লক্ষ্মীপুর জেলা সহ আরো কয়েকটি জেলায় গতকাল থেকে টানা বৃষ্টি শুরু হওয়ার কারণে জনজীবন দুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ কর্মজীবী অসহায় হতদরিদ্র। বুধবার ভোর রাত থেকে হালকা মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত শুরু হয়। পরে বুধবার সকাল ১০টার দিকে কিছুটা হলেও বৃষ্টি কমিয়ে আসে। ঝিম ঝিম হালকা বৃষ্টি হওয়ার মাঝামাঝি কিছু সময় বৃষ্টি বন্ধ হয়ে চমকা রৌদ্রের আলো দেখা যায়। তিন ঘন্টা পরে আবার দুপুর থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। দুই মিনিট পর পরেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে, এভাবেই বুধবারে সারাদিন যায় রাত ও পরের দিন বৃহস্পতিবার টানা থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। এতে করে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষক ও সাধারণ কর্মজীবী হতদরিদ্ররা।পর পর দুই দিন টানা বৃষ্টি হওয়ার কারণে লক্ষ্মীপুর জেলার শহরে পৌরসভার যেসব এলাকায় পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা নেই , ঐসব এলাকায় পানি বন্দী পৌর মহল্লা বাসী। বৃহস্পতিবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার পৌর শহরের কয়েকটি পৌর ওয়ার্ডে যাওয়া হলে চোখের নজরে আশে জমা হয়ে থাকা পানির দৃশ্য। এছাড়াও আরও দেখা যায় অনেকের ঘরের দরজার সামনে বাড়ির চলাচলের পথে বৃষ্টির পানি। দেখা যাচ্ছে পুকুর নর্দমা ও বাসা বাড়ির চতুর দিকে জমিয়ে থাকা বৃষ্টির পানি। লক্ষ্মীপুরে ভারী বৃষ্টির কারণে জন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি জীবী সহ সকল শ্রেণীর মানুষ। আজ দুই দিনের থেমে থেমে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে জেলার বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় যানবাহন ও মানুষের চলাচল করতে খুবই অসুবিধা দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া মানুষ বের হচ্ছে না বাড়ি ও ঘরের বাইরে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬০ মিলিমিটারের ও অধিক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানা গেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর নিকট। এদিকে খেটে খাওয়া মানুষগুলো ঘর থেকে বের হতে পারছে না, এমনকি কোন কাজও করতে পারছে না,তাই তাদের জীবন বিপন্ন। লক্ষীপুর পৌরসভা অটোরিকশাচালক সিরাজ, আরমান, ইসমাইল সহ আরো কয়েকজন অটো চালকরা বলেন, দুই দিন যাবত ভালো করে গাড়ি চালাতে পারছি না, আমার মত এক এক জনের ঘরে সাত থেকে আট জন করে সদস্য রয়েছে, এবং মাথার উপর বোজা এনজিওর কিস্তি টাকা, গাড়ি চালিয়ে কোন রকম চলি, এর মধ্যে টানা দুই দিন বৃষ্টি। পৌরসভার অটোরিকশা ও মিশুক গাড়ি চালক রহিম বলেন, বৃষ্টির কারণে যাত্রী কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আয় কমে গিয়ে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছি।সুজন নামে এক রিকশাচালক জানান, গতকাল সারাদিনে ২০০ টাকা পেয়েছি। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত আয় হতো।চা মিলন, সাগর ও আরিফ জানান, বৃষ্টির কারণে আজ দুই দিন কাস্টমার নাই চা বেচা বিক্রী আগের মতন হয়না। এদিকে কাচাঁ তরকারী ব্যবসায়ী জামাল বলেন, আমদামী কমে যাওয়ায় ভ্যানে করে তরকারী বিক্রি করা আয়ও কমে গেছে। প্রতিদিন যেখানে কমপক্ষে হাজার ১৪০০ থেকে ২০০০ টাকা বিক্রি করে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লাভ হইতো,এখন দুই দিনে ৪০০ টাকার তরকারি বিক্রি। ভ্যান মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানতে চাইলে তিনি জানান,বৃষ্টিপাতের কারণে গতকাল থেকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত মাত্র ২২৫ টাকা ভাড়া মেরেছি। আকাশের যা অবস্থা সারাদিন বৃষ্টির কারণে ভ্যানে ভাড়া কমে গেছে, সারাদিন বৃষ্টি হলে ভাড়া মারতে না পারলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।তিনি আরও বলেন, আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন জানেন আর কত দিন এইভাবে বৃষ্টি থাকবে। আম ব্যবসায়ী রফিক বলেন, বৃষ্টির কারণে মানুষজন বাড়ি থেকে বের হতে না পারাই আম বিক্রি অনেক কমে গেছে, বৃষ্টির সময় দোকানে আয় কমে যায়। ফলে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ে। এদিকে শহরের হোটেল গুলোতে ঘুরে দেখা যায় আগের তুলনায় কাস্টমার কম। দুই দিনের বৃষ্টির কারণে পুকুরের পাড় ভেসে অনেকের প্রায় লক্ষ টাকার মাছ ছলে যায় বিভিন্ন খালে ও জলাশয়। লক্ষ্মীপুর উত্তর স্টেশন হইতে দক্ষিণ স্টেশনে ঘুরে দেখা যায় অটোরিকশা থামিয়ে বৃষ্টির মধ্যে বসে রয়েছেন রিকশা চালক গণ, তেমন কোনো যাত্রীর দেখা মিলছে না আগের মত। একেবারে প্রয়োজন না হলে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এতে যারা অসহায় গরিব,তাদের সমস্যা হচ্ছে সংসার চলতে। ছোটখাটো ব্যবসায়ীরা দোকান খুলে বসে থাকতে দেখা যায়। লক্ষ্মীপুর জেলার নিচু জায়গাগুলোতে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি দেখা দিয়েছে দুই দিনের টানা বৃষ্টির পানি জমে থাকার কারণে।যার ফলে লক্ষ্মীপুর শহরের অনেক জায়গা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি দেখা দিয়েছে, যে কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মানুষজনকে কষ্ট করে মহাসড়ক ও গ্রাম গঞ্জের রাস্তায় দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বৃষ্টির কারণে জেলার ভিতরে ছোট নদী ও বড় নর্দমা খাল গুলো পানি ভর্তি হয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন স্থানে এলাকার বাড়ি ও ভিতরে আঙ্গিনায় ডুবে অনেকের ঘরের দিকে পানি ডুকার আশঙ্কা রয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে দেখা যাচ্ছে ছাতা ভর্তি মানুষ,বেড়েছে ছাতার দাম।