
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ লক্ষ্মীপুরে মজুচৌধুরীর হাট ফেরী লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশ বাল্কহেড শাখা কমিটির সদস্য শ্রমিক জামাল উদ্দিন (৩৫) নামের এক ব্যক্তি বলগেট এর সঙ্গে গামছা পেঁছিয়ে আকষ্মিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বরণ করেন। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না-লিল্লাহে ওয়াইন্না ইলাইহে রাজউন।
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ২টার দিকে মজুচৌধুরীর হাট ফেরী লঞ্চ ঘাটে ফিটু চৌধুরী বালু বাল্কহেড মেশিনের সঙ্গে হঠাৎ গলায় গামছা পেঁছিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার স্বীকার হয়ে এক ছেলে এক মেয়ে ও স্ত্রী রেখে মারা যায়। নিহত জামাল উদ্দিন ছিলেন লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীর হাট লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন বাল্কহেড শাখা কমিটির একজন সদস্য শ্রমিক।
গোপন সুত্রে জানা যায়, বালু বাল্কহেড মেশিনের মালিক পক্ষ থেকে নিহত জামাল উদ্দিন শ্রমিক এর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দুই লক্ষ টাকা দেয়ার প্রস্তাব করিলে বাল্কহেড এর মালিকপক্ষ তা দিতে অনিহা প্রকাশ করে। বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে লেনদেনের সমাধান না হওয়ায় মজুচৌধুরীর হাট পুলিশ ফাঁড়িতে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকতে হয়েছে জামাল উদ্দিনের মরদেহ। একদিন সময় পার হওয়ার শেষ মুহুর্ত্বে দীর্ঘ সময় লাশ আটকিয়ে রাখার পর বিকাল ৫ টার দিকে আড়াই লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিহতের লাশ ভোলা জেলায় চরফ্যাশন ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু জনমনে প্রশ্ন জাগে যেখানে বাল্কহেড মালিকপক্ষ প্রস্তাব দেয়া দুই লক্ষ টাকা দিতে অনিহা প্রকাশ করে। সেখানে দীর্ঘ সময় আটকিয়ে রেখে কিভাবে আড়াই লক্ষ টাকার বিনিময়ে লাশ ছাড়া হয়। এখানে কাকে কিভাবে ম্যানেজ করা হয়েছে। কে কত টাকা খাইছে। লাশের পরিবার কি পুরো আড়াই লক্ষ টাকা পেয়েছে? নাকি বিভিন্ন জায়গায় বন্টন হয়েছে। এমন নানান প্রশ্ন জাগতে শুরু করে জনসাধারণের মনে।
এদিকে মজুচৌধুরীর হাট পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক লক্ষ্মীপুরের কথা কে জানান, লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীর হাটে বালু বাল্কহেড এর মেশিনের সাথে দুর্ঘটনার স্বীকার হয়ে এক লোক মারা যায়। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে আমিও আমার টিম নিয়ে যায় এবং ঘটনার সত্যতা পায়। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, নিহত জামাল উদ্দিন মজুচৌধুরীর হাট লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন বাস্কহেড শাখা কমিটির একজন সদস্য শ্রমিক। ফেরী লঞ্চ ঘাটে ফিটু চৌধুরী নামের এক ব্যাক্তির বালু বাল্কহেড মেশিনে জামাল উদ্দিন শ্রমিক সদস্য সহ তারা ৫ জন মিলে ঐ বাল্কহেড মেশিনে কাজ করিতেন। হঠাৎ নিহত জামাল উদ্দিন শ্রমিকের গলায় গামছা পেঁছিয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। তার শরীরের এক অংশ পিছলে থেঁতলে যায়, বাকী অংশ উপস্থিত থাকা সকলের সহযোগিতা ডেড বডি উদ্ধার করে ফাঁড়ি থানায় নিয়ে আশা হয়েছে। এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করিলে স্থানীয় প্রতিবেশী ও লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন মজুচৌধুরীর হাট শাখার কমিটির সভাপতি, সেক্রেটারি ও নিহত পরিবারের স্বজনদের অনুরোধে ময়নাতদন্ত করা হয়নি। কিন্তু প্রাথমিক ভাবে নিহত জামাল শ্রমিকের মরদেহ চিহ্নিত করে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরন করা হয়। যেহেতু নিহত পরিবারের স্বজনদের কোনো অভিযোগ নেই। জেলা প্রশাসক মহোদয় অনুমতি দিলে নিহত জামাল উদ্দিন এর মরদেহ তার পরিবারের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে মজুচৌধুরীর হাট লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন বাস্কহেড শাখা কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারির মধ্যে চলছে নীরবে লাশ ধরে রাখার বানিজ্য। গত এক মাস হয়েছে নতুন করে লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন বাস্কহেড শ্রমিক শাখার কমিটির গঠন করে সভাপতি ও সেক্রেটারি ঘোষণা দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় কমিটির মাধ্যমে। এর পর হইতে দফায় দফা গোপন সুত্রে কয়েকটি দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া গেছে সভাপতি ও সেক্রেটারি বিরুদ্ধে। শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি, লঞ্চ ঘাটে অতিরিক্ত লেবার সার্ভিস সার্জ, শ্রমিকের লাশ দীর্ঘ সময় ধরে রেখে মোটা অংকের টাকা জরিমানা দাবি করা সহ আরও বহু রকমের শত শত অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে সভাপতি ও সেক্রেটারির বিরুদ্ধে।
