
স্টাফ রিপোর্টারঃ নুর ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্য এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে মেঘনা নদীতে পেলে দেওয়ার চেষ্টায় জমি জবরদখলের পায়তারা করছেন লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ পন্থী দলীয় নেতা কর্মীগণ।এমন অভিযোগ উঠেছে অবৈধভাবে মালিকানা সম্পত্তি দখলকারীদের বিরুদ্ধে।
এঘটনাটি ঘটে ২০নং মধ্যে চররমনী মোহন ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে আবু কেরানী বাড়ির সামনে মেঘনা নদীর তীরে বালুর টালের উপর ১৫/১০/ ২০ ২৫ইং তারিখ রোজ বুধবার রাত ৮টার দিকে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,হামলাকারীরা সবাই একই ইউনিয়ন বাসিন্দা। গতকাল অদ্য রাত ৮টার দিকে একদল আওয়ামী পন্থী দলীয় সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করেছে নুর ইসলাম নামের ব্যক্তিকে। এসময় হামলা কারীদের হাতে দাঁড়ালো অস্ত্র ও হকেস্টি, অস্ত্র, চুরি, চেনা দিয়ে আঘাত করার চেষ্টায় করিলে তাহার চিহ্ন থাকিবে বলে তা হাতে থাকা অস্ত্রে ধারা আঘাত না করে এলোপাতারি কিল ঘুসি ও গলা টিপে শ্বাসরোধ করে।
এবং পানির বোতল ধারা আঘাত করে, এতে করে নুর ইসলাম গুরুতর আহত হন।হামলা কারীদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল নুর ইসলামকে হত্যা করে মেঘনা নদীতে ফেলে দেবার পরিকল্পনা।এসময় অপরিচিত লোকজন আসতে দেখে ঘটনার স্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে আহত নুর ইসলাম কে সিএনজি যোগে লক্ষীপুর সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগে পাঠায় চিকিৎসার জন্য।
সেখানে কর্মরত চিকিৎসক তাকে দেখে ভর্তি দেন। সন্ত্রাসী হামলাকারীদের হামলার শিকার হয়ে আহত অবস্থা নুর ইসলাম লক্ষীপুর সদর হাসপাতালে দীর্ঘ ৪দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। পরে চিকিৎসায় কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় তাকে উন্নত মানের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।
এদিকে হামলা কারীরা হলেন, আসামি পক্ষের হুমায়ুন(৪০), পিতা- চৌধুরী, রাকিব (২২), পিতা- মাহফুজ চৌকিদার, ইব্রাহিম (৪০)পিতা- মাহফুজ চৌকিদার, লিটন(৩০)পিতা- অজ্ঞাত, শরিফ(২০) পিতা- অজ্ঞাত, মিলন(২৫)পিতা- অজ্ঞাত রায়হান(২৫),পিতা- অজ্ঞাত ,সোহাগ (২৩)পিতা- অজ্ঞাত , সহ আরো অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৬জন। ঘটে যাওয়া ঘটনার বাদী পক্ষের স্বাক্ষী: নুর ইসলাম(৪০),পিতা- রফিকুল ইসলাম , মনির হোসেন (৩০),পিতা- সালাহ উদ্দিন, রিনা আক্তার (২৫),স্বামী – মনির হোসেন, আবু সাইয়েদ, আবু তাহের(৪৫)পিতা- আলী আকবর ,করিম(২৬),পিতা রফিকুল ইসলাম, ইব্রাহিম (৩২),পিতা-রফিকুল ইসলাম, হাসান(৩৫),পিতা- আবু তাহের, (৪০),পিতা- অজ্ঞাত, সহ আরও অনেকে। আওয়ামী লীগ পন্থী দলীয় সন্ত্রাসী হামলা কারীরা নুর ইসলামকে আঘাত করে ক্ষান্ত হননি।
