
নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ২০ নং চর রমনী মোহন ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও গ্রাম আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য নয়ন মেম্বারের বিরুদ্ধে শালিশ বাণিজ্য,ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইন এবং জেলেদের চাউল চুরি ও সাংবাদিকদের উপর হামলা ও হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা বলেন,পুলিশ প্রশাসন ও লক্ষীপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা করিলে সম্ভব,একটু গভীর ও গোপনে খোঁজ নিলে মিলবে শত শত কৃষক, শ্রমিক, দ্বীন মজুর, যান বাহন চালক,ছোট খাট ব্যবসায়ী, নদীর নৌ পথে লঞ্চঘাট ও ফেরী ঘাট এবং জেলেদের কার্ড নামের চাঁদা বানিজ্য সহ আরও অন্যান্য অনিয়ম রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকাণ্ডের মূল গডফাদার মুল নায়ক বিএনপির মহিলা দলের নেত্রী সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পদবীর পরিচয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করে শালিশ বানিজ্য ও ক্ষমতার পালাবদল অপব্যবহার করছে সাধারণ মানুষের সাথে।
এই নয়ন মেম্বারের পূর্বের পরিচয়ে তার কোনো জন্ম ভূমির ঠিকানা পাওয়া যায়নি।নয়ন মেম্বারের জন্ম দাতা মরহুম পিতার জন্ম ভূমির মিলেনি ঠিকানা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি জন্ম থেকে ভোলা বরিশাল ও লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন জায়গায় বেড়ীবাঁধে অস্থায়ী হিসেবে ছোট্র একটি ঘরে তাদের বসবাস ছিলো।নয়ন মেম্বার তার বুঝ জ্ঞান হওয়ার পরে হইতে লক্ষ্মীপুর জেলা সহ কয়েকটি জেলায় রূপচর্চা নামে বিউটি পালার দিয়ে তিনি রূপচর্চা নামের পালারে ছিলেন।
আর এসব দেখে তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যায়। এরপর থেকে তিনি রাজনীতি পেশায় যোগদান করেন, রাজনীতি পেশায় ভালো অবস্থান দেখে রূপচর্চা পার্লার ছেড়ে দেন।
৯ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য হিসেবে প্রার্থী হয়ে তিনি নির্বাচিত হন। মহিলা মেম্বার হওয়ার পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা কালীন সময়ে মামলা হয়। তিনি দীর্ঘদিন থেকে ঢাকায় পলাতক থাকেন।
পরে সেখানেও আরো একটি বিয়ে করেন। ৫ই আগস্টের পর সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে তিনি আবার লক্ষ্মীপুর জেলায় ফিরেন।
লক্ষ্মীপুরে ফিরে বিএনপির সাংগঠনিক মহিলা সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়ে এইসব অপকর্মের কান্ড প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের উপর।তার বর্তমান স্বামীকে সঙ্গে রেখে সাবেক (এমপি) লক্ষীপুর রায়পুরে ২ আসন সংসদ সদস্য বর্তমান এমপি প্রার্থী আবুল খায়ের ভূঁইয়ার ধানের শীষ মার্কা প্রতীক নিয়ে ২০নং চররমনী মোহন ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রচার প্রচারণায় হাতে লিফলেট নিয়ে ভোটারদের কাছে যাইতে দেখা যায় ফেইসবুক পেইজ পোস্টে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৪ নং চর রুহিতা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড বাসিন্দা মো. সোলেমানকে ইউনিয়ন পরিষদের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে হত্যার হুমকি এবং মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখান নয়ন মেম্বার। ভুক্তভোগীর বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা নয়ন মেম্বারের কাছে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
এ সময় নয়ন মেম্বার তার অনুসারী সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সাংবাদিকদের উপর অতর্কিত হামলা ও হেনস্তা করেন। হামলার ঘটনায় সাংবাদিকদের ক্যামেরা, মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনার পর লক্ষ্মীপুরের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বিভিন্ন মহলের দাবি, নয়ন মেম্বার দীর্ঘদিন ধরে চর রমনী মোহন ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের বিচার প্রক্রিয়াকে পুঁজি করে শালিশ বাণিজ্যে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার সহজ-সরল ও অর্ধ-সচেতন মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিচার নামে অর্থ আদায় করেন তিনি।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অবৈধ বালু উত্তোলন ও লঞ্চ ঘাটে ইজারাদার রাজু চাঁদা না দেওয়ায় পরিকল্পিত ভাবে মহিলা যাত্রীর পক্ষ হয়ে লঞ্চ ঘাটে হামলা করেন এবং ঘাটের ইজারাদারের কর্মীচারীদের উপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ঘাট দখলের চেষ্টা অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া নয়ন মেম্বারের বিরুদ্ধে আরও রয়েছে জমি দখল, গরু, হাঁস-মুরগি ও ছাগল ছিনতাই, মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে এর আগেও বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও মাল্টিমিডিয়া সংবাদ মাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও নেই তার কোনো প্রকার।
এইসব বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে ২০নং চররমনী মোহন ইউনিয়ন বাসী ও লক্ষ্মীপুর জেলা বাসীরা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের ও লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ প্রশাসন কে দায়ী করেছেন ইউনিয়ন বাসীরা।
স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, নয়ন মেম্বার বিএনপির রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এসব অনৈতিক ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীরা এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি বরাবর লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে জানিয়েছেন।
