রায়পুরে নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে চলছে রমারম বালু উত্তোলনে বানিজ্য

লেখক: Admin
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রায়পুর উপজেলার, ২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের, ০২নং ওয়ার্ড, চরইন্দুরিয়ায় মোঃ সোহাগ লস্কর, মোঃ মিলন সর্দার, মোঃ শিমুল হোসেন, মোঃ শাহ আলম, মোঃ শাহাদাত হোসেন সহ আরও  ০৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের, মোঃ আবু কালাম, ০৯ নং ওয়ার্ড, ডাকাতিয়া নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন করে আসছে। দীর্ঘ ১৭বছর থেকে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার দখলে ছিল ডাকাতিয়া নদী। বর্তমানে     ০২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন ও ৮ নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির দলের নেতাকর্মীদের দখলে রয়েছে।

দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নে ডাকাতিয়া নদীর থেকে নিষিদ্ধ ড্রেইজার মেশিনে বালু উত্তোলন করে বালু বিক্রি করে ছিলেন ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দিদার ও তার বড় ভাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির মোল্লা সহ আরও অনেকে। তার কবল হইত গত ৫ আগস্ট দখলে নেন ০২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন ও ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের বিএনপির দলের নেতাকর্মীরা। ৫শে-ই আগষ্ট বৈষম্য ছাত্র আন্দোলনের পর হইতে শুরু হয় দিনরাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। শুরু হয় ড্রেইজার মেশিন বসিয়ে মাটি খনন যন্ত্র নামের ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন।পরে ঐ বালু উচ্চ ধরে মূল্যে দিয়ে বিক্রি করেন বিভিন্ন জায়গায়।এতে নিজেদের পকেট ভারি করে, এবং প্রতিমাসে প্রায় ১ কোটি টাকার বালু বিক্রি করা যেন বানিজ্য।

বালু মহলের সাথে সংশ্লিষ্ট এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ম্যানেজ করে ডাকাতিয়া নদী ও খাল থেকে বালু তোলা হয়। এই বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন জায়গায় বালু বিক্রি করেন বালু উত্তোলন কারীরা।

বালু উত্তোলন ড্রেজার মেশিনে থাকা ২জন মেশিন চালক কে জিজ্ঞেস করে জানতে চাইলে একজন মুঠোফোনে কল করে এসে জানান, সোহাগ লস্কর, শিমুল, মিজান বেপারী, শাহাদাত ও শাহ আলমের ড্রেজার মেশিন। পরে বালু বিক্রির বিষয়ে রায়পুর উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা কর্মীদের কে জিজ্ঞেস করিলে তারা আমতা আমতা ভাষায় নরম সুরে জানান, ড্রেজার মেশিন আমার না, মেশিনের মালিক বিএনপির বড় নেতারা। জড়িত আছে ব্যাক্তিদের নাম জানতে চাইলে  অনীহা প্রকাশ করে নাম বলতে চায়নি।

এদিকে উত্তর ও দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ডাকাতিয়া মেইন নদীর কয়েকজন অপরিচিত জেলে’রা বলেন, আগে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন নেতারা বালু উত্তোলনে ছিল। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ আত্মগোপনে যাওয়ার পর সব দখলে নিয়েছে বিএনপির ইউনিয়ন নেতাকর্মীরা।

এ ব্যাপারে এলাকার স্থানীয়রা বিভিন্ন সংবাদ দাতা সাংবাদিকদের মাধ্যমে, জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেও বন্ধ হয়নি বালু উত্তোলন। পরে বালু উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কারীদের নাম উল্লেখ করে কম্পিউটার টাইপের মাধ্যমে কপি জমা দেওয়া হয় রায়পুর ভূমি কর্মকর্তা এসিল্যান্ড এর নিকট। ৩২ টি স্থানীয় পরিবারের মধ্যে ২০টি পরিবার নাম ঠিকানা দিয়ে অভিযোগ করেও বন্ধ হয়নি নিষিদ্ধ ড্রেইজার মেশিনে বালু উত্তোলন।

এখন নতুন করে শুরু করেছে জাকির আখঁন নামের এক ব্যাক্তি। সংবাদ কর্মী তথ্য সংগ্রহ কালে যাওয়ার পথে হঠাৎ চোখের নজরে আসে এই নিষিদ্ধ ড্রেইজার মেশিনের চিত্র, পরে এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি আজ ৩ দিন ধরে আবার শুরু করেছে জাকির আখঁন ডাকাতিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন। এতে আমাদের বাগান বাড়ী ঘর হুমকির মুখে রয়েছে বলে ভিডিও লাইভে জানান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে জাকির আখঁন ৩নং চর লক্ষী গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তার নিষিদ্ধ ড্রেইজার মেশিন রয়েছে ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড চরলক্ষী গ্রামের বদ্দার বাড়ীর পূর্ব পাশে ডাকাতিয়া নদীর মাঝ খানে। তার সৎ ভাই সংবাদ কর্মী সাংবাদিক কে জানান ৫শে-ই আগষ্ট বৈষম্য ছাত্র আন্দোলনের পর ড্রেইজার মেশিনের মালিকদের থেকে মুছলিকা নিয়ে গেছে সেনাবাহিনী রায়পুর ক্যাম্প কর্মকর্তা।তিনি আমাদের উপস্থিতিতে জানিয়েছেন যদি কোনো ড্রেইজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয় তাহলে ভেঙ্গে দেওয়া হবে। এখন আর ভাংঙ্গা থাক দুরের কথা সেনাবাহিনী দেখা যাচ্ছে না পরিদর্শনে।এদিকে ডাকাতিয়া নদীতে বিভিন্ন জায়গায় ১৬টি ড্রেইজার মেশিন চলছে রমারম বালু উত্তোলন। বিএনপির ইউনিয়ন যুবদলের নেতা কর্মী ড্রেইজার মেশিনের মালিকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, এবার সেনাবাহিনী আসলে বুঝা পড়া হবে।

এদিকে আরও দেখা যায় মোল্লার হাট বাজার সংলগ্ন দক্ষিণ দিকে পানির ঘাট হইতে ২০০ গজ পরে   রয়েছে হুমায়ুন ও মিন্টু মোল্লা ড্রেইজার। নতুন বেড়িবাঁধ মাাছ ঘাট হইতে প্রায় এক হাজার গজ পরেই হচ্ছে সোহাগ লস্কর ও মিলনের ড্রেইজার মেশিন।পুরান বেড়িবাঁধে নদীর পাড়ে রয়েছে ২টি ড্রেইজার মেশিন। হাজিমারা বাজার হইতে বাস্তহারা সরকারি স্কুল সংলগ্ন দক্ষিণ দিকে একটি পুকুর ভরাটে বালু উত্তোলন করতে দেখা যায় ড্রেইজার মেশিন মালিক জলিল কে। প্রতিটি ড্রেইজার মেশিন বালু উত্তোলনের পাইব যাওয়ার পথে চোখের নজরে পড়ে। জনসাধারণ কে হুমকির মুখে রেখে চলছে ভূমিদস্যুদের বালু উত্তোলন। এইভাবে চলছে ডাকাতিয়া নদীর শাখায় প্রশাখার বিভিন্ন জায়গার স্থানে ড্রেইজার মেশিনে প্রতিযোগিতায় বালু উত্তোলন। নেই কোনো তদারকি দায়িত্বে থাকা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা তহসিলদারদের।

যদিও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থাকা কালীন সময়ে  ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিছু ড্রেজার মেশিন উচ্ছেদ করেন অভিযানের মাধ্যমে। কিন্তু এখনো পুরোপুরি নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন বন্ধ হয়নি। এসব নিষিদ্ধ ড্রেইজার মেশিনে বালু উত্তোলনের কাছে জিম্মি হাজারো পরিবার। দেশের আইন কানুন না মেনে চলছে রমারম বালু উত্তোলনে বানিজ্য। প্রশাসন কে বৃদ্ধ আঙুল তুলে দেখিয়ে দিলো অপরাধ কাকে বলে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কে তোয়াক্কা না করে চলছে এইসব নিষিদ্ধ ড্রেইজার মেশিনের মালিকদের অবৈধ বালু উত্তোলন।

তবে এইসব অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না করা হলেই যেমন ফসলী জমি হারাবে, তেমনি হারাবে আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ। মেশিনের বাড়ির সাথে কাটা পড়ে ইলিশ, নতুন করে মাছের কোনো পোনা জন্ম নিতে দিচ্ছে না নদী দখল কারীরা। একই সাথে দশে যাচ্ছে নিরীহ মানুষের ঘর বাড়ি। অবৈধ বালু উত্তোলন ড্রেইজার মেশিন বন্ধ করা একান্ত আবশ্যক ও জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশী গণ। তবে আর জরিমানা নয়, অবৈধ বালু উত্তোলন ড্রেজার মেশিনের মালিকদের কে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার দাবি প্রার্থনা করছেন এলাকাবাসী।

📢 আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর:

👉 বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন