লক্ষ্মীপুরে স্মার্ট কেয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাসিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

লেখক: Admin
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:লক্ষ্মীপুরে স্মার্ট কেয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে এর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৯এ আগস্ট রোজ শনিবার বিকাল চার ঘটিকার সময় স্মার্ট কেয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর ম্যানেজিং কমিটির উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত ম্যানেজিং কমিটির মাসিক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত, সভাপতি রনক জাহান, সহ সভাপতি হোসনেয়ারা বেগম, প্রধান শিক্ষক আজিমুন নাহার,সহ কারী শিক্ষিকা শান্তনা আক্তার,হাসিনা আক্তার, তিশা আক্তার,আইরিন আক্তার,মাসুমা আক্তার,আফরোজা আক্তার ও শিক্ষক রবিউল হোসেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, স্মার্ট কেয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুল মালিক সোহাগ,মইনুল হোসেন সুমন,মোহাম্মদ আলম,এবং রাকিবুল হাসান শেখ।

এতে বক্তব্য রাখেন, স্মার্ট কেয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর প্রধান শিক্ষিকা সহকারী শিক্ষিকা গণ সহ স্মার্ট কেয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর ম্যানেজিং কমিটির দ্বায়িত্বে থাকা সদস্য বৃন্দ গণ।
মাসিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিতির বক্তব্যর শেষে বক্তব্য রাখেন, প্রধান শিক্ষিকা তিনি বলেন,স্মার্ট কেয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ কে আরও উন্নত করতে হলে আপনারা যারা স্কুল ম্যানেজিং কমিটির দ্বায়িত্বে রয়েছেন, আপনাদের সকলের আগ্রহ গতিশীল বাড়াতে হবে এবং পাশাপাশি স্কুলের আসা যাওয়া বাড়িয়ে স্কুলে শিক্ষার্থী ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনা ও হাতের লেখার মান কেমন খোঁজ খবর রাখতে হবে। এছাড়া ছাত্র ছাত্রীদের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয় নজর রাখতে হবে।পাশাপাশি স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যান্স ও শিক্ষক শিক্ষিকাদের জন্য চেয়ার বাড়ানো জরুরী বলে জানান।

স্মার্ট কেয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর সভাপতি রনক জাহান বলেন,স্কুলে ছাত্র ছাত্রীদের জন্য একটি খেলাধুলার মাঠ আবশ্যক দুর্বল ছাত্র ছাত্রীদের গাডিয়ানদের সাথে ম্যানেজিং কমিটির দ্বায়িত্বে থাকা সদস্য বৃন্দদের সরাসরি যোগাযোগ করা জরুরি।

সহ সভাপতি হোসনেয়ারা বেগম বলেন,আমাদের স্কুল ছাত্র ছাত্রীদের যে মাসিক পরিক্ষা হয়, পরিক্ষার শেষে তাদের উৎসাহ দিয়ে তাদের পড়ালেখার মান আর ভালো করা ও আগ্রহী করতে হলে গাডিয়ানদের উপস্থিত রেখে মাসিক লিখত যে পরিক্ষা হয়,তাদের সামনে ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কারের নীতিমালা রাখা প্রয়োজন।

শিক্ষিকা শান্তনা আক্তার বলেন,শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের স্কুলে ড্রেসের ব্যবস্থা করতে হবে এবং পাশাপাশি স্কুলে যেসব ছোট খাটো সমস্যা রয়েছে তা সম্পূর্ণ করা জরুরী।

শিক্ষিকা তিশা আক্তার বলেন,স্কুলে ছাত্র ছাত্রীদের জন্য চিত্র অংকনে যেসব জিনিস পত্র প্রয়োজন তা জরুরী,একই সাথে ছাত্র ছাত্রীদের খেলাধুলা করতে কিছু খেলনা দোলনা আবশ্যক।

শিক্ষিকা হাসিনা আক্তার বলেন,স্কুলে ছাত্র ছাত্রীদের কেমন পড়াশোনা করাচ্ছি সে হিসেবে অভিভাবকদের স্কুল মুখি করানোর পরামর্শ চান স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আবদুল মালেক সোহাগ এর নিকট। তিনি আরও বলেন,অভিভাবকদের খবর দিয়েও স্কুল মুখি করা জায়না।যদিও কিছু শিক্ষার্থীদের অভিভাবক’রা আসে, তাদের ছেলে মেয়েদের বাড়ির কাজের দিকে নজর রাখতে বলা হলেও তারা তেমন একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

শিক্ষিকা আইরিন আক্তার বলেন,ছাত্র ছাত্রীদের আমরা ক্লাস থেকে যা শিখিয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু বাড়ির কাজ পরের দিন পাওয়া যায় না বাড়ি থেকে শিখে না আসার কারণে। তিনি আরও বলেন, আশা করি ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবক’রা যদি একটু মনোযোগ দিয়ে তাদের ছেলে মেয়েদের দিকে খেয়াল রাখেন,তাহলে এই সমস্যা থাকবেনা। স্কুল থেকে ছাত্র ছাত্রীদের কে আমরা শিক্ষক ও শিক্ষিকা গণ যে পড়া ও লেখা বাড়ির কাজ হিসেবে দেওয়া হয়, সেগুলির প্রতি অভিভাবক দের খবর রাখা উচিত। এছাড়াও অভিভাবক ‘রা সচেতন না থাকার কারণে বাড়ি কাজ বাকী রয়ে যায়,আর সেগুলি ফিরে আবার ছাত্র ছাত্রীদের কে ক্লাসে মুখস্থ করাতে হচ্ছে।যার ফলে পরবর্তী পড়া গুলি পড়া আমাদের ডাবল কষ্ট হচ্ছে।

শিক্ষিকা মাসুমা আক্তার বলেন, ছাত্র ছাত্রীদের স্কুল শিক্ষকদের পড়ার পাশাপাশি পাইভেট মাষ্টার দিয়ে পড়ানো জরুরী অভিভাবকদের,কিন্তু অভিভাবক গণ শিক্ষক’রা যা শিখিয়ে দেয় ক্লাস থেকে তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।যার ফলে শিক্ষার্থী ছাত্র ছাত্রীদের বাড়ি কাজ বাকী থাকার মূল কারণ। তিনি আরও বলেন, এর সমাধান একটাই সম্ভব,যদি অভিভাবক গণ তাদের ছেলে মেয়েদের কে স্কুল পাশাপাশি পাইভেট এর ব্যবস্থা রাখে।

শিক্ষিকা আফরোজা আক্তার বলেন,প্রতি বছরে ভালো চিত্র আকঁন ও পিঠা উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজনে বিভিন্ন স্কুল থেকে ছাত্র ছাত্রীদের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান আয়োজন করা যদি হয়, তাহলে স্কুল পরিচিতি আরও বাড়বে এবং প্রতি বছরে ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা দিগুণ হবে বলে জানান।

সহকারী শিক্ষক রবিউল হোসেন বলেন, আমি এই স্কুলে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করি, এই স্কুলে রয়েছে অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশ, পড়ার মান ভালো, মুখরিত পরিবেশ,শিক্ষার্থীদের পড়া স্কুলে ক্লাস থেকে মুখস্থ না করে দেওয়া হচ্ছে ছুটি। পরের দিন আবার শিক্ষার্থীরা না করা বাড়ির কাজ শিখিয়ে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষকদের। এছাড়া আমি আরও অন্যান্য কয়েকটি স্কুল প্রতিষ্ঠানে গিয়েছি, কিন্তু এখানের মত আমি আর কোনো স্কুল প্রতিষ্ঠানে এত ভালো করে শিক্ষক শিক্ষিকা মনোযোগ সহকারে ছাত্র ছাত্রীদের পড়াতে দেখি নাই। তিনি আরও বলেন,কোনো এক সময় স্মার্ট কেয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ হবে লক্ষ্মীপুরে সকল স্কুল প্রতিষ্ঠানের সেরা প্রতিষ্ঠান।

ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আবদুল মালেক সোহাগ বলেন, স্কুলে যে সকল সমস্যা আছে, তা সঠিক সময়ের মধ্যে শিক্ষক শিক্ষিকাদের কে স্কুল ম্যানেজিং কমিটিকে জানাতে হবে, এবং আমরা যারা ম্যানেজিং কমিটির দ্বায়িত্বে আছি, আশা করি আমরা সবাই মিলে আপনাদের ছোট খাটো যে সমস্যা গুলি থাকবে সমাধান করার চেষ্টা আমাদের পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য চলমান থাকবে ইনশাআল্লাহ।

মইনুল হোসেন সুমন বলেন,আমি আপনাদের স্কুল সিলের যে সমস্যা আছে আগামীকাল সমাধান করা হবে,তিনি আরও বলেন,আমরা আপদের সমস্যা সমাধান করতে প্রস্তুত আছি,কিন্তু ছাত্র ছাত্রীদের পড়ার মান ভালো আশা করছি, আপনাদের সকল শিক্ষক ও শিক্ষিতদের কাছে।

ম্যানেজিং কমিটির আলম বলেন, অভিভাবক গণ কে আপনাদের আগ্রহ গতিশীল বাড়াতে হবে, আপনাদের কে তাদের সাথে ভালো সু-সম্পর্ক তৈরি করতে হবে।অভিভাবকদের কে আপনাদের ডাকা প্রয়োজন নেই,আপনারা শুধু তাদের ছেলে মেয়ে কে ভালো আদর স্নেহ সর্বদাই চেষ্টা রাখুন,তাহলেই দেখবেন,তাদের ছেলে মেয়েদের মুখ থেকে আপনাদের ভালো পড়া এবং আদর স্নেহ এর কথা তারাই মুখরিত করে তুলবে।এতে আপনাদের প্রশংসা করবে,অভিভাবক’রা প্রশংসা শোনে আপনাদের কাছে আসবে এবং আপনাদের প্রশংসার কথা বলবে।

রাকিবুল হাসান শেখ বলেন, আপনি আমাকে একটি শিক্ষিত মা দেন, আমি আপনাকে একটা শিক্ষিত জাতি দিবো।তিনি আরও বলেন,যে ঘরে শিক্ষিত মা আছে, সেই ঘরের মায়েরা পারে তাদের অশিক্ষিত সন্তানদের কে শিক্ষিত করতে। মায়ের গর্ভে থেকে শিশু জন্মের পরে প্রথম শিক্ষক হলেন, তার মা বাবা। মা বাবা মিলে তাদের সন্তান কে প্রথম ভাষা শিখা শুরু করে কিভাবে মা বাবাকে ডাকতে হয়, তার পরে পরিবার পরিজনদের কে ডাকা শিখানো তাদের প্রথম উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয় শিক্ষক হলেন,যিনি হাতে কলম ধরা শিখায়,এবং তাদের অনেক কষ্টের বিনিময়ে ত্যাগ শিকার করে একজন ছাত্র ও একজন ছাত্রী কে শিক্ষা দিয়ে থাকে,তিনি হলেন দ্বিতীয় শিক্ষক। একজন শিক্ষক যতক্ষন পর্যন্ত ছাত্র ছাত্রী কে নিজের সন্তান মনে না করতে পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ঐ ছাত্র ছাত্রীদের পড়া শিখা হবে না। রাগ বা জোরে চিৎকার দিয়ে কখনো একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পড়া আদায় করা যায়না,পড়া আদায় করতে হয় মিষ্টি হাঁসি মুখ রেখে ভালোবাসা দিয়ে।

তিনি আরও বলেন, যদি সম্ভব হয় তাহলে মাসিক লিখিত পরিক্ষার পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া দরকার আছে। এতে ছাত্র ছাত্রীদের জ্ঞান অর্জন আরও ভালো হবে। সাথে অভিভাবক গণ আপনাদের প্রতি আন্তরিকতা বাড়িয়ে সন্তুষ্ট হবে এবং ছাত্র ছাত্রীদের সংখ্যা বাড়বে। পাশাপাশি ছাত্র ছাত্রীদের সংখ্যা বাড়াতে হলেই অবশ্য প্রয়োজন,প্রচার প্রচারণার পাশাপাশি স্কুল ভর্তি লিফলেট দেওয়া,সেখানে লেখা থাকতে হবে কি কি বিষয় আপনাদের স্কলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য সু- ব্যবস্থা রয়েছে।

মাসিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার শেষে সমাপ্তি ঘোষণা করেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বৃন্দ।

 

📢 আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর:

👉 বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন