুন মিটারের জন্য সরকার নির্ধারিত টাকার চেয়ে অতিরিক্ত ফ্রী দিয়ে আবেদন করতে হয়। আবেদনের পর প্রথম ধাপে অফিস স্টাফদের মাধ্যমে গ্রাহকের সাথে যোগাযোগ করে মিটার সংযোগ দিতে মোটা অংকের টাকা দাবী করে প্রকৌশলী কর্মকর্তা খাইরুল। গ্রাহক রাজি হলে প্রথম ধাপেই সংযোগ স্থাপন হয়। কিন্তু গ্রাহক অতিরিক্ত টাকা দিতে রাজি না হলে তিনি মিটার সংযোগ স্থাপনের প্রতিষ্ঠান কিংবা বাসাবাড়ি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন না। এরপর বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দীর্ঘদিন সংযোগ দেয়া বন্ধ রাখে ও নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রধান কর্মকর্তার সাথে দেখা করতে বলে। একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে গ্রাহক নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করে টাকা দিতে রাজি হয়। এরপর দ্বিতীয় ধাপে নির্বাহী প্রকৌশলী কর্মকর্তা খাইরুলের চাহিদা মত মোটা অংকের টাকা দিয়ে গ্রাহক মিটার সংযোগ পাই।তবে ২২০ টি সংখ্যা দিয়ে গ্রাহকদের হয়রানি করা ও সরকারের নাম বিনয়ী করে জনগণের রাস্তা করা ও সেবা দেওয়ার নাম করণ করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে মিটার লক নামে ৬৯০ টাকা জরিমানা। তাদের অনিয়ম দুর্নীতির সাহসের কারণে লক্ষ্মীপুরে ডিজিটাল কার্ড মিটার গ্রাহকেরা ভোগান্তির শিকার। তবে প্রশাসনের তদারকি না থাকার কারণে লক্ষ্মীপুর পিডিবি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনিয়মের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ।এ বিষয়ে প্রশাসনকে দায়ী করছেন পৌরসভা স্থানীয় বাসিন্দার ভুক্তভোগীরা। একই সাথে এই অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে ও অনিয়মনীতি তৈরী বন্ধ করা একান্ত আবশ্যক বলে জানান ভুক্তভোগীরা। নির্বাহী প্রকৌশল কর্মকর্তা খাইরুল কে অতি দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে জিজ্ঞেসাবাদের মাধ্যমে ৬৯০ টাকা করে নেওয়ার ঘটনার সত্যতার প্রমাণিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
