দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নে বিএনপির নেতার জমি দখলের চেষ্টা

লেখক: Admin
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

মোঃ দুর্জয় হোসেন চাঁন মিয়া

 

প্রতিনিধি রায়পুর: রায়পুর উপজেলার, দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরলক্ষী মৌজায় বাড়ির জমি ও পুকুরের জমি দখলে বাধা দেওয়ায় হুমকি ও মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। লক্ষ্মীপুর জেলার, চরলক্ষী গ্রামের, ০৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ সহিদ মোল্লা বলেন, আমি মরহুম জিয়াউর রহমানের আদর্শ সৈনিক। তৎকালীন জিয়াউর রহমানের আমল থেকে বিএনপি করি। আমি দলের জন্য সবসময় আপোষহীন সংগ্রাম করেছি। আমি উপজেলা বিএনপির সদস্য ছিলাম। দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপির ভরাডুবি সময়কালে ০৫নং ওয়ার্ড বিএনপির দায়িত্ব পালন করেছি। আমার অপরাধ কি? আমার ৬.০০ (ছয় একর) জমি বিক্রি করে দলের দুর্বিষহ সময়ে কর্মীদের পেছনে খরচ করেছি। আমার অপরাধ আমি কখনো আওয়ামিলীগের সাথে লিয়াজু করেনি। তাই দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের সাবেক সৈরাচার আওয়ামিলীগের সভাপতি ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ মোল্লা ও তার ছেলে সৈরাচার আওয়ামীলিগের ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ মনির হোসেন মোল্লা তাদের সন্ত্রাসী দলবল নিয়ে দলবদ্ধ ভাবে আমার উপর, আমার পরিবারের সদস্যদের উপর ও আমার বাড়িতে আক্রমণ করতো।

মামলা হামলা দিয়ে জর্জরিত করতো। সবসময় ক্ষমতার অপব্যবহার করতো ও আধিপত্য বিস্তার করে রাখতো। কাউকে মানুষ মনে করতো না। মানুষকে মানুষ বলে মূল্যায়ন করতো না। ইউনিয়নের অনেক বিধবা মহিলাদের নথির জমি আত্মসাৎ করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ মোল্লা যে বাড়িতে আছেন সেই জমিও তার নিজের নয়। উক্ত জমি সাবের চরের বেপারী বাড়ির এক বাসিন্দার। উক্ত জমির ওয়ারিশগণ এসে জমির কাগজ পত্র দেখাতে বললে তা দেখাতে পারে নাই এবং দেখাবে বলে গড়িমসি করে কাল ক্ষেপণ করে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের ০৫ই আগষ্ট সৈরাচার সরকার পতনের পরও আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ মোল্লা ও মোঃ মনির হোসেন মোল্লা তার সন্ত্রাস বাহিনী নিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছেন। তারা সন্ত্রাস বাহিনী দিয়ে আমাকে ভিটা শূন্য করার চক্রান্ত করে যাচ্ছন। আমার বাড়িতে আমি থাকি, আমার পুকুরে আমি মাছ চাষ করি। অপরদিকে আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ মোল্লা ও মোঃ মনির হোসেন মোল্লা তাদের পুকুর রায়পুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ ফারুক হোসেন সর্দার(৪৯), পিতা- মৃত আব্দুল মোতালেব, সাং- দেনায়েতপুর, সর্দার বাড়ি, পৌর ০৭নং ওয়ার্ড, রায়পুর পৌরসভা, থানা- রায়পুর, জেলা- লক্ষ্মীপুরের নিকট ইজারা দেন।

আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ মোল্লা ও মোঃ মনির হোসেন মোল্লার পুকুরের দাগ নম্বরের সাথে মোঃ সহিদ মোল্লার পুকুরের জমির দাগ নম্বরের কোন মিল নেই। যার প্রমাণ দলিল স্বরুপ এবং মোঃ ফারুক হোসেনর করা মামলার দাগ নম্বর। মোঃ ফারুক হোসেনের করা মামলার মধ্যে/স্ট্যাম্পর মধ্যে যেই পুকুরের দাগ নম্বর দেওয়া আছে সেই জমি আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ মোল্লা ও মোঃ মনির হোসেন মোল্লার নিকট আছে। ভুক্তভোগী মোঃ সহিদ মোল্লা আরো বলেন উক্ত জমিকে কেন্দ্র করে মোঃ ফারুক হোসেন সর্দার কে বাদী করে বার বার আমার নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার বিষয়ে কিছু জিজ্ঞেস করলে উল্লেখিত সন্ত্রাস বাহিনীঃ ১।আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ মোল্লা,পিতা- মৃত বাহার আলী মোল্লা, ২। মোঃ মনির হোসেন মোল্লা, পিতা- আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ মোল্লা , সাং- চরলক্ষী, মোঃ ফারুক হোসেন সর্দার(৪৯), পিতা- মৃত আব্দুল মোতালেব, সাং- দেনায়েতপুর, সর্দার বাড়ি, পৌর ০৭নং ওয়ার্ড, রায়পুর পৌরসভা, থানা- রায়পুর, জেলা- লক্ষ্মীপুর, ৩। মোঃ শরীফ হোসেন, পিতা- মোঃ ফখরুদ্দিন, ৪। মোঃ সিরাজ মিয়া, পিতা- মোঃ কালু হাওলাদার, ৫। মোঃ রফিক হোসেন, পিতা- মোঃ জনা বেপারী, ৬। মোঃ নুর নবী, পিতা- মোঃ মকবুল বেপারী, ৭। মোঃ আলী হোসেন মাল, পিতা- মোঃ ওহাব মাল, ৮। মোসাঃ জোৎস্ন্যা বেগম, স্বামী- মোঃ ওলি পাইক, ৯। মোঃ কাজ মোহাম্মদ মালতী, পিতা-মৃত আব্দুর রহমান মালত, ১০। মোসাঃ সেলিনা বেগম, স্বামী- মোঃ আলী হোসেন মাল, ১১।মোসাঃ লিলুফা বেগম, পিতা- মৃত নিয়ন বেপারী, সর্বসাং- চরলক্ষী, দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন, সর্বথানা- রায়পুর, জেলা- লক্ষ্মীপুরগণ জোর পূর্বক আমার বাড়ি ও পুকুর দখলের চেষ্টা করে। বাড়ি ও পুকুর দখলের চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ মোল্লা ও মোঃ মনির হোসেন মোল্লার সন্ত্রাস বাহিনী আমার বাড়িতে এসে ভাংচুর করে। চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে আমার ঘরের বিভন্ন জায়গা কেঁটে ফেলেছে। তাছাড়াও আমাকে বেধড়ক মারধর করবেন বলে প্রকাশ্যে প্রাণ-নাশের হুমকি ধমকি প্রদান করেন এবং তারাই ভুক্তভোগীর নামে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন।

তফসিলভূক্ত সম্পত্তির বিবরণঃ তফসিল ভূক্ত সম্পত্তি জেলা-লক্ষ্মীপুর, উপজেলা- যার দলিল নম্বর- ২৯৭২, রায়পুর এর ৪৭নং চরলক্ষী মৌজার, ১৬৫৮নং তৌজির, সাবেক ৭০৭ নং খতিয়ান, দিয়ারা ৬৯৩ নং খতিয়ান ভূক্ত, দাগ নং- ৩২৮৮ দাগের বাটা ৫, আরএস খতিয়ান নং-১৮০৭, আরএস দাগ- ৪৯৫৪। উক্ত দাগের আন্দরে ১.৬৩ (এক একর তেষট্টি) শতাংশ জমির মালিক হই।স্থানীয়রা জানান দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের, ০৫নং ওয়ার্ডর স্থায়ী বাসিন্দা মোঃ সহিদ মোল্লা বন্দোবস্তীয় নথি মূলে এই জমির মালিক।

হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সাইফুর রহমান, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞ আদালতের আদেশ মোতাবেক, সরজমিনে তদন্তকালে আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ মোল্লার ছেলে মোঃ দিদারুল ইসলাম(ইউপি সদস্য, ০৪নং ওয়ার্ড) এর নিকট ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন মোঃ সহিদ মোল্লা তার নিজের পুকুরে নিজে মাছ চাষ করেছে এবং নিজের পুকুরের মাছ নিজেই ধরেছে। কারো পুকুরে তিনি মাছ ধরেন নাই। তাকে কুচক্রী মহল বার বার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে। এছাড়াও আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ মোল্লার আপন বোন মোসাঃ আবেদা বেগম ও ভগ্নিপতিকে ঘটনার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে জানা যায় মোঃ সহিদ মোল্লা কারো পুকুরের মাছ ধরেন নাই। অন্যের পুকুরে মাছ ধরার অভিযোগ টি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট।

মোঃ সহিদ মোল্লার জমি সংক্রান্ত বিষয়ে এলাকাবাসীর নিকট জানতে চাইলে তারা বলেন মোঃ সহিদ মোল্লার নামে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়েরকারী মোঃ ফারুক হোসেন, আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ মোল্লার অনুসারী। তারা এক শ্রেণির দাঙ্গা-হাঙ্গামাকারী, লাঠিয়াল, ভূমি দস্যু ও অপরাজনীতিবীদ ও স্বৈরাচার। তারা দীর্ঘ দিন ধরে মোঃ সহিদ মোল্লা কে জমি থেকে উৎখাতের লক্ষ্যে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে জানতে মোঃ ফারুক হোসেনের মোবাইল ফোনে কল করে না পাওয়ার কারণে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী মোঃ সহিদ মোল্লা আরো জানান যে, তার জমির কাগজ পত্রে কোন সমস্যা নেই। তার পক্ষে কোর্টের রায় ও আছে। রায়ের তারিখঃ ২৮/০৩/১৯৯০ ইং। তারপরও তারা আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ মোল্লা, মোঃ ফারুক হোসেন সর্দার কে দিয়ে বার বার মামলা করে হয়রানি করে যাচ্ছে। তারা মামলা করার পরে কোর্টে দলিলপত্র পেশ করতে বললে অপারগতা প্রকাশ করেন। তাই সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচার পেতে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা সহ বিজ্ঞ আদালতের নিকট অনুরোধ জানিয়েছেন।

📢 আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর:

👉 বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন