
কামরুল ইসলাম
কমলনগর প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার শিমা আক্তার কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে অর্থের অভাবে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে শিমা আক্তারের।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বাবা কৃষিকাজ করে সংসার চালালেও বর্তমানে তিনি অসুস্থ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিছানায় পড়ে আছেন।এদিকে মেয়ে শিমা আক্তার মেডিকেল কলেজে ভর্তির খরচ বহন ও পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।দরিদ্র এই পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠেছে। শিমার অর্থের অভাবে ভর্তি নিয়ে কয়েকটি পত্রিকার সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে জানা যায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। সোমবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার তাকে ভর্তিতে সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে শিমাকে সহযোগিতা করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার মহোদয়।মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী শিমা হলেন কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরজাঙ্গালীয়া গ্রামের আলী আহমেদের মেয়ে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,শিমাদের ভাই বোনের মধ্যে শিমা পঞ্চম। ২০২১ সালে উপজেলার চরকালকিনি আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪ দশমিক ৮৯ পেয়ে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয় শিমা। অর্থের অভাবে নিয়মিত কলেজও যেতে পারতেন না তিনি। ২০২৩ সালে এইচএসসিতে জিপিএ ৪ দশমিক ৮৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হন শিমা আক্তার।মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়েনি শিমা। এবার মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪ হাজার ৩১৬তম স্থান অর্জন করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।পড়ালেখার প্রতি মেয়ের প্রচণ্ড আগ্রহের কথা জানিয়ে এলাকার স্থানীয় অপরিচিত প্রতিবেশীরা বলেন,অনেক কষ্ট করে তার মা বাবা শিমার পড়ালেখার খরচ চালিয়ে আসছে। অভাব-অনটনের সংসারে তাকে মেডিকেলে ভর্তি করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।চরকালকিনি আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মাহমুদুর রহমান বেলায়েত বলেন, অর্থের অভাবে শিমার পড়ালেখার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। পরে বিদ্যালয় থেকে তার সব খরচ মওকুফ করা হয়েছিল। তবে সে অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। তার সাফল্য কামনা করছি।অর্থের অভাবে মেডিকেল কলেজে ভর্তিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।শুনেছি শিমার বিষয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার।
