
কমলনগর উপজেলা প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে রেশন কার্ডের নামে মোটা অংকের টাকা নেয়ার অভিযোগ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে।
সূত্রে জানা যায়, কমলনগর উপজেলা হতদরিদ্র, বিধবা, স্বামীহারা, সহায়সম্বল হারা (নদীভাঙ্গা) পরিবার অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। কিন্তু বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রশাসক, প্যানেল চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা অধিকাংশ নাম দেয় তাদের স্বজন টাকায় পরিচিতজনদের। এতে বঞ্চিত প্রকৃতরা। এর নেপথ্যে রয়েছেন উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মো. মাহবুবুর রহমান। এখানেই শেষ নয় তিনিও জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকের মাধ্যমে টাকার বিনিয়ম নাম অন্তুর্ভুক্ত করেন। এছাড়া জনপ্রতিনিধির স্ত্রীর নামও রয়েছে তালিকায়। প্রতিটি নামের বিপরীতে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট পরিষদের দায়িত্বশীলদের যোগসাজশে দ্রুত তালিকাভুক্ত করে কার্ড নিশ্চিত করেন।
সূত্রে আরও জানান, কমলনগর উপজেলায় মোট ৮০০ কার্ড নতুন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রতিটি কার্ডের ৩ থেকে ৫ হাজার করে মোট ৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা।
সাহেবেরহাট ইউনিয়নের কালাম মাঝি, নুরনবী , তোফায়েল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাহেবেরহাট ইউনিয়নে মোট ৮০টি কার্ডের মধ্যে ( তৎকালীন) প্রশাসক উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা শাকিল নিজের নামেই ৩০টি কার্ড রেখে বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকায় বিক্রি করেছেন। এর সিংহভাগ টাকা দিয়েছেন খাদ্য কর্মকর্তাকে। একই ভাবে চরকাদিরা ইউনিয়নে ১৯৯টি নামের মধ্যে ইউপি সদস্যের স্ত্রীর নাম রয়েছে। খাদ্য কর্মকর্তাকে টাকা দেয়ায় সবকিছুই জায়েজ হয়েছে। এভাবে সরকারী নিয়ম ভঙ্গ করে প্রতিটি ইউনিয়নে মেম্বার ও কর্মকর্তাদের স্বজনরাই তালিকা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
যদিও ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি চেয়ারম্যন/ প্রশাসক ও সদস্য সচিব হলেন পরিষদের সচিবগণ।
স্থানীয়দের দাবি নতুন এই রেশন কার্ডের নাম পুনঃরায় যাচাই বাছাই করে প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষ দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে (তৎকালীন) সাহেবেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক মোঃ শাকিল বলেন, রেশন কার্ডের নাম আমরা জনপ্রতিনিধিসহ কমিটির মাধ্যমে যাচাই বাচাই করে তালিকা দেয়া হয়েছে। টাকা লেনদেনের বিষয়টি সঠিক নহে।
উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, রেশন কার্ডের নামে আমার কোন হাত নেই। ইউনিয়ন কমিটি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যেভাবে দিয়েছেন আমি সেভাবে কাজ করেছি। টাকা পয়সা নেয়ার বিষয়ে অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
