
দুর্জয় হোসেন চাঁন মিয়া
রায়পুর প্রতিনিধিঃ গত ৫ দিনের টানা বর্ষণে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর পৌরসভার কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। প্রধান সড়কে ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুব নাজুক। ময়লা আবর্জনায় ভরপুর। নতুনবাজার এলাকায় গত এক মাস ঢিলেঢালাভাবে ড্রেনের কাজ চলছে। যদিও অধিকাংশ স্থানে পানি সরে গেছে, তবে কয়েকটি নিচু এলাকায় এখনো পানি জমে রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম উপজেলা পরিষদের ভেতরে, সামনের সড়ক, কাঞ্চনপুর ও দেনায়েতপুর, নতুনবাজার, খেজুরতলা এলাকা ও সরকারি মার্চেন্টস একাডমির সামনের এলাকা। দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতা এলাকাবাসীর জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৌরসভা ১, ৩, ৪ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, বর্ষা এলেই এমন জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। রায়পুর-ট্রাফিক মোড় থেকে মার্চ্চেন্টস একাডেমি, পীরবাড়ী-ডাকবাংলো, উপজেলা পরিষদের সামনের রাস্তা হয়ে খাজুরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-হায়দরগঞ্জের সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। সাবেক মেয়র ও কাউন্সিলরদের বহুবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। তা সহজে সরানো যায় না। আবহাওয়া ভালো থাকলে কয়েক দিনের রোদে পানি শুকিয়ে যায়, কিন্তু পানি বের হওয়ার কোনো ড্রেনেজ লাইনের ব্যবস্থা না থাকায় নতুনবাজার এলাকাটি প্রায়ই পানির নিচে ডুবে থাকে। এতে রাস্তাঘাট, দোকানপাট, মসজিদের রাস্তা সবকিছুই পানিতে নিমজ্জিত থাকে; যা চলাচলে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করে।
স্থানীয় দোকানদার বিল্লাল হোসেন বলেন, বৃষ্টি হলেই নতুনবাজার-মহিলা কলেজ সড়কে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে। এতে দোকানে ক্রেতা আসে না, মানুষ চলাচল করতে পারে না। অনেক সময় দেখি, জমে থাকা পানিতে বাইক, সিএনজি ধোয়া হচ্ছে। এ আবাসিক এলাকায় শতাধিক দোকানপাট, ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপজেলার বিদ্যুৎ অফিস, দুটি জামে মসজিদ, খাদ্য উৎপাদনকারী ১টি বেকারি, পানির পাম্প ও সকর ধরনের মাছ ও গরুর বাজার রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হোক, যাতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়। রায়পুর পৌর প্রশাসক (ইউএনও) ইমরান খান বলেন, পৌরসভা অংশের-নতুনবাজার ও মহিলা কলেজ সড়ক এবং খাজুর তলার খুবই বেহাল। আগামী ৭ দিনের মধ্যে মানুষের হাঁটার উপযোগী করে সড়কের কাজ করতে ঠিকাদারকে বলা হয়। প্রধান সড়কের ড্রেনের কাজও সহসাই সংস্কার করা হবে।
