সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে করে গোপালগঞ্জ পার হলেন এনসিপির নেতারা

লেখক: Admin
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

ডেস্ক রিপোর্টঃ গোপালগঞ্জে গিয়ে হামলার মুখে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অবস্থান নেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।পরে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে করে সেখান থেকে বের হয়ে তাঁরা সাঁজোয়া যানে করেই গোপালগঞ্জ ত্যাগ করেন।

এদিকে গোপালগঞ্জে সমাবেশ শেষে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ঘিরে হামলার ঘটনা কে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। (১৬) জুলাই বুধবার বিকেলে গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্কে সমাবেশ শেষে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ঘিরে হামলার ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির নেতা ও নেতাকর্মীরা।পরে

সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানের দিকে যেতে ভিডিও দেখা যায় এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লার। ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, এনসিপির সমাবেশ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে একদল ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে নেতা-কর্মীদের ঘিরে হামলা চালান। তাঁরা চারদিক থেকে এনসিপির নেতা-কর্মী ও পুলিশের গাড়ি আটক করেন।

এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। এনসিপির নেতা-কর্মীরা অন্যদিক দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এনসিপির নেতারা তখন গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অবস্থান নেন। বিকেলে এনসিপির নেতারা যে সাঁজোয়া যানে করে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে বের হন, এমন কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এছাড়া আরও দেখা যায় গোপালগঞ্জে পুলিশের গাড়িতে আগুন, ইউএনওর গাড়ি ভাংচুর।পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থা দেখে নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে উঠায় এনসিপি সংগঠনের মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সহ এনসিপির আরও নেতা কর্মীদের কে।

জেলা পুলিশ কার্যালয়ে অবস্থানের সময় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সংবাদ কর্মী সাংবাদিকের কাছে অভিযোগে জানান, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছেন।এ সময় পুলিশ-সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। তাদের (এনসিপি) বলা হয়েছিল, সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু তাঁরা সমাবেশস্থলে এসে দেখেন পরিস্থিতি ঠিক নেই।১ জুলাই থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করছে এনসিপি। এর মধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় এই কর্মসূচি পালন করেছে দলটি।

মাসব্যাপী এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জে পদযাত্রা করেন দলটি। গতকাল মঙ্গলবার দলের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এই কর্ম সূচিকে ১৬ জুলাই, মার্চ টু গোপাল গঞ্জ’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। গোপাল গঞ্জে এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়িতে আগুন।এই পদযাত্রা ঘিরে( ১৬ই) জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার উলপুর-দুর্গাপুর সড়কের খাটিয়াগড় চরপাড়ায় পুলিশের গাড়িতে হামলা ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।পরে খবর পেয়ে ওই এলাকায় পরিদর্শনে গেলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রাকিবুল হাসানের গাড়িতে হামলা করে।

সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানের দিকে যাচ্ছেন এনসিপির নেতা আখতার হোসেন।শহরের পৌর পার্কে এনসিপির সমাবেশস্থল বেলা তখন পৌনে ২টা। এসময় ২০০ থেকে ৩০০ লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে এনসিপির সমাবেশস্থলে গিয়ে হামলা চালান। সমাবেশ শেষ করার পর দ্বিতীয় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে বেলা পৌনে তিনটার দিকে। পরে জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

গতকাল সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে হামলা, সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনার পর জেলাটিতে আজ বুধবার রাত আটটা থেকে কারফিউ জারি করা হয়েছে।তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত এই কারফিউ চলমান থাকবে জানান।

 

📢 আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর:

👉 বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন