লক্ষ্মীপুরে দখল হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সরকারি জমি, প্রশাসন নিরব

লেখক: Admin
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

 

স্টাফ রিপোর্টার: কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি দীর্ঘদিন থেকে দখলে নিচ্ছে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট। খবর নেই প্রশাসনের, নেই কোন প্রদক্ষেপ!

লক্ষ্মীপুরে রায়পুর উপজেলার ২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৯ ওয়ার্ড হাজীমারা বাজার সংলগ্ন মেঘনা নদী সুইস গেইটস্থল পূর্ব পাশে সুইচ গেইট মাষ্টার অবসরপ্রাপ্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারীর পরিচয়ে মোজাম্মেল মাষ্টার পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে ভোলা বরিশাল হইতে মেঘনা নদীর নৌ পথে চলছে লাইসেন্স বিহীন ইট বালুর ব্যবসা।

গত শনিবার সকালে তথ্য সংগ্রহ কালে চোখের নজরে পড়ে নৌকা ও টলার যোগে সুইস গেইট দিয়ে ইট বালু আনার দৃশ্য। পরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা মোজাম্মেল মাষ্টার নিজ দখল রেখে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এই ইট বালুর ব্যবসা করে আসছেন। অবসরে গিয়েও বন্ধ হয়নি তার অবৈধ ভাবে সরকারি ভূমি দখল দেওয়া।

অবৈধ ভূমিস্যুদের মত পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখলের লোভ লালসা ছাড়তে পারিনি মোজাম্মেল মাস্টার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২৮ শতক জায়গা বেয়ানিভাবে দখল রয়েছে মোজাম্মেল মাস্টারের দখলে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় ভোলা বরিশাল থেকে বাবা ছেলে মিলে সরকারি নদীর পাড় দখল ও নদীর পরিবেশ দূষণ করে নদী দিয়ে ভোলা বরিশাল থেকে সিলেকশন বালু ও সাদা বালু এবং ইট কণা এনে সুইস পূর্ব গেইটের উত্তর পাশে রেখে দীর্ঘ ১২ বছরের ও বেশি সময় ধরে ব্যবসা করে যাচ্ছে এলাকা বাসীর অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নজরে আসেনা এসব বিষয়ে। না হলে নদীর পাড় দখল করে এইসব অবৈধ ব্যবসা, কি করে সম্ভব হচ্ছে,তাও সরকারি কর্মচারীর পরিচয়ে।

এদিকে আরো ২জন রয়েছে রায়পুর উপজেলার হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ীর আওতায়ধীন ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন প্রকাশ দাধন ব্যাপারী ও একই ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মোতাইত হোসেন তারা ২জন লক্ষ্মীপুর টু হাজীমারা মোল্লার হাট বেড়িবাঁধ হইতে হাজীমারা বাজারে মাঝামাঝি চলিং রাস্তার মাথা বেড়ী ফাঁকা সড়কের দক্ষিণ পাশে বেড়ীবাঁধের উপরে সরকারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা বেআইনী ভাবে দখল করে অবৈধভাবে টিন দিয়ে ২টি স্থাপনার নির্মাণ কাজ করতে দেখা যায়।

প্রশাসনের নাকের ডগায় বসিয়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মোতাইত হোসেন দেখিয়ে দিলো অপরাধ কাকে বলে।এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দ্বায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিরব ভূমিকায় রয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেশীদের অভিযোগ।

এছাড়াও দেলবাদশা ফকির বাড়ি জামে মসজিদের সামনে, ১৭৩ শতাংশ সরকারি খাস জমি রয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। সোমবার সকালে, সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে তখনও দখল কার্যক্রম চলছে।সরকারি এই ভূমির বেশিরভাগই ইতিমধ্যে দখলে নিয়ে দোকানপাট ও মিলঘর স্থাপন করে বিভিন্ন জনের কাছে ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করছেন একটি ভূমিদস্যু চক্র। গেল পাঁচ আগস্টের পরিবর্তিত পরিস্থিতির পর অবশিষ্ট জমিও এখন দখল করে নিচ্ছেন তারা।দই সহোদর সহ আট-দশ জনের একটি সিন্ডিকেট করে সরকারি এই বিশাল সম্পত্তি অবৈধ ভাবে দখল করছেন স্থানীয় মৃত আলী আহমেদের বড়ো ছেলে মো. আবু সাঈদ ড্রাইভার।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দখল বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে একটি বাহিনী গড়ে তুলে নিজেই এলাকার মোড়ল বনে গেছেন সায়েদ। তার সহযোগিরা অবৈধ দখল, বিভিন্ন অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। সায়েদের খুঁটির জোর স্থানীয় এক বিএনপি নেতা, বলে দাবি করেছেন সায়েদ নিজেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এই সায়েদ ড্রাইভার বিগত সরকারের আমলে আওয়ামীলীগ নেতা ও সদ্য সাবেক কমিশনার সুমনের আস্থাভাজন ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে বিএনপির লোক পরিচয় দিয়ে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

জানতে চাইলে সায়েদ ড্রাইভার বলেন, সরকারি জমি শুধু আমি একা দখল করিনি। এখানে সানাউল্লাহ মিয়ার ছেলে হারুন ও সাদ্দাম হোসেন, আব্দুর রশিদের ছেলে সুমন, আক্কাস মিয়ার ছেলে জামাল হোসেন এবং আমার দুই ভাই হোসেন আহমদ আর ফিরোজ আলমও রয়েছে। এটা নিয়ে ডিসি, এসিল্যান্ড ও পুলিশ এসেছে, তারা সবকিছু দেখেছেন।

তখনও দোকান ঘরগুলো ভেঙে ফেলতে বলছে, আমরা ভাঙ্গিনি। এসব বিষয়ে লোকমান কাউন্সিলর সবকিছু জানে। আপনারা প্রয়োজনে তার সাথে কথা বলেন। নতুনভাবে আরও দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু এটা আমাদের বাড়ীর সামনে তাই আমরা দখল করতে বাধ্য।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, দীর্ঘদিন থেকে সায়েদ ড্রাইভার তার দলবল নিয়ে সরকারি সম্পত্তি দখল করে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করে আসছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নেইনি। প্রশাসন কেন নীরব আমরা জানিনা। সায়েদ ড্রাইভার সবাইকে ম্যানেজ করে ফেলে। দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে সরকারের কোটি কোটি টাকার জমি বেদখল হয়ে যাবে।

📢 আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর:

👉 বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন