প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত রিপন, সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিককে হুমকি: থানায় জিডি

লেখক: Admin
প্রকাশ: ২ দিন আগে

উপজেলা প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিজেকে জেলা আইনজীবীর সহকারী পরিচয়দানকারী রিপন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কখনও কৃষি ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে, আবার কখনও জমির নামজারি ও রেকর্ড সংশোধনের আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীরা বলছেন, টাকা নেওয়ার পর বছরের পর বছর পার হলেও কাজ সম্পন্ন তো দূরের কথা, উল্টো টাকা ফেরত চাইতে গেলে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও মামলার হুমকি দেওয়া হয়।

এদিকে এসব অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় এক সাংবাদিককে মোবাইল ফোনে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও হয়রানির হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

অভিযুক্ত রিপনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শিতা ডাক্তারের গোঁজা সংলগ্ন হায়দার আলী ভূইয়া বাড়িতে। তিনি মৃত হাবিলদার শামসুদ্দিনের ছেলে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
কৃষি ঋণের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

সরেজমিনে চররুহিতা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দাসকান্দী এলাকার কালা মাঝির বাড়ির বাসিন্দা হাসানুজ্জামানের স্ত্রী শাহানাজ বেগমের কাছ থেকে প্রায় চার বছর আগে কৃষি ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৩০ হাজার টাকা নেন রিপন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি কোনো ঋণের ব্যবস্থা করতে পারেননি।

ভুক্তভোগী শাহানাজ বেগম বলেন, “প্রথমে বলেছিল খুব দ্রুত কৃষি লোন পাইয়ে দেবে। সেই বিশ্বাসে ধারদেনা করে টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ চার বছর হয়ে গেলেও কোনো কাজ হয়নি। এখন টাকা চাইতে গেলে নানা ধরনের ভয় দেখায়, মামলা করার হুমকি দেয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এলাকায় আরও অনেকেই রিপনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তবে ভয়ভীতির কারণে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।

নামজারি ও রেকর্ড সংশোধনের আশ্বাসে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন জনতা বাজার এলাকার বাসিন্দা আজগর হোসেন। তিনি জানান, প্রায় সাত বছর আগে জমির রেকর্ড সংশোধন ও নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে রিপন তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেন। এরপর থেকে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

আজগর হোসেন বলেন, “রিপন আমাকে আশ্বাস দিয়েছিল খুব দ্রুত কাজ শেষ করে দেবে। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর আর ঠিকমতো যোগাযোগই করেনি। বারবার খোঁজ নিতে গেলে এড়িয়ে যায়। এত বছরেও কাজ হয়নি, টাকাও ফেরত পাইনি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, রিপন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি ও আইনি কাজের কথা বলে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করে আসছেন। দরিদ্র ও সহজ-সরল মানুষদের টার্গেট করে তিনি অর্থ আদায় করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে
রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রিপন নিজেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। এ বিষয়ে চররুহিতা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি আবু সাইদ বলেন, “রিপন নিজেকে জামায়াতের কর্মী দাবি করায় অর্থ লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে আমি চররুহিতা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হুমায়ুন কবির মাস্টারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিই।”

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে চররুহিতা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হুমায়ুন কবির মাস্টার বলেন, “কয়েকজন ভুক্তভোগী আমার কাছে এসে অভিযোগ করেছিলেন। তখন আমি রিপনকে বলেছিলাম, মানুষের টাকা-পয়সা ফেরত দিতে। কিন্তু সে কোনো কথা শোনেনি। সে আমাদের জামায়াত ইসলামের কোনো কর্মীও নয়।”

সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিককে হুমকি

অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান করতে গেলে দৈনিক সংবাদ দিগন্ত পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার এবং নিবন্ধিত সাংবাদিক সংগঠন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রিপনের বিরুদ্ধে।

সাংবাদিক মেহেদী হাসান রাসেল জানান, তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান চালানোর সময় রিপন তাকে ফোন করে অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং মিথ্যা মামলা ও বিভিন্নভাবে হয়রানির হুমকি দেন।

তিনি বলেন, “সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। একজন সাংবাদিক হিসেবে সত্য তথ্য তুলে ধরা আমার দায়িত্ব। কিন্তু একটি চক্র সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে সত্য প্রকাশে বাধা দিতে চায়।”

ঘটনার পর তিনি বিষয়টি লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার আবু তারেককে অবহিত করেন। পরে পুলিশ সুপারের পরামর্শে লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
থানায় জিডি, তদন্তে পুলিশ

লক্ষ্মীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব এসআই সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এবং সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হবে।

সাংবাদিক নেতাদের উদ্বেগ

সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতি বি ভি রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের অসংগতি ও দুর্নীতি তুলে ধরতে গিয়ে প্রায়ই হুমকি ও চাপের মুখে পড়েন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে এবং সমাজের নানা অনিয়ম আড়ালে থেকে যাবে।
আরও অভিযোগের ইঙ্গিত

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, রিপনের বিরুদ্ধে প্রতারণার আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই সামাজিক সম্মানহানি কিংবা আইনি জটিলতার ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ আছে বলে পরিচয় দিয়ে তিনি মানুষের কাছ থেকে টাকা নিতেন।

এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে একই কৌশলে মানুষকে হয়রানি করে আসলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রিপনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য মুঠোফোনে কল দিলে সে বলে সঠিক সাংবাদিক হলে লক্ষীপুর প্রেসক্লাবের সামনে আসতে তখন লক্ষীপুর প্রেসক্লাবে সামনে এসে কল দিলে আর কল রিসিভ করেনি। রিপন সত্যিকার অর্থে আইনজীবীর সহকারি কিনা সে বিষয়ে অনুসন্ধান করার জন্য লক্ষীপুর আইনজীবীর সহকারী সমিতির সভাপতি মামুন কে মুঠো ফোনে কল দিয়ে রিপন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন এই রিপন কখনো ই আইনজীবীর সহকারী ছিলেন না সে প্রতারণা করার জন্য ই আইনজীবীর পরিচয় দেয় আপনারা এদের বিরুদ্ধে নিউজ করেন তাহলে সমাজের সামনে এদের মুখোশ উন্মোচন হয়ে যাবে এবং সবাই এদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকবে। এতে করে আর কেউ এদের প্রতারণার ফাঁদে পা দিবে না এবং নিঃস্ব হবে না।

📢 আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর:

👉 বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন