লক্ষ্মীপুরে ইয়াসিন আরাফাত( শুভ) নামের এক যুবকের হাতে নির্যাতনের শিকার, এক গৃহবধু, এলাকাবাসী আতঙ্কে

লেখক: Admin
প্রকাশ: ৫ দিন আগে

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে এক গৃহবধূ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে এক যুবক ইয়াসিন আরাফাত নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কলা বাগানের মালিক নিষেধ করেও বন্ধ করতে পারেননি মাদকের আড্ডা।৫শে-ই মে মঙ্গলবার বিকাল চারটার দিকে ইয়াসিন আরাফাত শুভ(২১) ও তার সঙ্গীদের নিয়ে কলা বাগানে বসে মাদক সেবন করে চলে আসার সময় কলা বাগানের কয়েকটি ধরতি কলা গাছ হাত ও লাঠি দ্বারা আঘাত করে। এমন সময় ভুক্তভোগী কহিনুর বেগম দেখতে পান ইয়াসিন আরাফাত (শুভ) তাদের বাগানে কলা গাছ কে লাঠি ও হাত দ্বারা আঘাত করে নষ্ট করা হচ্ছে। কলা গাছ নষ্ট করার বিষয়ে জানতে চাইলে ইয়াসিন আরাফাত ( শুভ) তখন কহিনুর বেগম এর উপর উত্তেজিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনা কে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুর জেলার দায়রা জজ নারী ও শিশু নির্যাতন শাখায় ৫জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।উল্লেখ্য যে ভুক্তভোগী ফরিয়াদী কে হত্যার উদ্দেশ্যে ১/৩হইতে ৩ ও ৪/৫ নং আসামি মিলে গলায় টিপে শ্বাসরোধ করে এবং২নং আসামী ফরিয়াদীর গলায় থাকা ৬আনা ওজনের সোনার চেইন নিয়ে যায়। যাহার বর্তমান বাজারে মূল্য ১লক্ষ টাকা। ও ১নং আসামী ১নং সাক্ষীর সঙ্গে থাকা টেকনো মোবাইল আচাড় দিয়ে ভেঙ্গে ফেলে, যাহার মূল্য ১৬ হাজার টাকা।

ভুক্তভোগী এমন অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ৫ আসামীর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকরা গিয়ে দেখেন ভুক্তভোগীদের দেওয়া অভিযোগ ঘটনা সত্য।সাংবাদিকরা ওই কলা বাগানে চিত্র নেন এবং আশেপাশে কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে কয়েকটি পরিবার সদস্যদের কে জিজ্ঞাসার মাধ্যমে জানতে পারেন কলা বাগানে হামলার ঘটনা সত্য।

গত মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে ১নং উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের ০৮নং ওয়ার্ড হামছাদী গ্রামের দুলা হাজী ছৈয়াল বাড়ির বাসিন্দা সিদ্দিক উল্যার বসতবাড়ির দক্ষিনে রাস্তা চলাচলের পাশে কলা বাগানে এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত সিদ্দিকউল্যার মেয়ে কহিনুর বেগম ৩৯ বলেন, আমার স্বামী থেকেও নেই আমি আমার ছেলেদের নিয়ে বাপের বাড়িতে থাকি। বর্তমানে আমারায়ের কোনো উৎস নেই তাই আমি ঋণের টাকার বিনিময়ে এই জায়গাটা বর্গা নিয়ে কলা গাছের চাষ করছি। বাগানের অধিকাংশ কলা গাছে অপরিপক্ষ কলা রয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে কেটে বিক্রির আশা ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেল চারটার সময় শুভসহ কিছু কুচক্র মহল নিয়ে এসে বাগানে মাদকের আসর বসিয়ে মাদক খাচ্ছে। পরে চলে যাওয়ার সময় প্রায় ৮-১০টি কলা গাছ নষ্ট করে ফেলে চলে যাচ্ছিল।ভাগ্যে এমন সময় আমার চোখের নজরে আসে বাগানে কলা গাছ নষ্ট করার দৃশ্য। আমি বাধা দিলে সে আমার গায়ে তেড়ে এসে সুপারি গরিয়া দিয়ে আমার উপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালায়।

আমাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আমার শরীরে বিভিন্ন জায়গায় জখম করার কালো নীল ও ফুলা দাগ রয়েছে।শুধু তাই নয়, একই সাথে অভিযুক্তকারী ইয়াসিন আরাফাত ( শুভ) এর বাবা বেল্লাল হোসেন (৪৫),ফজলে রাব্বি (২০),মানিক (৫৫),শাহজান (৩৮) সহ তারা ৫ জন মিলে আমাকে কিল ঘুষি ও তলপেটে লাথি মারার কারণে আমি গুরুতর আহত হই। আমার শো-র চিৎকার শুনে আমার ছেলে রিফাত(১৮) আমাকে রক্ষা করতে আসলে তাকেও মারধর করে আহত করেন মাদক কারবারি ইয়াসিন আরাফাত( শুভ)।

আমাদের শো-র চিৎকার শুনে এলাকার স্থানীয়দের ঘটনাস্থলের দিকে আসতে দেখে সবাই দৌড়ে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় প্রতিবেশীরা ঘটনার স্থলে এসে দেখে আমরা মা ছেলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছি। এই অবস্থায় দেখে আমার বড় ছেলে সিফাত কে খবর দেন আমাদের এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশী গণ।

খবর পেয়ে সিপাত ঘটনার স্থলে দেখে রিফাত ও তার মা জননী অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে।একপর্যা সিফাত নিরুপায় হয়ে তার ভাই ও মাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল জরুরী বিভাগে নিয়ে যান।পরে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক তার মা কহিনুর বেগমকে ভর্তি দেন। যাহার জরুরী বিভাগে রেজিস্ট্রেশন নম্বর আ: করিম( রিফাত) ৩৭৫৪/১২ ও ভুক্তভোগী আহত কহিনুর বেগম রেজিস্ট্রেশন নং – ৩৭৫৫/১৩। ৭তে মে বৃহস্পতিবারে তাদেরকে ছাড়পত্র দিয়ে চিকিৎসকরা রিলিজ করে দেন।

এদিকে আহত আ: করিম (রিফাত) বলেন, আমাদের বাড়ির পাশে কলা বাগানে মায়ের কান্না কন্ঠে শো-র চিৎকার শুনে আমি ঘর থেকে দৌড়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখি আমার মাকে মারধর করছে মাদক কারবারি ইয়াসিন আরাফাত ( শুভ)।

মাকে রক্ষা করতে গেলে শুভ আমাকেও মারধর করে। শুধু তাই নয়,গতকাল আবার মায়ের জন্য খাবার নিয়ে হাসপাতালের দিকে আসার পথে আটক করে শুভ ও মানিক আমার উপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা করে। তাদের হামলার কারণে ঘটনাস্থলে প্রসাব পায়খানা করে দিই। সেখানেও আমার শো-র চিৎকার শুনে এলাকার স্থানীয়রা দৌড়ে এসে আমাকে উদ্ধার করে এবং হাসপাতালের দিকে পাঠায়।আমি আমার মায়ের সাথে চিকিৎসা নিয়েছি।

সিফাত হোসেন বলেন, মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে শুভ আমাদের বাগানে মাদক সেবন করে। এতে আমার মা বাধা দিলে শুভ সহ ৫জন মিলে মায়ের গায়ের দিকে গিয়ে মাকে মারধর করেন।হামলা কারীরা হলেন, ১/ ইয়াসিন আরাফাত(শুভ), পিতা-বেলাল হোসেন। ২/বেলাল হোসেন, পিতা -আব্দুস সোবহান। ৩/ ফজলে রাব্বি, পিতা- মানিক। ৪/ মানিক হোসেন, পিতা -আব্দুস সোবহান। ৫/ শাহজান হোসেন, পিতা -বেলাল হোসেন। পরে শো-র চিৎকার শুনে আমার মেজো ভাই আ: করিম (রিফাত) ঘটনাস্থলে যায়, এবং মাকে মারধর করতে দেখতে পান। ভাই রিফাত বাধা দিলে তাকেও মারধর করে। এ ঘটনা কে কেন্দ্র করে এলাকার স্থানীয়রা আমাকে কল করে জানান। আমি ঘটনাস্থলে যাইয়া দেখি আমাদের কলা বাগানে মা ও ভাই অজ্ঞেন অবস্থায় ঘাসের উপর পড়ে আছে। আমি নিরুপায় হয়ে মা ও ভাইকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে একটি অপরিচিত সিএনজি যুগে জরুরি বিভাগে আনলে কর্মরত চিকিৎসক আমার মাকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি দেন। আমাদের কলা বাগানে মাদকের আসর বসিয়েছে শুভ। তবে গোপনে তথ্য নিলে মিলবে ইয়াসিন আরাফাত প্রকাশে (শুভ), দীর্ঘদিন থেকে মাদকের ব্যবসার সাথে জড়িত। আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে মাদকের বিরুদ্ধে উপযুক্ত বিচার প্রার্থনা করছি সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে।

হামলা কারী শুভ এর বিরুদ্ধে আমাদের এলাকাবাসীরা প্রশাসনের কাছে উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে ভুক্তভোগীর পিতা সিদ্দিক উল্যা (৭০) বলেন,মাদককারী শুভ পরিবারের কাছে আমার পরিবার স্বজনরা জিম্মি।

তিনি আরো বলেন, শুভ মাদক কারবারি কিছুতে বন্ধ করা হচ্ছে না তার মাদক সেবন। দীর্ঘদিন থেকে মাদক সেবন করে আসছে শুভ।

তার বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা নিতে পারে না, যে তার মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে চায়, তাকে মারধর করে রাতের আঁধারে গিয়ে তার ঘর ভাঙচুর করে এবং তাকে হুমকি দেখান। হুমকির ভয় ও পরিবারের উপর নির্যাতনের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলছেন না ইয়াসিন আরাফাত (শুভ) এর মাদকের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, এই জয়নাল ও জয়নালের ইস্তি কারণে বাচ্চু বিদেশ চলে যেতে হয়েছে। চাঁদা দাবি করেন শুভ, রাব্বি,ও মানিকের ষড়যন্ত্রে জয়নাল। ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দেবে না বলে অনিহা ও প্রকাশ করলে মানিক ও তার সঙ্গীরা মিলে ষড়যন্ত্র করে জয়নালের স্ত্রী দিয়ে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ করেন বাচ্চুর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনাও মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে। জয়নাল তার স্ত্রীকে শিখিয়ে দেওয়া কল রেকর্ড আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার কাছে প্রেরণ করেছি। আশা করি সঠিক উত্তর পাবোই।

স্থানীয়রা জানান, এলাকা মাদকসেবীদের ‘স্বর্গ রাজ্য’। বিকাল থেকে কলা বাগানের ভিতরে তারা আসর জমিয়ে বসে, এমন অভিযোগে স্থানীয় প্রতিবেশী এলাকার অনেকেই বলেছেন। তারা মাদক ব্যবসায়ীদের উৎপাতে অতিষ্ট,এলাকার পরিবেশ বিষাক্ত করে তুলছে। এখন এই হামছাদী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড চিহ্নীত মাদক এলাকায় হিসেবে পরিণত হয়েছে।

এলাকার কিছু অপরিচিত সমাজ সেবক মুরুব্বীরা বলেন, মাদক বিক্রয়তারা একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও জামিনে এসে আবারও পুরানো পেশায় লিপ্ত হচ্ছে একাধিক প্রতিনিয়ত মাদক।

ভুক্তভোগী ফরিয়াদীর বক্তব্যে অনুযায়ী অভিযুক্তকারী ইয়াসিন আরাফাত শুভ এর নিকট গিয়ে কলা গাছ নষ্ট করা ও মাদক এবং হামলা করা ঘটনার সাথে জড়িত আছে কিনা জানতে চাইলে ইয়াসিন বলেন,কহিনুর বেগম সম্পর্কে আমাদের চাচি হয়। তাদের কলা বাগানে কলা গাছ কে বা কারা ভাঙছে আমি জানিনা। মাদক সেবনের সাথে জড়িত আছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি আবারও বলেন, আমি মাদক সেবন করিনা। স্বর্ণ ও মোবাইল ভাঙচুর ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইয়াসিন বলেন, আমার মায়ের ও জিনিস ছিঁড়ে নিয়ে বাদী কহিনুর বেগম। এইসব অগোছালো কথা বলে হামলা ও কলা বাগান নষ্ট করার সত্য ঘটনাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ইয়াসিন আরাফাত শুভ নিজের মন মতো মন গড়া বক্তব্য দেন সাংবাদিকদের কে ।

এদিকে অভিযুক্তকারী ইয়াসিনের মাকে ভিডিওর মাধ্যমে বক্তব্য দিতে বললে তিনি অনিয়া প্রকাশ করে মৌখিকভাবে বলেন, আমার মেয়ের বিয়ে সামনে। আমার এক জোড়া কানের ও গলার জিনিস কহিনূর নিয়ে গেছে। আমাকে ও আমার ছেলেকে তারা সবাই মারধর করছে। আমাদের গায়ে দাগ আছে। হাসপাতালের এম,সি নেওয়া হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতালে আমাদের যাওয়া হয়নি। মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে কথা চলছে, আমরা সে দিকে ব্যস্ত।

একপর্যায়ে, লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি বলেন, ভুক্তভোগী কহিনুর বেগম মাদক কারবারি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের কেউ এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ নিয়ে আসেননি, অভিযোগ ফেলে, অভিযোগ সূত্রে তদন্ত করে মাদক কারবারী বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

📢 আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর:

👉 বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন