গর্ভবতী নারীকে মারধরের ঘটনায় যমজ নবজাতকের মৃত্যু: বিচার দাবিতে রায়পুরে মানববন্ধন

লেখক: Admin
প্রকাশ: ১৭ ঘন্টা আগে

 

রায়পুর প্রতিনিধি,

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এক গর্ভবতী নারীকে মারধরের ঘটনায় তার যমজ নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, স্বজন ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

বুধবার (৩ জুন) সকালে রায়পুর থানার সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

ভুক্তভোগী সাবিকুন নাহার উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং ওয়াহীদুজ্জামান রাজনের স্ত্রী। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৬ মার্চ তাদের বাড়িতে সংঘটিত একটি লুটপাটের ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাবিকুন নাহারের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, ঘটনার পর থেকেই সাবিকুন নাহারের শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। গত ২২ মে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের জরুরি সিদ্ধান্তে মাত্র ছয় মাসের গর্ভাবস্থায় সন্তান প্রসব করাতে হয়।

জন্ম নেওয়া যমজ নবজাতকের একজন জন্মের পরপরই মারা যায়। অপর শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) ভর্তি করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরপর দুই নবজাতকের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।

এ ঘটনায় সাবিকুন নাহার বাদী হয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, একজন গর্ভবতী নারীর ওপর হামলার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ সংঘটনের প্রবণতা কমে আসবে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা শুধু একটি পরিবারের দাবি নয়, বরং এটি সমাজের প্রতিটি মানুষের প্রত্যাশা। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হলে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পাবে এবং সাধারণ মানুষের আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

📢 আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর:

👉 বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন