
মাকছুদুর রহমান
রামগতি-কমলনগর প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সকল সদস্যকে জিম্মি করে হাত-মুখ বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে ওই পরিবারের মোবারক হোসেন শুভ নামের এক কলেজ শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হবে এমনটা হুমকি দিয়ে ঘর থেকে তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা। এসময় পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে শিক্ষার্থীকে বাড়ির অদুরে রাস্তার পাশে ঝোপের মধ্যে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। পরে হাত ও মুখ বাঁধা অবস্থায় শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।এ ঘটনায় ওই পরিবারের সবাই আতংকিত হয়ে পড়ে।
রোববার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাত তিনটার দিকে
উপজেলার চর লরেন্স ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার আলী হায়দার মেম্বার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোবারক হোসেন শুভ (২১) ওই বাড়ির সেলিমের ছেলে ও উপজেলার উপকূল সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শুভ’র মা সুফারা বেগম জানান, রোববার রাত আনুমানিক তিনটার দিকে তিনি ও তার এক মেয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিচ্ছিলেন। এ সুযোগে ঘরের দরজা খোলা পেয়ে অজ্ঞাত কয়েকজন অস্ত্রধারী যুবক ঘরে ঢুকে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার অসুস্থ স্বামী, এক মেয়ে ও দুই ছেলের গলায় অস্ত্র (রামদা) ঠেকিয়ে ওড়না ও রশি দিয়ে মুখ ও হাত বেঁধে পেলে অজ্ঞাত পাঁচ যুবক। এসময় রামধার উলটো পিঠ দিয়ে সকলকে বেধড়ক মারধর করে অস্ত্রধারীরা। ঘরে স্বর্ণালংকার, টাকা ও অন্যান্য মালামাল কিছু না নিয়ে সকলকে মারধর করার একপর্যায়ে ছেলে শুভর হাত ও মুখ বেধে তাকে ঘর থেকে তুলে নেয় ওই পাঁচ যুবক । ছেলেকে বাঁচাতে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে পিছনে হাত ও মুখ বাঁধা অবস্থায় বাড়ির দরজার ঝোপের ভেতর থেকে শুভকে উদ্ধার করে লোকজন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন,পুকুরের পানি সেচ করা নিয়ে পূর্বের ঘটে যাওয়া তুচ্ছ বিষয়ের প্রতিশোধ নিতে দেবর জসিম উদ্দিন সন্ত্রাসী ভাড়া করে তার ছেলে শুভকে তুলে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে এমনটা করেছেন। এছাড়া এলাকার কারো সাথে তাদের কোনো বিরোধ নেই বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগী মোবারক হোসেন শুভ বলেন, অস্ত্রধারী পাঁচ যুবক আমার মুখ ও হাত বেঁধে রেখে চোখের সামনে বাবা,মা বোন ও ভাইকে মারতেছিল। একজন আমার গলায় ধারালো রামদা ধরে রেখেছে। আমার বাবা চার বছর ধরে স্ট্রোকজনিত রোগে ভুগছেন। কথাও বলতে পারেননা। তাছাড়া একটি হাত ভাঙা এবং প্লাস্টার করা। এ অবস্থায় আমার বাবাকে ওরা চরমভাবে মেরেছে। আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বার বার দোয়া কলেমা পড়ে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছিল। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমাকে নিয়ে যাওয়ার সময় মা,ভাই,বোন চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে আমাকে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে দৌড়ে চলে যায় অস্ত্রধারী পাঁচ যুবক। মুখে কালো কাপর থাকায় কাউকেই চিনতে পারিনি বলে জানায় শুভ।
স্থানীয় ষাটোর্ধ বয়সী হালিম মিয়া বলেন, হৈচৈ চিৎকার শুনে প্রতিবেশী মুসলিম বেপারী ঘর থেকে বেড় হয়ে টর্চ লাইটের আলো মারলে দুর্বৃত্তরা শুভকে ফেলে রেখে দৌড়ে চলে যায়।
মুসলিম বেপারী বলেন, শুভকে নিয়ে যায় এমন চিৎকার শুনে আমি টর্চ লাইট নিয়ে বের হই। এসময় আশ পাশের অনেক লোকজনও জড়ো হয়। পরে এগিয়ে গিয়ে দেখি পিছনে হাত ও মুখে বাঁধা অবস্থায় শুভ রাস্তার পাশে পড়ে আছে। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন বলেন, তাদের সাথে আলোচনা করেই পুকুরটি সেচ করা হয়েছে। ভাতিজার সাথে সামান্য তর্কবিতর্ক হয়েছে ঠিক তবে সামান্য বিষয়ে ভাতিজাকে হত্যা করতে আমি লোক ভাড়া করবো আমি এমন মানসিকতার লোক নই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে অপপ্রচার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এবিষয়ে এখনো কেউ কিছু জানায়নি। তবে ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক বেবস্থা নেওয়া হবে।
