
পর্ব -১
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর সদর থানার আওতায়ধীন ৩নং দালাল বাজার ইউনিয়নের দালাল বাজার খোয়াসাগর দিঘীরপাড় নির্মাণ কাজে নির্মমানের বাঁশ ব্যবহার করে গাইড ওয়াল নির্মাণের কাজ করছেন রাজু ঠিকাদার নামের এক ব্যক্তি।গোপন সূত্রে জানা যায় খোয়াসাগর দিঘির পাড়ে গাইড ওয়াল নির্মমানের বাঁশ ব্যবহার করে নির্মাণ কাজ চলছে। এমন গোপন তথ্য জানার পরেরদিন ১৯ই আগস্ট দুপুর ১টার দিকে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ঘটনাটি সত্য। ঘটনাস্থলে এক কর্মচারী কে দেখতে পেয়ে ঠিকাদার কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজু কনটেকটার। গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজ কোন প্রকল্পের জানতে চাইলে অপরিচিত কর্মচারী বলেন, এলজিইডি প্রকৌশলী প্রকল্পের কাজ। পরে কাজের মান ঘুরে দেখতে গিয়ে দেখা মিলে কাজের অনিয়ম। দেখা যায় নিম্নমানের বাঁশ ব্যবহার করে গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজে বাঁশ দিয়ে স্টিলে ঠেগ দেওয়া। আরও দেখা যায় সিলেকশন বালুর সাথে বালু মাটি। অন্য দিকে সিলেকশন পাথরের জায়গায় গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ঘুড়ি রাবিশ পাথর। নেই গাইড ওয়াল সঠিক নির্দিষ্ট স্থানে। দেখা যায় যে পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে তার কোনো সাইডে ছড়া, আবার কোনো সাইড দিয়ে রয়েছে চিপা ও আঁকাবাঁকা। এদিকে ইঞ্জিনিয়ার আসেন কি-না বিষয়টি জানতে চাইলে অপরিচিত কাজের লোক সাংবাদিককে জানান,উপজেলা এলজিইডি (LGED) প্রকল্পের কর্মকর্তা এসে কাজের মান দেখে গেছেন।এখানে কোনো কাজের অনিয়ম হয়নাই যদি নির্মাণ কাজে অনিয়ম থাকতো তাহলে তিনি কিছু বলতেন।হঠাৎ একজন অপরিচিত ব্যক্তি গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজের পাশে এসে কাজের লোককে বলে পানি নিষ্কাশনের পাইপ এলোমেলো কেনো, এমন প্রশ্নের জবাবে কাজের লোকটি অপরিচিত ব্যক্তি কে বলেন, স্যার কাজের মান ভালো। আবারও কাজে লোকটিকে অপরিচিত ব্যক্তি বলেন, তোরা কি কাজ করস, পানি নিষ্কাশনের পাইপ এলোমেলো কেনো, ঠিক করে কাজ করিস।এদিকে সাংবাদিক ঘটনানাস্থল থেকে চলে আসার সময় সাংবাদিকের গাড়ির সামনে অপরিচিত ব্যক্তিটি অবস্থান করিলে সম্মানের সাথে জিজ্ঞেস করা হয় এখানে ইঞ্জিনিয়ার কে আপনি, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি ইঞ্জিনিয়ার, আপনি কে।,পরে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি সাংবাদিককে অকাত্মক ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তাকে জানানোর জন্য উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে গিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তাকে না পেয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তার মুঠোফোনে কল করে গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজে অনিয়ম ও প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকের সাথে অসৎ আচরণ সম্পর্কে জানানো হলে তিনি বিষয়টি আমলে নিয়ে তৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ঠিকাদারের লোকজন কে কল করেন। কল শেষে পুনরায়ই সাংবাদিককে কল করে ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি তাদের ইঞ্জিনিয়ার নয় বলে সাংবাদিক কে নিশ্চিত করেন। পরে ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির ছবি দিয়ে ফেইসবুক পেইজে পোস্ট দিলে বিভিন্ন জায়গা থেকে পোস্টের কমেন্টে জানান,তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার পৌর ৬ নং ওয়ার্ডের ব্যান্ডেল বাড়ির বাসিন্দা বাহার বেন্ডার। তিনি কোনো এলজিইডি প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার নয়। তবে সাংবাদিকের কাছে ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি ইঞ্জিনিয়ার না হয়েও সাংবাদিকের সাথে অসৎ আচরণ করার ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি উদ্বেগজনক বিষয়।ঘটনার পেছনে মূল কারণদুর্নীতি আড়াল করা এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ হলে, তা ধামাচাপা দিতে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে একধরণের পেশা আর নেশা। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বা প্রশ্ন এড়াতে ভুয়া পদমর্যাদা দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়। ধরনের ঘটনার প্রভাবে গণমাধ্যম সংবাদ কর্মী সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা,হুমকি-ধুমকি ছাড়া আর কিছু নয়। সাংবাদিকরা সত্য তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হেনস্তা ও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়েন। ভুয়া ব্যক্তিদের দাপটে আসল অনিয়মগুলো আড়ালে থেকে যায়, যা সরকারি অর্থের অপচয় ঘটায়। এতে বিশৃঙ্খলা স্থানীয় প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর মতো সম্মানজনক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সাংবাদিক ও ভুক্তভোগীদের কে কেউ যদি সরকারি প্রকৌশলী এলজিইডি সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানের ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার নাম পরিচয় দেয় তাহলে ৪১৬ ধারা প্রতারণা আইন বিধি মোতাবেক অপরাধ যোগ্য। তবে জানা গেছে তিনি ছিলেন বিএনপি দলীয় নেতা। বহিষ্কারের পরে জামাতে দলীয় নেতা হিসেবে যোগদান করেন। যোগাদানের পর হইতে একের পর এক অনিয়ম করে আসছেন বাহার ব্যান্ডল। সেই ভুয়া পরিচয় দেওয়া এবং অসদাচরণের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করার প্রস্তুতি চলছে। তবে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা কমিটির সভাপতি বি ভি রায় চৌধুরী কে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছেন দৈনিক লক্ষ্মীপুরের কথা সম্পাদক ও জাতীয় ডেইলি প্রেজেন্ট টাইম”স পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি রাকিব হোসেন সোহেল। তবে সাংবাদিককে অসৎ ভাষায় গালিগালাজ করার প্রতিবাদে ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা একান্ত আবশ্যক বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব লক্ষ্মীপুর জেলা সংগঠন। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলরা এ ঘটনার পর হইতে আতঙ্কে রয়েছে। তারা বলেন, যেখানে চতুর্থ শ্রেণি সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহকালে হামলা মামলা ও হুমকি ধমকির শিকার হয়ে নির্যাতিত হয়। সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়। একজন সাংবাদিকের সাথে ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দিয়ে অসৎ আচরণ কারীকে অতিশীঘ্রই আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার দাবি কামনা করছেন জেলা প্রশাসক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ প্রশাসনের নিকট। যাতে করে এরকম ঘটনা কোন সাংবাদিকের সাথে না ঘটে।সেই ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি আমরা সচেতন মহলরা।
