গভীর রাতে মেজো ভাইয়ের বাড়িতে ছোট ভাইয়ের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

লেখক: Admin
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

পর্ব ১

গভীর রাতে নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা চালিয়ে পাকা দেয়াল ও টিন ভাঙচুর ও বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত হামলা কারী আপন নিজ ছোট ভাই আজিজ উল্যা চৌধুরী লাতু সহ ২ ভাইয়ের ছেলেদের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মহি উদ্দিন চৌধুরী। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় ভুক্তভোগী মহি উদ্দিন নামের এক বৃদ্ধের ওয়ারিশ কর্তৃক মালিকানা সম্পত্তির জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে তার আপন নিজ ভাই ও ভাতিজারা। এ ঘটনা কে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী মহি উদ্দিন চৌধুরী দৈনিক লক্ষ্মীপুরের কথা ও লক্ষ্মীপুর আর এফ টিভি কার্যালয়ের যোগাযোগ নম্বরে কল করে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙচুর ও আহত এবং ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ হামলা কারীদের বিরুদ্ধে সংবাদের মাধ্যমে তুলে ধরতে চায় বলে জানান। পরে ভুক্তভোগির অনুরোধে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ভুক্তভোগীর দেওয়া অভিযোগ ঘটনা সত্য।এ ঘটনাটি ঘটে লক্ষ্মীপুর সদর থানার আওতাধীন ২ নং দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের নন্দনপুর এলাকার মৃধা বাড়িতে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাই আজিজ উল্যা লাতুর নেতৃত্বে তার ২ ছেলে অন্তর ও পলাশ এবং মৃত বড় ভাই মরহুম মহসিন এর ছেলে সামছুল আরেফিন ফেরদৌস মিলে ভুক্তভোগী মহি উদ্দিন চৌধুরী ও স্ত্রী এবং পরিবারের সদস্যদের উপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মহি উদ্দিন চৌধুরী। এ ঘটনায় তিনি ছোট আজিজ উল্যা চৌধুরী লাতু সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর থানার আওতায়ধীন নন্দনপুর মৌজার আরএস নামজারি খতিয়ান-১৪৭৯৮-এর আরএস ১৩১৭খতিয়ান ভুক্ত ২৪৯৩ দাগ ১৬টি দাগে ১ একর ৭১ শতাংশ জমির মধ্যে ৩৩ শতাংশ জমি ২০২৫ সালে নামজারি করেন ভুক্তভোগী মহি উদ্দিন চৌধুরী। এরপর থেকে মহি উদ্দিন ওই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন।

মহি উদ্দিন এর অভিযোগ, জমিটি নিয়ে আসামিদের সঙ্গে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে আমার আপন ছোট ভাই আজিজ উল্যা চৌধুরীর নেতৃত্বে তার ছেলে অন্তর ও পলাশ এবং বড় ভাই মৃত মরহুম মহসিনের ছেলে সামছুল আরেফিন ফেরদৌস এবং অন্তরের বন্ধু সহ তারা ৫ জন লোহার রড,শাবল, কুড়াল ও হাতুড়ি নিয়ে বাড়ির টিন দেওয়া বাউন্ডারি কুপিয়ে প্রবেশ করেন। পরে নির্মাণাধীন বাড়ির চারপাশের পাকা দেয়াল ভাঙচুর এবং চতুর দিকে বাউন্ডারি দেওয়া টিন কুপিয়ে ভাংচুর করে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ৫০হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে যাহা মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

ভুক্তভোগী মহি উদ্দিন চৌধুরী এর স্ত্রী জাহানারা বেগম বলেন,আমার শ্বশুর মৃত মরহুম আশ্বাদ উল্যা চৌধুরী পুত্র আমার স্বামী মহি উদ্দিন চৌধুরী ওয়ারিশ গণ হিসেবে পৈতৃক সম্পত্তির মালিকানার মধ্যে বসতবাড়ি ঘর নির্মাণ কাজ করেছে আমরা সেই ঘরে ছিলাম, হঠাৎ রাত সাড়ে ৩ ঘটিকার সময় ২০ থেকে ২৫ জন দলবদ্ধভাবে এসে কোন কথা ছাড়া আমাদের বাউন্ডারি ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে আমার স্বামী ও আমাকে এবং আমার মেয়ে কে নিয়ে টানা হিসরা করে গায়ের জামা কাপড় ছিড়ে ফেলে এবং তাদের হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এতে করে আমার মেয়ে হাতে তিনটি আঙ্গুল কেটে যায় এবং আমার পায়ে ও রানে আঘাত পাই । আমার স্বামী নিরুপায় হয়ে ট্রিপল নাইন নাম্বারে কল করিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ভাঙচুরের ঘটনা দেখতে পান এবং হামলাকারীরা পুলিশ আসার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।পরে এলাকার স্থানীয়রা আমাদের শো-র চিৎকার শুনে ঘটনারস্থল এসে আমাদেরকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান।পরে হাসপাতাল জরুরি বিভাগে গেলে, কর্মরত চিকিৎসক আমাদের তিনজনকে চিকিৎসা দেন।জাহানারা বেগম যাহার রেজিষ্ট্রেশন নং- ৭৯৯২/৩ মেয়ে ফারজানা আক্তার ৭৯৯১/২ স্বামী মহি উদ্দিন চৌধুরী ৭৯৯৩/৪ তারিখ ২০/০৯/২০২৬ইং রোজ রবিবার।

