
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাংবাদিক ব্যবহার করে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ প্রশাসন ছাড়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জাটকা নিধন অবৈধ জাল জব্দ করতে গিয়ে সাংবাদিক কে হুমকি মুখে ফেলে মৎস্য কর্মকর্তা ঘটনার স্থল থেকে চলে আসার অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে।এমন অভিযোগ করেন ঝুঁকিতে পড়া সাংবাদিকরা।এসময় উপস্থিত লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ও মৎস্য কর্মচারীগণ।
আরও উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ কনস্টেবল সহ২পুলিশ সদস্য ও সোশ্যাল মিডিয়া সাংবাদিক পরিবারের সদস্য বৃন্দ। মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উদ্যোগে।ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প এর আওতায় ১ এ মার্চ হইতে ৩০ শে-ই এপ্রিল পর্যন্ত মেঘনা নদীর ইলিশ অভয় শ্রম এলাকায় জাটকা ও ইলিশসহ সকল ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকার সর্থেও জাটকা ধরা বন্ধ হয়নি জেলেদের।তবে দেখা যায় বৈশাখী আসছে সামনে,নতুন বছরের প্রথম দিনে খাবে পান্তা ভাত ইলিশ দিয়ে, এমন পরিকল্পনা নিয়ে বৈশাখের আগেই নদী থেকে ধরা পড়েছে মা জাতের ইলিশ ও জাটকা অগণিত জেলেদের জালে। ১৫ই এপ্রিল ২০২৬ইং তারিখ রোজ বুধবার বিকাল ৫টার সময় অভিযান শুরু হলে দেখা যায় নদীতে জেলেদের অবৈধ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল। মিলিনি কোন মাছের সন্ধান। মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা কালে মেঘনা নদীতে ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। সেই জব্দ কৃত অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে মতিরহাট লঞ্চ ঘাটে মেঘনা নদীর পাড়ে।
মতিরহাট মেঘনা নদী হয়ে মজুচৌধুরীর হাটের দিকে ফিরে আসার পথে আরও তিনটি অবৈধ জাটকা নিধন কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ কৃত অবৈধ কারেন্ট জাল গুলোকে মজুচৌধুরীর হাট লঞ্চ ঘাটে মেঘনা নদীর পাড়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। রাত পৌনে ৯টার দিকে মোবাইল কোর্ট অভিযান শেষ মুহূর্তে সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী নিকট সাংবাদিকদের প্রশ্ন,কোস্ট গার্ড পুলিশ পর্যাপ্ত পরিমাণ সঙ্গে না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন,কোস্ট গার্ড পুলিশ কে অতিরিক্ত মোটা অংকের অর্থ দিতে হয়, না হলে তারা নদীতে আমাদের সঙ্গে জাটকা নিধন অবৈধ জাল জব্দ অভিযানে অংশ গ্রহণ করতে চায় না।যার ফলে তাদের কে আমরা সবসময় ব্যবহার করতে ব্যর্থ হই। এদিকে সাংবাদিকদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে ১ঘন্টা আগে চলে আসার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ১ঘন্টা আগে আসার কথা অস্বীকার করে নিজ মুখে বলেন, আমি এক ঘন্টা আগে চলে আসলে কি হবে, কিন্তু আমি আমার সহকারী স্টাফ কে প্রতি ৫-১০ মিনিট পর পরেই কল করে জানা হয়েছে আপনারা কতটুকু আসা হয়েছে। আর কত সময় লাগতে পারে কিন্তু জেলেদের সঙ্গে নৌকা আটক ও অবৈধ জাল জব্দ করতে গিয়ে আপনারা হুমকি ও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন, সেই বিষয়ে আমার স্টাফ আমাকে কিছু জানায়-নি। তিনি আরও বলেন, আমাদের জনবল সংকট। তা ছাড়া পুলিশ পর্যাপ্ত পরিমাণ না দেওয়ার কারণে অনেক সময় আমরা নিজেরাই ঝুঁকি নিয়ে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে থাকি এবং অবৈধ জাল জব্দ করে পুড়তে গিয়ে হামলার শিকার হইতে হচ্ছে। আটক কারী ২জেলে ও নৌকা কোথায়, কি করা হয়েছে, আবারও প্রশ্ন করে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন,তারা নিজেরাই ক্ষমা চেয়েছে, তাই তাদের ২জন ও নৌকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে, এতে দোষের কিছু নাই। অবশেষে সাংবাদিকদের বুঝতে বাকী রইলো না মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর মধ্যে চরম দুর্বলতা ও অনিয়মের দুর্নীতির ছত্রছায়ার মূল নায়ক প্রমাণ করে। সরজমিনে না গেলে সাংবাদিকদের দেখা মিলতো না মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা নামে সেলফি তোলা চাকরি বাঁচানোর পরিকল্পনার দৃশ্য।এদিকে দিন শেষে মাস গুণে, কখন মাস শেষ হবে, আর পকেট ভারী করবে সরকারি বেতন নামে টাকা দিয়ে।মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,আমাদের জনবল সংকট থাকার কারণে ঝুঁকি নিয়ে দ্বায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে প্রতিটি মোবাইল কোর্ট অভিযানে। তাই বেশি সময় নদীতে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।
যতদ্রুত সম্ভব অভিযান শেষ করে ঘটনার স্থল থেকে চলে আসা হচ্ছে।তবে আমাদের এই অভিযান আগামী ৩০শে-ই এপ্রিল পর্যন্ত চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।দেখা যাচ্ছে এক দিকে মৎস্য কর্মকর্তার অফিসে জনবল সংকট। অন্য দিকে সরকারি অর্থের সংকটের কারণে অভিযান পরিচালনা করেও নেওয়া হচ্ছে না অবৈধ জাল নৌকা জব্দ করা ও জেলেদের বিরুদ্ধে সঠিক আইনি প্রক্রিয়া ব্যবস্থা।এদিকে জাটকা নিধন অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা নিয়ে কিছু জেলেদের আজ নানান প্রশ্ন উঠেছে মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী এর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত অবৈধ জাটকা নিধন কারেন্ট জাল আটক কৃত কিছু জেলেদের অভিযোগ,মেঘনা নদীতে আরও অন্যান্য জেলেদের জাল থাকা নিয়ে কারোর কোনো মাথা ব্যাথা নেই। যারা চাল পায়, তাদের কে নদীতে দেখা যায় প্রতিনিয়ত। আমরা আসল জাইল্লা হয়েও চাল পায়না। আবার নদীতে আসা হলে দেয় জেল জরিমানা, না হয় জাল পুড়িয়ে ফেলা।
নৌকা আটক করে নিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছু পারে না মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। এই নিয়ম কি শুধু আমাদের জন্য, আমরা মৎস্য কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে জানতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন জব্দ করা জাল ও নৌকার মালিক জেলেরা।
