
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সরকারি খাল দখল করে বাড়ি করার পরিকল্পনা নিয়ে বেকু দিয়ে মাটি খনন করে নিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী বেকু মালিক রাসেল ব্যাপারী হ্যাকমত ব্যাপারী নামের দুই ব্যক্তি।
গতকাল বুধবার দুপুরে একটি মুঠোফোনের কল সুত্রে জানা গেছে সরকারি ১নং খাশ খতিয়ানের ভূমি হইতে সরকারি খাল থেকে রাসেল ব্যাপারী বেকুর মালিক ও হ্যাকমত ব্যাপারী দুই জনে মিলে সরকারি খালের পূর্ব পাশে নিজের মালিকানা সম্পত্তি দাবী করে জায়গা বরাট নির্মাণ কাজ চলছে।
স্থানীয় প্রভাবশালী পরিচয় খাটিয়ে নিজেদের সন্ত্রাসী গ্রুপের প্রদান গডফাদার উপাদী দিয়ে বীরপুরুষ দাবী জানিয়ে সরকারি খাল দখল করে বেকু ধারায় মাটির খনন করা অভিযোগ উঠেছে এই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,রায়পুর উপজেলার আওতায়ধীন ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নে মোল্লার হাট বাজার হইতে দক্ষিণ এর পশ্চিম দিকে পানির ঘাট এলাকায় নামে সুপরিচিত পানির ঘাট সরকারী খাল।
সংযোগস্থলে দোতলা বাড়ি করার পরিকল্পনা নিয়ে বেকু দিয়ে মাটি খনন করছেন সরকারি খাল দখল রেখে। এতে খালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি, খালের দু’পাশে মালিকানা নাল কৃষি ফসলী জমি ও ঘনবসতি রয়েছে।১খালের মধ্যে জলাশয় ও দখলের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরকাচিয়া মৌজার খতিয়ানভুক্ত জমি খালের মালিকানায় রয়েছে।
তবে সরেজমিনে খালের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
পানির ঘাটের খাল সংযোগস্থল পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল হয়ে মেঘনা নদীতে মিলিত হয়েছে। গত কয়েক বছর খালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি, খাল মৃত হয়ে যায়। খালের দু’পাশে ঘনবসতি ও দখলে খাল অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। কিছু পানি জলাবদ্ধতা তৈরি করছে। বর্ষায় পানি নামতে পারে না। শুস্ক মৌসুমে পানি জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। দ্রুত খালের দখলমুক্ত করে খননের গুরুত্ব রয়েছে।
অভিযুক্ত রাসেল ব্যাপারী বলেন, তিনি খাল দখল করেন-নি বাড়ি নির্মাণ কাজ করবো, তায় বেকু দিয়ে মাটি খনন করে মালিকানা জমি থেকে মাটি নিচ্ছি। এখানে কোনো সরকারি খাল নেই, সব আমাদের মালিকানা জমি। সরকারি নামে কোনো খাল তৈরী হয়নি।
যারা তথ্য দিয়েছে তাদের অক্ষাতক গালমন্দ করে হুঁশিয়ারি দিয়ে আঞ্চলিক ভাষায় বলে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি হোসাইন আহমদ হেলাল সিনিয়র সাংবাদিক কে তুলনা করে বলে কিছু দিন আগেই না তোদের আব্বাস সাংবাদিক কে গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছে। তোরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে কি করতে পারছিস, বলে আকার ইঙ্গিতে বিভিন্ন বাসায় গালমন্দ করে আরও বলেন, তোরা তো ৫০০ – ১০০০ হাজার টাকার সাংবাদিক।
আমরা আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিলাম যখন, তখন তোদের মহিলা লাকী নামের এক ভূয়া সাংবাদিক আমাদের কাছে আসতো,আর ড্রেইজার মেশিন চালু থাকা কালীন সময়ে আমাদের কাছ থেকে টাকা নিতো। তোরা সব সাংবাদিক হেলাল কস, আর আব্বাস সাংবাদিক কস, তোর কথা তো বাদ দিলাম, তুই এখনো এতটুকু যেতে পারছিস-নি, বলে মন্তব্য করে গালমন্দ করছেন বিএনপির নেতা কর্মীর পরিচয়ে রাসেল ব্যাপারী ও হ্যাকমত ব্যাপারী।
তারা আরও বলেন, সরকারি খাল দখলের বিষয়ে সরকার কথা বলবে, সাংবাদিকরা কেন বলবে? এমন প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকরা বিতর্কে না গিয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট গিয়ে সরকারি খাল দখল, ও বেকু দিয়ে মাটি খনন করে নিজ জায়গায় নিয়ে যাওয়া এবং সাংবাদিকদের মোবাইল ভিডিও লাইভে থাকা অবস্থায় মোবাইল হাত থেকে কেড়ে নিয়ে তাদের বলা সকল ডকুমেন্টস ডিলেট করার ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়লে তিনি সরজমিন গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
বিএনপির দলীয় নেতা কর্মীর রাসেল ব্যাপারী ও হ্যাকমত ব্যাপরী রাজনৈতিক দলের নেতার পরিচয়ে আপনার নাম ভেঙে বেকু দিয়ে মাটি খনন বিষয়ে আপনাকে জানিয়েছেন বলে আবারও জানতে চাইলে তিনি বলেন,বিএনপির দলীয় নেতা কর্মীর পরিচয়ে আমার পিছনে আমার নাম ব্যবহার করতে পারে, তাতে আমার কাছে অপরাধীরা অপরাধ করে বেছে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, অপরাধীরা সেই, যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে।
সরকারী খাল দখলে বেকু ধারায় মাটির খনন করে তাদের মালিকানা জায়গা নিয়ে যাওয়া বিষয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