মেয়ে ফারজানা আক্তার বলেন,আমার বিয়ের পর থেকে আমার শ্বশুরবাড়ির স্বজনদেরকে একটা দিনও দাওয়াত দিয়ে খাওয়াতে পারিনি, সেই পরিস্থিতি আমাদের চাচারা ও চাচাতো ভাইরা রাখেনি। আমার দাদা মৃত মহরম আশ্বাদ উল্লা চৌধুরী যদি জেঠা ও চাচাদের কে জন্ম দিয়ে থাকেন,তাহলে আমার বাবা উড়ে আসেনি,আমার দাদার দ্বিতীয় সন্তান হিসেবে আমার বাবা বৃদ্ধ মহি উদ্দিন চৌধুরী দাদার মালিকানার প্রত্যেক জায়গায় ওয়ারিশ হিসেবে মালিক। কিন্তু সেই হিসাবে আমার চাচারা আমার বাবার অংশীদার ওয়ারিশ কর্তৃক সম্পত্তি বাড়ি হইতে সকল জায়গায় তারা জবরদখল করে রেখেছে। আমরা ভাড়া বাসাতে আর কত বছর থাকবো,আমাদের যুগ পার করেছি। বর্তমানে আমাদের ছেলে মেয়েরা বড় হচ্ছে, এরা বড় হলে নানার বাড়ি খুঁজবে, আমি কি জবাব দেব। আমরা প্রশাসনের কাছে উপযুক্ত বিচার চাই। তিনি আরো বলেন, আমাদের মামলার এজাহার সূত্রে ১ নং আসামি আমার চাচাতো ভাই অন্তর হোসেন (২৪) কৌশল খাটিয়ে আমার ১ভরি ৪ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন গলা থেকে নিয়ে গেছে। যাহার বর্তমান বাজার মূল্য ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় আমার চাচা আজিজ উল্যা চৌধুরী( লাতু), তার ২ ছেলে অন্তর ও পলাশ এবং মৃত বড় জেঠার ছেলে সামছুল আরেফিন ফেরদৌস, চাচাতো ভাই অন্তর এর বন্ধু তামিম ও অজ্ঞাতনামা কয়েক জনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী মহি উদ্দিন চৌধুরী পুত্র জহিরুল ইসলাম রাজু সাংবাদিকদের বলেন,আমি ঢাকায় ছোটখাটো একটি চাকরি করি। বাবা- মা ও ছোট বোনকে আমার চাচা এবং চাচাতো ভাইরা দলবদ্ধ হয়ে আক্রমণ করে আমাদের ঘর ভাঙচুর করেছে এবং আমার মা বোন বাবাকে মেরে রক্তাক্ত করে জখম করেছে। সংবাদ পেয়ে আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে দেখি বাড়ি ঘর আর নেই। ছোট চাচাকে জিজ্ঞেস করতে গেলে চাচা তেলে বেগুনে আগুন,আমাকে হত্যা করবে, আমার লাশ গুম করবে,আমাদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দিবে বলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন,আমরা এখন নিরাপত্তা-হীনতা অবস্থায় ভুগছি।আমাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। দাদা মারা যাওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন যাবত ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে আমাদের। আমাদের চাচারা আমাদেরকে বাড়িতে জায়গা দিচ্ছে না এবং কি আমাদের বাবার ওয়ারিশি সম্পত্তির মধ্যে ঘর করতে দিচ্ছে না। ছোট চাচা কথায় কথায় আমাদের সাথে টিক্কারি মারে। তার এনন আচরনের কতটুকু গ্রহণ যোগ্যতা আছে তা আমার জানা নেই। অথচ আমার বাবা টাকা দিয়ে পড়াশোনা করিয়েছে,কাজ শিখিয়েছে, বিদেশে পাঠিয়েছে, আজ আমার বাবাকে চিনেন-না তারা। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাচ্ছি,আইনের মাধ্যমে আমরা যেন সুবিচার পাই।

ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী বলেন,আমার ছোট চাচা শ্বশুর ও আমার চাচাতো দেবররা এভাবে আমার বৃদ্ধ শশুরকে একা ঘরের ভিতরে মারধর করা এটা ঠিক হয়নি। সন্ত্রাসী কায়দা করে হত্যার উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাদের হামলার মূল উদ্দেশ্য তাহলে আমার শশুর না থাকলে তারা এই জমি জবর দখল করে খেতে পারবে এবং পরিকল্পনা সফল হবে। তবে ভুক্তভোগী মহি উদ্দিনের অভিযোগ সূত্রে আপন নিজ ছোট ভাই অভিযুক্ত কারী আজিজ উল্লাহ চৌধুরী লাতু ও তার ছেলে অন্তর সহ সকলের নিকট গিয়ে সকলের উপস্থিতিতে বক্তব্য চাইলে তারা সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে আসতে অনীহা প্রকাশ করে সংবাদ প্রকাশ না করতে সাংবাদিক কে নিষেধ করে বলেন, এটা আমাদের পারিবারিক ব্যাপার, এখানে সংবাদ করার কিছু নেই। আপনার মত আমাদের হাজার হাজার সাংবাদিক আছে। আপনি সংবাদ করলে আপনাকে দেখে নিব বলে প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করেন সাংবাদিককে অভিযুক্তকারী আজিজ উল্যা চৌধুরী লাতু।

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। আসামীদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী মহি উদ্দিন চৌধুরী এজাহার ভুক্ত মামলা দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আসামীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

📢 আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর:

👉 বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন