
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ লক্ষ্মীপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে চলছে নির্মাণের কাজ ।দখল হয়ে যাওয়া ওই জায়গাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চললেওএ বিষয়ে নির্বিকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ১ নং উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে বাংলা বাজারে ব্রীজ সংলগ্ন পূর্ব ও পশ্চিম পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় কোটি টাকার খাল দখল করে দোকান নির্মাণের কাজ করছেন এক প্রভাবশালী।
এলাকাবাসী জানায়, এই ব্যক্তি এর আগে ও কয়েকটি দোকান ঘর নির্মাণ করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায়। এখন আবার নতুন করে বেশ খানিকটা জায়গা দখল করে কাজ করছে মোঃ রুবেল পিতা অজ্ঞাত,ও মোঃ নাছির উদ্দীন পিতা মৃত এছাক হক।সরজমিনে নাছির উদ্দীনের সাথে কথা বলে জানা যায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারীদের থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন।কি ধরনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানতে চাইলে নাছির উদ্দীন জানান,পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারীরা ভেঙ্গে চলে যাওয়ার পরে আবারও করার আদেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অবৈধ দখল কারী নাছির উদ্দীন।
আরো জানা যায়,পূর্ব কেরোয়া পান পাড়া ওয়াজউদ্দিনের পোলের পাশে মীরগঞ্জ সড়কে বটতলা নামক এলাকায় কৃষি সমিতির সেক্রেটারি ও সভাপতি সহ তিন গ্রুপ প্রতিযোগিতা চালিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে পাঁকা পোক্ত করে বহুতল ভবন নির্মাণের দোকান ঘর নির্মাণ কাজ চলছে। অপরিচিত স্থানীয় এক প্রতিবেশী বলেন, ১০ বছর আগ চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে অনুমতি পাইছি সময়ের কারণে কাজ ধরতে পারিনি। আর দুই ব্যক্তিকে খোঁজ করে পাওয়া যায়নি তাদের ঠিকানা বলতেও রাজি হননি এলাকাবাসী। তিনটা প্রতিষ্ঠানের কাজ একই সাথে।এই বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাহীন এর সাথে কথা বলে জানা যায় লক্ষ্মীপুর টু রামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন ভবন নির্মাণের জন্য লিজ দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন ফল ফলাদির বাগবাগিচা ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন করার জন্য পরিবেশ পরিছন্নতা রাখার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা লিজ দেওয়া হয়। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্পত্তি লিস্ট দেয়ার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের জায়গা খালের এক অংশ অথাৎ ১৫-২০ পিট পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় জেলা পরিষদের জায়গা হিসেবে দাবি করেছেন জেলা পরিষদ। যার ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল পাড় দখল কারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন ভবন নির্মাণ করার খবর পেয়েছি যখন অভিযোগের আলোকে খাল দখল করা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় ও কিছু অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজসে দিন দিন স্থানীয় প্রভাবশালীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ভবন ও দোকানপাট গড়ে তুলছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের অনেকেই জানান, রহস্যজনক কারণে রায়পুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসবের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এ বিষয়ে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব পালন কারী শাহীন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন,জায়গা দখল করে নির্মানের বিষয়টি বলেছেন, কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। জায়গা উদ্ধারসহ দখলদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