তারা ঘটে যাওয়া ঘটনার পরের দিন বুধবার ১৬/১০/২০২৫ইং তারিখে আবারো দ্বিতীয় দফায় হামলা করার উদ্দেশ্য করে আহত নুর ইসলাম এর পরিবারের সদস্যদের উপর বৃহস্পতিবার সকাল ১০ ঘটিকার সময় দুইটি স্পিরিট ভোট যোগে ১০ – ১২ জন সন্ত্রাসীরা বাড়িতে প্রবেশ করে ঘরের ভিতরে ঢুকে প্রথমে তার স্ত্রীর পরনে জামা কাপড় নিয়ে টানা হেঁচড়া ও অসম্মান জনক আচরণ করে হেস্তনেস্ত করার চেষ্টা করে।
পরে কানে থাকা, কানের দুল ও ব্যবহারের আসবাবপত্র এবং ঘরের সিন্ধুকের তালা ভেঙ্গে নগদ টাকা সহ প্রায় ২ লক্ষ টাকার মালামাল নিয়া যায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনদের। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আহত নুর ইসলাম এর ভাই মোঃ বাবুল লক্ষীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট ১৬/১০/ ২০২৫ইং তারিখ রোজ
বৃহস্পতিবারে হাজির হয়ে একটি এজাহার দায়ের করেন।পরে ঐমামলা শুক্রবারে রুজু করা হয়। যাহার মামলা নং- ৩২৫ /২০২৫ইং।এজাহার মধ্যে উল্লেখিত রয়েছে যে তার ভাই কৃষক নুর ইসলাম কৃষিকাজ শেষে জমি থেকে চলে আসার সময় লক্ষ্মীপুরে একটি পাম্প মেশিন কিনার উদ্দেশ্য করে নিজের সাথে ৩০হাজার টাকা নিয়ে রওনা দিলে হামলা কারীদের ক্ষোভের মুখে পড়ে।
এসময় হুমায়ুন ও রাকিব, লিটন,বেল্লাল, মাহফুজ,ইব্রাহিম সহ ১০ থেকে ১২ জন তাকে আটক করে।এবং মেঘনা নদীর বালুর টালে যেতে বলেন, নুর ইসলাম যেতে অনিহা প্রকাশ করলে তাকে তুলে নিয়ে যায় মেঘনা নদীর তীরে বালুর টালের উপরে। শুরু হয় তার উপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা নামের রোলার চালিয়ে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি লার্থী ও পানির বোতল আঘাতে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ পতঙ্গ থ্যাটলে গিয়ে গুরুতর আহত হয়ে পড়ে নুর ইসলাম।
নুর ইসলামের মেয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সাবেক আওয়ামী পন্থী দলীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আলহাজ্ব আলমগীর মেম্বার এর বাতিজা হুমায়ুন কবিরের সাথে আমার বাবার জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।বিরোধের জের ধরে বুধবার সকালে আমাদের নাল জমিতে বেকু ধারা মাটি খনন করে আড়া বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু করে। এসময় আমার বাবা নুর ইসলাম বাধা প্রদান করে।পরে বুধবারে দিন শেষে রাত ৮টার দিকে আওয়ামী পন্থী সন্ত্রাসী বাহিনী দলের লোকজন আটক করে হামলা করে অনেক মেরেছে।
আহত নুর ইসলামের মা জননী জানান,আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে উপযুক্ত বিচার চায়,আমার ছেলের কি দোষ ছিল,কেনো আমার ছেলে অকালে মৃত্যুর ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়েছে। মৃত্যু থেকে বেঁচে আসলেও তাকে যে আহত করা হয়েছে তা মারাত্মক। এখন পর্যন্ত তার মুখে কোন খাবার দেওয়া যাচ্ছে না, এবং কারো সাথে কোন কথা বলে না, কথা বলতেও পারছে না বলে এইসব কথা বলেন আহতয়ের মা জননী।
প্রতিবেশীরা সাংবাদিকের জানান, আহত নুর ইসলাম এর সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের দীর্ঘদিন ধরে জমি জমা নিয়ে বিরোধ চলিতেছে ওই সুবাদে নুর ইসলাম বাঁধা প্রদান করিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে হত্যার উদ্দেশ্যে মেরে ফেলে মেঘনা নদী ফেলে দেবে এমন পরিকল্পনা ছিল তাদের, তারা আরও জানান হামলা কারীরা পূর্বের দলীয় সন্ত্রাসী গ্রুপ আওয়ামী লীগ পন্থী দল। ভাগ্য ভালো এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশীরা তার শোর-চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে রক্ষা করেছে।
আহত নুর ইসলাম এর সেজো ভাই বলেন, ভাইয়ের জীবন ফিরে আসছে এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশীদের উদ্ধারের কারণে। না হলে মেঘনা নদীতে ফেলে দিত ভাইকে, আমরা ভাইয়ের লাশ খুঁজে পেতাম না। নুর ইসলাম মেয়ের জামাই মনির জানান, এরা সবাই আওয়ামী পন্থী সন্ত্রাসী দল, বর্তমানে বিএনপিতে যোগ দিয়ে বিএনপি মান সম্মান হানি করার পরিকল্পনার তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।এদিকে নুর ইসলাম এর স্ত্রী অভিযোগে বলেন,যারা আমার জমি দখল দেওয়ার চেষ্টা করে আমার স্বামীকে হত্যা করতে চেয়েছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে উপযুক্ত বিচার দাবি প্রার্থনা করছি। আমার স্বামী খাটি বিএনপি করে, আমার শ্বশুর বাড়ির সবাই বিএনপি করে, আমার দাবী মামলার আসামিদেরকে অতি দ্রুত আইনের আওতায় আনা একান্ত জরুরি।
আহত নুর ইসলাম এর ছোট মেয়ে জানান,এরা আওয়ামী পন্থী দলীয় সংগঠন১৫ বছরে জোর জবরদখল কারী, মানুষের সম্পদত্তি লুটপাট করে নেওয়া একদল শ্রেণীর লোক। দিনে দুপুরে অসহায় নিরীহ মানুষদের জমি বাড়ি ঘর দখল দেওয়া তাদের পেশা আর নেশা। একপর্যায়ে জমি দখল ও হামলার ঘটনা সত্য কি-না জানার জন্য ২০নং চররমনী মোহন ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে সরজমিনে গিয়ে কয়েকটি দোকানে বসে থাকা অপরিচিত লোকজন ও আশেপাশে এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি ঘটে যাওয়া ঘটনা সত্য।
এবিষয়ে অভিযুক্ত হামলা কারী হুমায়ুন কবিরের ইন্ধন দাতারা দৈনিক লক্ষীপুরের কথা অফিস নাম্বারে কল করে হাসপাতাল রোডে দেখা করতে বলেন, পরে কল দাতাকে দৈনিক লক্ষীপুরের কথা সম্পাদক তাকে অফিসে আসতে বলেন তিনি অফিসে আসবেন আসবেন বলে দীর্ঘ চার ঘন্টা অফিসে বসিয়ে রাখে কল দাতা এবং মোবাইল বন্ধ করে দেয়।নিরুপায় হয়ে দীর্ঘ সময় বসার পরে দশটায় আবারো কল করি দৈনিক লক্ষীপুরের কথা অফিস গ্রামীণ নাম্বার থেকে। কল দেওয়ার পরে রিসিভ করে তৃপ্তি হোটেলের সামনে অবস্থান করছে বলে জানান পূর্বের কলদাতা লিটন নামের এক ব্যক্তি।
সেখানে গিয়ে তাকে আর খোঁজে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত কারীদের আচার আচরণ দেখে প্রমাণ করে যে, অসহায় নিরীহ মানুষের জমি দখল দেওয়া এবং হামলা করার ঘটনা সবই সত্য।
