জামায়াতের তিন কোটি সমর্থককে জেলে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যান : ডা. শফিকুর রহমান

লেখক: Admin
প্রকাশ: ১ বছর আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক : জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান অন্তর্বর্তীকালিন সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৫ তারিখ আমি স্বেচ্ছায় কারাবরণ করতে চাই। যেদিন আজহার ইসলামের মুক্তি হবে তার পরেরদিন আমাকে মুক্তি দিবেন। ১৩টি বছর কারাগারের অন্ধকার রুমে ধুকে ধুকে তিনি জীবনের সাথে লড়াই করছেন। এ মানুষটি তার পরিবারকে হারিয়েছে, তার ওপর আর জুলুম করবেন না। তাকে এখনই মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। যদি মুক্তি না দেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে সরাসরিভাবে এদেশের প্রাপ্ত বয়স্ক ৩ কোটি মানুষ সমর্থন করে। এ ৩ কোটি মানুষকে জেলে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যান।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াতের গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। দীর্ঘ ২৮ বছরে পর লক্ষ্মীপুরে জামায়াতের এমন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ১০ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যে দলের সবচেয়ে বেশি শীর্ষ নেতাকে খুন করেছে তার নাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এক এক করে ১০জনকে খুন করেছে আর আল্লাহ একজনকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তিনি হচ্ছেন আমাদের ভাই এটিএম আজহার ইসলাম। আফসোসের বিষয় ৬টি মাস চলে গেলো, বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হলো, কিন্তু ফ্যাসিবাদের বোঝা এখনও আজহারের গাড়ের উপর রয়ে গেলো।

৫৪ বছরে এ বাংলাদেশের অনেক কিছু বদলে গিয়েছে। দফায় দফায় রক্তের বন্যা বয়ে গিয়েছে। এই ৫৪ বছরে অনেক জনের শাসন আমরা দেখেছি। অনেক আদর্শের কথা আপনারা শুনেছেন। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইসলামের আদর্শের শাসন এখনো দেখার সুযোগ হয়নি। অতীতে সোনার বাংলা কায়েম করতে গিয়ে, শশ্মান বাংলা কায়েম করেছে। কোরআনই একমাত্র সোনার বাংলা কায়েমের গ্যারান্টি দিতে পারে। আর কেউই দিতে পারবে না। বাংলার জমিনে তার পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষ। এখন হবে কোরআনের বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ।

জামায়াতে ইসলামীর আমির আরো বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কেউ যদি খেলে, তাহলে আমরা কারও দাবার ঘুঁটি হব না। কেউ আমাদের সঙ্গে খেলবেন, তা পছন্দ করি না। শুধু আমাদের সঙ্গে না, এ দেশের একজন নাগরিকের সঙ্গেও যেন কেউ খেলাধুলা না করে। আমরা রাষ্ট্রে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাই না।’ ‘চব্বিশের নিহত ও আহতদের রক্ত, জীবন, ইজ্জত ও আবেগকে অপমানিত করবেন না। কিন্তু আমরা দেখছি, কতিপয় কাজ এখনো বন্ধ হচ্ছে না। আমরা দেশবাসীকে আহ্বান জানাব। আমরা বারবার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এ আহ্বান কেয়ামত পর্যন্ত জানাব না।’

ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, ২৪শের জুলাই আন্দোলনের পরে মানুষ আসা করেছিলো সকল দুঃশাসন এবং সকল দুর্নীতির অবসান হবে। আমাদের প্রিয় সন্তানেরা বুক পেতে বলেছিলো-বুকের ভেতর প্রবল ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর। সেই ঝড় হচ্ছে দুর্নীতি, অনিয়ম, অবিচার। ৫৪বছর চলে গেলো আমরা সত্যিকার অর্থে স্বাধীনতার স্বাদ পেলাম না। মানুষ গুলির মুখে বুক পেতে আশা করেছিলো ২৪শের পর সমস্ত দুঃশাসন, দুর্নীতির অবসান হবে। কিন্তু আমরা তা থেকে মুক্ত হতে পারি নি।

দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে চাঁদাবাজি, দখলদারি বন্ধ করতে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, জাতিকে সামনে এগিয়ে যেতে দিন। আবার যেন ফ্যাসিবাদের নতুন ধারা, অধ্যায় তৈরি না হয়। তার থেকে ফিরে আসুন। ফিরে না আসলে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। আপনারা পাশে থাকলে চাঁদাবাজ, দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত দেশ হবে। এর জন্য প্রথমত আপনাদের ভালোবাসা, দ্বিতীয়ত সমর্থন, তৃতীয়ত আপনাদের পাশে পেতে চাই।

সকাল সাতটা থেকে লক্ষ্মীপুর ও আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এ গণ জামায়েত সম্মেলন স্থলে জমায়েত হতে শুরু করেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমীর এসইউএম রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী ফারুক হোসাইন নুরুন্নবীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এ টি এম মাসুম, চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর শাহাজান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেন, কুমিল্লা মহানগরীর আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আতিকুর রহমান, ঢাকাস্থ লক্ষ্মীপুর ফোরামের সভাপতি ডা. আনোয়ারুল আজীম, লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এডভোকেট নজির আহম্মদ, এ আর হাফিজ উল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মহসিন কবীর মুরাদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মমিন উল্যাহ পাটওয়ারী, শহর জামায়াতের আমীর এডভোকেট আবুল ফারাহ নিশান প্রমুখ।

📢 আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর:

👉 বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন