
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুর জেলাধীন ২০নং চর রমনী মোহন এর ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার ও বর্তমানে প্যানেল চেয়ারম্যান নয়নের নেতৃত্বে তথ্য সংগ্রহকালীন সময়ে সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়।বুধবার (২৬ মার্চ) দুপুর ১২.৩০ মিনিট এর সময় ২০নং চর রমনী মোহনের ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অফিসের সামনে কার্ডধারী জেলেদের চাল বিতরণ কালে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে মঙ্গলবার অত্র এলাকা থেকে মুঠো ফোনে জানা যায়, ২০ নং চর রমনী মোহনে প্রতিটি জেলেদের কার্ড এর বিনিময়ে দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এর সূত্র ধরে বুধবার সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে দেখতে পায় কার্ডধারী জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
এ সময় সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় চেয়ারম্যান নয়ন ও উপস্থিত লোকজনের সাক্ষাৎকার নিয়ে চলে আসার সময় চাল নেওয়া কয়েকজন ভুক্তভোগী জেলে অভিযোগ তুলেন চাল কম দেওয়া হচ্ছে ।পরে সত্যতা জানার জন্য চেষ্টা করলে তারা ডিজিটাল মেশিন দিয়ে মেপে দেখায়। মাপে প্রতি বস্তায় ১০/১২ কেজি করে চাল কম পাওয়া যায়। অর্থাৎ পঞ্চাশ কেজি বস্তায় ৪০, ৪৫, ৪৮ ও ৩০ কেজি বস্তায় ২৪, ২৫, ২৬ কেজি করে পাওয়া যায়।
বিষয় প্যানেল চেয়ারম্যান নয়নের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওরা বহিরাগত দালাল ওদের কথা বিশ্বাস করবেন না। তাদের কাছে জেলে কার্ড আছে তারা বহিরাগত হবে কেন বা দালাল হবে কেন? এমন প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর না দিয়ে প্রথমে দৈনিক ভোরের খবর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ফরহাদ হোসেন এর হাত থেকে ভিডিও লাইভে থাকা অবস্থায় মোবাইল কেড়ে নিয়ে যান।
একপর্যায়ে জাতীয় ডেইলি প্রেজেন্ট টাইমস, ও জাতীয় দৈনিক কালের ছবি পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক লক্ষ্মীপুরের কথা সম্পাদক রাকিব হোসেন সোহেল ও ভোরের খবর প্রতিনিধির মোবাইল ফেরত দিতে বলা হলে নয়ন সন্ত্রাসী গ্রুপ সাংবাদিকের উপর চড়াও হয়ে হাত থেকে দুটি মানিব্যাগ, একটি ইনফিনিক্স এনডুয়েড মোবাইল, ও একটি samsung মোবাইল সহ নগদ টাকা ও মানিব্যাগে থাকা পানি বিল ও বিদ্যুৎ বকেয়া বিলের কাগজ, এবং নিজ ন্যাশনাল আইডি কার্ড ও ভিজিটিং কার্ড সহ ১০ হাজার আটশো টাকা, এবং আরও নিজ পকেট খরচ্ছের জন্য রাখা ষোলশ টাকা, এবং আরও কিছু ভাঙতি টাকা সহ ঐ দুটি মানিব্যাগ ও দুটি মোবাইল কেড়ে নিয়ে যান নয়নী সন্ত্রাসী গ্রুপ।
পরে এসিল্যান্ড এর উপস্থিতিতে দুই সংবাদ দাতা সাংবাদিকের তিনটি মোবাইল থেকে দুটি মোবাইল ফেরত দেয়।কিন্তু মানিব্যাগে থাকা নগদ টাকা ও একটি স্যামসাং মোবাইল ফেরত না দিয়ে তাদের লোকজন লাগিয়ে সাংবাদিকের আটক করে মারধর করেন।এখানে শেষ নয়,সাংবাদিকদের চাপ সৃষ্টি করে মোবাইলের লক খুলে মোবাইলে থাকা সকল তথ্য ডিলেট করে দেন নয়নী।
এ সময় ডেইলী প্রেজেন্ট টাইমস ও দৈনিক কালের ছবি জেলা প্রতিনিধি,রাকিব হোসেন সোহেল ও দৈনিক ভোরের খবরের জেলা প্রতিনিধি ফরহাদ হোসাইন গুরুত্বর আহত হয়।অবশেষে, পুলিশ ও লক্ষ্মীপুর সদর ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) কে ফোন দিলে এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকদের উদ্ধার করে।
তবে ডেইলি প্রেজেন্ট টাইমস,ও দৈনিক কালের ছবি পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক লক্ষ্মীপুরের কথা সম্পাদক,রাকিব হোসেন সোহেল এর মোবাইল বিকাশ সিম সহ মোবাইলটা উদ্ধার হয়নি।পরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে তাদের চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।বর্তমানে তারা লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা দিন রয়েছে। এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি। সাংবাদিকগণ আমাদের লিখিত অভিযোগ দিলে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
