
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ থানায় মামলা হয়েছে। ভিকটিম নিজ ঘর হইতে টয়লেটে যাওয়ার পথে রাত আনুমানিক ২টা ৩০মিনিটের সময় ফারিয়া আক্তার লাভনী নামের এক গৃহ বধুকে আটক করে এবং পাশের বাগানে তুলে নিয়ে গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা আল আমিন ছৈয়াল এর বিরুদ্ধে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জনাব মোঃ আবু ইউসুফ ছৈয়াল চেয়ারম্যানের আপন বাতিজা আল আমিন ছৈয়াল। বর্তমানে সে একজন বিএনপির দলীয় নেতা কর্মীর পদ পদবীর পরিচয় দিয়ে এইসব অপকর্ম কান্ড চালিয়ে আসছে।।
এমন অভিযোগ করেন ধর্ষণের শিকার হওয়া ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা। আব্দুল মতিন খন্দকার, মাতা মৃত-মিলনী বেগম,সাং উত্তর চররমনী বারেক ভূঁইয়ার বাড়ির বাসিন্দা মিন্টু ভূঁইয়ার স্ত্রী ধর্ষণের শিকার ফারিয়া আক্তার লাভনী(৩০)।
এদিকে ঘটনার ২দিন অতিবাহিত হলেও অভিযুক্ত ধর্ষক গ্রেফতার না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে অসন্তোষের ক্ষোভ প্রকাশ। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী। অভিযুক্ত ধর্ষক আল আমিন ছৈয়াল (৩৮) ২০নং চররমনী মোহন ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বাসিন্দা সাবেক আওয়ামী লীগের দলীয় নেতা আবু ছৈয়াল এর পুত্র ধর্ষক আল আমিন ছৈয়াল।
ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ জানান, এর আগে তার এক বিয়ে হয় পারিবারিকভাবে সেখানে তার এক কন্যা সন্তান রয়েছে বর্তমানে তাকে পালক দেওয়া হয়েছে। পরে সংসারে অশান্তি হলে তার স্বামী ভালো না হওয়ায় তিনি আবারও তাকে তার পরিবারের স্বজনরা পারিবারিক ভাবে মিন্টু ভূঁইয়ার সাথে দেন। বর্তমানে তার এ ঘরে একটি ৮বছরের ছেলে সন্তান আছে।
ঘটনার স্থল ২০নং চররমনী মোহন ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিকটিমের স্বামীর বসত বাড়ির পূর্ব পাশে সুপারী বাগানে ঘটে। এর আগে ২৮/০৫/২০২৬ইং তারিখ রাত ৮টার দিকে শ্বশুর শাশুড়ী সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিজের শোনবার কক্ষে গিয়ে ঘুমায়। পরে ২৯/০৫/২০২৬ইং তারিখে রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে টয়লেটের উদ্দেশ্য ঘর থেকে বের হলে ধর্ষক আল আমিন ছৈয়াল আমাকে টেনে হেসরে তুলে নিয়ে গিয়ে ভোগ করে।
ভুক্তভোগী ফারিয়া আক্তার লাভনী আরও বলেন,আমার স্বামী কাতার প্রবাসী তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাতেরে থাকে ধর্ষণ ও আমার বাড়ি বিভিন্ন গ্রামে পৃথক রয়েছে। তিনি আরও বলেন,আমি আমার বৃদ্ধ শ্বশুর শাশুড়ী সাথে থাকী। তার পর হইতে আমার শ্বশুর শাশুড়ী বাড়ির আশে পাশে ধর্ষণ আল আমিন ছৈয়াল ঘুরঘুর করে আর আমাকে কিছু দিন পর পরে কু- প্রস্তাব দিয়ে আসতেন।
আমি তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়াতে আজ আমার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি হইতে হয়েছে তার হাতে ধর্ষণের শিকার। আমার কি দোষ ছিল আমি একজন নারী আমার ঘরে বাহিরে যাওয়া আসা লাগে।তার জন্য কি এইসব ধর্ষকের হাতে আমরা নারীরা ধর্ষণের শিকার হইতে হবে। আমি ঘর থেকে বের হয়ে টয়লেটের দিকে যাওয়ার পথে আমাকে জোরপূর্বক মুখ বন্ধ করে তুলে নিয়ে যায় ধর্ষক আল আমিন ছৈয়াল আমাদের সুপারি বাগানে।
সেখান নিয়ে গিয়ে আমাকে বিবস্ত্র করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।ধর্ষক আল আমিন ছৈয়াল এর হাত থেকে আমার ইজ্জত রক্ষা করতে চাইলো সেই তার কমড় থেকে একটি ধারালো ছুরি বের করে আমাকে ধর্ষণ করে হত্যা ও খুন করে রেখে যাবে তাকে তার কাজ করতে বাধা না দেওয়ার হুমকি দিয়ে আমার পরণে কাপড় খোলে ধর্ষণ করে এবং আমি যদি এব্যাপারে আমার শ্বশুর শাশুড়ী অথবা এলাকার কাউকে কিছু বলে তাহলে আমার ৮বছরের ছেলে রাফি কে হত্যা করে খুন করবে বলে হুমকি দিয়ে আমাকে ঘটনার স্থলে পেলে চলে যায়।
আমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার স্বাক্ষী আছে আমার এলাকার বারেক ভূঁইয়া(৬৫) পিতা আহিম আলী ভুইঁয়া, মাজেদা খাতুন (৫৫) । ধর্ষণের ঘটনা কাউকে বললে প্রানে হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেন বলে জানান ওই গৃহবধূ ।এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশীরা বলেন, গৃহবধূ টয়লেটে যাওয়ার পথে ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে শুনেছি। অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।
এ ঘটনার সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার জন্য একটা পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, ঘটনা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এজাহার ভুক্ত আসামী আল আমিন ছৈয়াল এর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ৩০/০৫/২০২৬ ইং তারিখে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় হাজির হইয়া ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। যাতে রয়েছে শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধন ২০২০ এর ৯ (১) সৎসৎ ৫০৬ এর( ২)ধারা পেনেল কোর্ড অনুযায়ী সাজা।থানায় ফৌজদারী কার্যবিধি বিধান কোষের ১৫৪ ধারা ধর্তব্য অপরাধ সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য ঝলক মোহন্ত ও আবু হানিফ এর নিকট হইতে তদন্তে জানা গেছে।উপজেলা লক্ষ্মীপুর সদর ৬২/২৯২।
