রাতের অন্ধকারে বাড়িঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট, থানায় অভিযোগ

লেখক: Admin
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

 

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ৪ নং চরমাটিন ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমাটিন গ্রামের ৭ নাম্বার ওয়ার্ডে রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্ত একটি সন্ত্রাসী দল ঘরে ঢুকে লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্ত হামলাকারী শাহাজান গ্রুপদের বিরুদ্ধে।

এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী আবুল খায়ের।

বসতবিটা জমির বিরোধ কে কেন্দ্র করে চরমাটিন গ্রামে আবু সাঈদ ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান সাহেবের বাড়ির বাসিন্দা মৃত মাকসুদুর রহমানের পুত্র আবুল খায়ের কে হত্যার উদ্দেশ্যে এসে তাকে না পেয়ে আবুল খায়েরের স্ত্রী রাবেয়া বেগম ও তার চার নাবালক ছেলে ও এক নাবালক মেয়ের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে দুর্বৃত্ত হামলাকারী শাহাজানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী গ্রুপ।

এই ঘটনাটি ঘটে ১৮ই এপ্রিল শনিবার রাত আনুমানিক নয়টার দিকে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় লুটপাট কারী শাহাজান এর নেতৃত্বে একদল ১০ থেকে ১৫ জন সন্ত্রাসী নিয়ে এসে অতর্কিত ভাবে বাদী ভুক্তভোগী আবুল খায়ের এর বসতবাড়ীর ঘরে ঢুকে ভাংচুর করে নগদ টাকা ও জরুরি প্রয়োজনীয় কাগজ এবং স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। আবুল খায়ের সাংবাদিকদের বলেন, আমার বসতবাড়ির জমি দখলের জন্য বিবাদী শাহাজান একদল সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে দুধর্ষভাবে আমার পরিবার সদস্যদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

ওই মুহুর্তে আমি বাড়িতে ছিলাম না, মাগরিবের পরে ১৭ নং ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে কামাল মিয়ার বাড়িতে বোনকে দেখতে যায়।ঘটনার আগের দিন ১৭ তারিখ শুক্রবারে খবর আসে আমার বোন অসুস্থ। ঘটনার দিন ১৮ তারিখ শনিবার বোনকে দেখতে যায় বাদ মাগরিবের পরে বোনের বাড়িতে। এই সুবাদে তারা আমার বাড়িতে গিয়েছে আমাকে হত্যা করবে বলে।

আমাকে না পেয়ে আমার বসতবাড়ি ঘরের বেড়া কুপিয়ে ও দরজা ভেঙ্গে ঘরের ভিতর ঢুকে আলমারি, শুকাইস, ফ্রীজ ভাংচুর করে এবং চন্দুকের তালা ভেঙ্গে নগদ টাকা, এক ভরি গলার চেইন,০৮আনা কানপাশা, ০২হাতের রিং ও বাড়ির জায়গা জমি সহ আরও অন্যান্য মূল্যবান কাগজপত্র নিয়া গেছে।

এ খবর পাওয়া মাত্র আমি নিরুপায় হয়ে জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করি।পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার সংবাদ পেয়ে বিবাদীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। হামলা ও ভাঙচুর কারীরা হলেন, শাহাজান পিতা মৃত জবিউল্লাহ, মোহন পিতা শাহাজান, মোসলে উদ্দিন পিতা ইসমাইল চৌকিদার, আরমান হোসেন পিতা জহির আহামদ, উভয় সাং জাঙ্গালিয়া ৯ নং ওয়ার্ড বাসিন্দা ও শারমিন আক্তার স্বামী মোঃ শাহাজান, সাং:- দক্ষিণ চর মাটিন ৭নং ওয়ার্ড, ৪নং চরমাটিন ইউপি থানা কমলনগর জেলা লক্ষ্মীপুর সহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন রয়েছে।

এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশী জালাল আহমেদ এর পুত্র রাকিব হোসেন টিপু আজকের পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বাধ্য করে অভিযুক্তকারী বক্তব্য নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের উপর জড়ো হয়ে অভিযুক্ত হামলা কারী বিবাদী শাহাজাহান এর স্ত্রী শারমিন বেগম এর শরীরে জামা খোলে দেখাতে বলে আজকের পত্রিকার পরিচয়ে সাংবাদিক রাকিব হোসেন টিপু।

সাংবাদিকরা ঐ অভিযুক্ত হামলা কারী বিবাদী শারমিন বেগম এর জামা খোলা গায়ে ভিডিও লাইভে নিতে চায়নি বলে রাকিব হোসেন টিপু জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিকদের বলে আপনারা কিসের সাংবাদিক আজকে এই ভিডিও নিতে হবে বলে বাধ্য করে। সাংবাদিকরা রাকিব হোসেন টিপু কে বলেন,একজন নারী মায়ের জাত হিসেবে শরীর ভিডিও করা এবং লাইভে নিয়ে জনতাদের মাঝে পাবলিকের সামনে পোস্ট করা ঠিক হবে না।যেহেতু বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় আইনে উল্লেখ রয়েছে কোনো নারী খোলা শরীরে ভিডিও বা ছবি তুলে লাইবে দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ।অন্য দিকে কমলনগর থানার ওসি বরাবর অভিযোগ দায়ের করা বাদীর স্ত্রী কে বলে এগুলো পারিবারিক কোলাহলের ঘটনা বাহিরের লোকেরা জানাজানি হলে লোকে খারাপ বলবে।

এতে সাংবাদিকদের সন্দেহ হয়,আজকের পত্রিকার সাংবাদিক ও নোয়াখালী ল্যাবে কর্মচারী পরিচয় দেওয়া রাকিব হোসেন টিপু বাদীর বসতবাড়ির ঘর কুপিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে ভাংচুর ও লুটপাট এর ঘটনার সাথে জড়িত আছে বলে গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

বিবাদী শাহাজান এর স্ত্রী শারমিন বেগম বলেন,১৭তারিখে আমাদের পুকুরে মাটি কাটা নিয়ে আমার বাসুরের স্ত্রীর সাথে কথা কাটাকাটি হয়। আমার বাসুর ও তার স্ত্রী আমার গায়ে হাত দেয় ও আমাকে মারধর করে। আমি ১৯ তারিখে চিকিৎসা দিন ছিলাম, হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছি।

এদিকে ১৮ তারিখ রাত্রে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিবাদী শাহাজানের স্ত্রী শারমিন বেগম বলেন,ঘটনার দিন আমার স্বামী শাহাজান ও ভাগিনা আরমান এখানে ছিলো না।তিনি আরও বলেন, বাগিনা আরমানের বাড়ি রামগতি আলেকজান্ডার এখানে কি করতে আসবে। বাদীর ঘর কোন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে নাই,তারা নিজেরাই ভাঙচুর করেছে।

তবে সাংবাদিকরা পুনরায় জিজ্ঞেস করে, নিজের ঘর কি কেউ কখনো ভাঙচুর ও লুটপাট করতে পারে কি-না জানতে চাইলে অভিযুক্তকারী বিবাদী শাহজাহানের স্ত্রী শারমিন আক্তার কোন কথা না বলে ঘরের দিকে চলে যায়। পরে অভিযুক্তকারী শারমিনের বক্তব্য নেওয়ার সময় জামা খোলে দেখাতে বলা সাংবাদিক আজকের পত্রিকা ও নোয়াখালী ল্যাবের পরিচয় দেওয়া রাকিব হোসেন টিপুর উপস্থিতি বক্তব্যে এঘটনার সর্ম্পকে কতটুকু জানেন, জানতে চাইলে রাকিব হোসেন টিপু বলেন,আমি ঘটনার দিন ছিলাম না, আমি শুনেছি, তবে এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটে নাই।

এলাকার আশেপাশে লোকজনের কাছে জানতে পারেন।,টিপু আরও বলেন, আবুল খায়ের ও শাহাজান বাদী ও বিবাদীরা দুই পক্ষ আমার আত্মীয়,তারা আমাদের পার্শ্ববর্তী, আমরা তাদের প্রতিবেশী, এই ধরনের কাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে আমরা শুনতাম এবং জানতাম। তবে পুলিশ আসার পরে যাওয়ার পথে আমি এই ঘটনার সম্পর্কে জানতে পারি। কিন্তু এর আগে মারামারি ঘটনা আমি জানি এবং শারমিন বেগম চিকিৎসা নিয়েছে সেটাও আমি জানি। বাদীর ঘর ভাঙচুর বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিলে মিলবে রাকিব হোসেন টিপুর সাংবাদিক পরিচয়ে এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশীদের মধ্যে কোনো ঘটনা ঘটলে সেই হাজীর হয়ে তুচ্ছ ঘটনা কে কেন্দ্র করে হাসপাতালে চিকিৎসা নামে বানিজ্য করা হচ্ছে তার পেশা আর নেশা।

তার এসব অপকর্ম সাংবাদিকদের বুঝতে বাকী রইলো না, অভিযুক্তকারী বিবাদীদের আগের দিন মারামারির ঘটনাও আজকের পত্রিকার সাংবাদিক ও নোয়াখালী ল্যাবের কর্মচারী পরিচয় কারী রাকিব হোসেন টিপু জানেন।

ভাঙচুর ও লুটপাট এর ঘটনার সাথে জড়িত আছে বলে সাংবাদিককে ভিডিও ছবি তোলার জন্য বাধ্য করা এবং তার একতরফা বক্তব্য দেওয়া প্রমাণ করে যে এ ঘটনার সাথে রাকিব হোসেন টিপু জড়িত রয়েছে। তবে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আইনের মাধ্যমে জিজ্ঞাসা বাদ করিলে ভাঙচুর ও লুটপাট এর ঘটনার আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

আবুল খায়েরের স্ত্রী রাবেয়া বেগম বলেন, আমার স্বামী ঘটনার দিন১৮ তারিখ শনিবার আমার ননদ অসুস্থ তাকে দেখতে যায় বাদ মাগরিবের পরে ননদের বাড়িতে। এই সুবাদে আমাদের বিবাদী শাহাজান এর নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন সন্ত্রাসী বাহিনী এসে আমার স্বামীর নাম ধরে ডাকা শুরু করে এবং বলে খায়ের কই বাইর হও তোকে আজ মারি তোর লাশ গুম করমু বলে গালমন্দ করতে শুনি আর দিকে গুড়ুম গুড়ুম শব্দ হচ্ছে।

আমি নিরুপায় হয়ে আমার স্বামীকে কল করে এবং ঘটনার সম্পর্কে জানায়। শাহাজান ও তার দলবদ্ধ সন্ত্রাসী গ্রুপ নিয়ে ঘরের বেড়া কুপিয়ে ও দরজা ভেঙ্গে ঘরের ভিতর ঢুকে আলমারি, শুকাইস, ফ্রীজ ভাংচুর করে।এ ঘটনার পূর্ব মুহূর্তে আসার আগে আমাদের বিদ্যুতের লাইন কেটে দেয় সন্ত্রাসী শাহাজান। তখন রাত আনুমানিক নয়টা আমরা মনে করছিলাম কারেন্ট চলে গেছে।

কিন্তু যখন তাদের শো-র চিৎকার শুনেছি এবং ভাঙচুর করা শুরু করেছে, তখন বুঝি, তারা আমাদের বিদ্যুতের লাইন কেটে দিয়ে হামলা ও ভাংচুর করেছে। রাতের অন্ধকারে কিছু দেখা যায়নি।শাহজাহান, আরমান, মোহন, মোসলে – উদ্দিন মিলে চন্দুকের তালা ভেঙ্গে নগদ টাকা, এক ভরি গলার চেইন,০৮আনা কানপাশা, ০২হাতের রিং ও বাড়ির জায়গা জমি সহ আরও অন্যান্য মূল্যবান কাগজপত্র নিয়া গেছে।

তবে শাহাজান, আরমান, নোমান,মুসলে- উদ্দিন এর কন্ঠ শোনা গেছে আমি তাদের কন্ঠ সুর গলার আওয়াজ শুনছি। তাদের মুখ ও চেহেরাটা দেখতে পারে নাই রাতের অন্ধকারে দেখা যাচ্ছিল না কিছু। শুধু ঠুস, ঠাস, গুড়ুম, গুড়ুম শব্দের আওয়াজ হচ্ছিল। আমার নাবালক চার ছেলে ও নাবালক এক মেয়েকে নিয়ে আমি মহিলা মানুষ আতঙ্কে ছিলাম।

তারা সবাই মিলে আমার নাবালক মেয়েকে টেনে নিয়ে যাইতে চাচ্ছিল।সাথে আমাকেও বারবার গায়ের দিকে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে আমাকে নিয়ে টানা হিস – রা করে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ভাগ্যে আমি শো-র চিৎকার করার পরে চতুর দিক থেকে আশেপাশে লোকজনকে আসতে দেখে তারা পালিয়ে তাদের ঘরে অবস্থান নেই।পরে যখন আমার স্বামী এ ঘটনা শুনে ৯৯৯ কল করেন এবং পুলিশ পাঠায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার সংবাদ পেয়ে তারা সবাই ঘর থেকে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কমলনগর থানার ওসি বরাবর ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। যাহার অভিযোগ নম্বর ৪৪০/২৬। তবে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা অভিযুক্ত হামলা ও ভাঙচুর কারী আসামিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত বিচার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা কমলনগর থানার তদন্ত অফিসারের বরাবর গিয়ে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনার সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানা জানান,এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী থ্রী ফল নাইন নাইন নম্বরে কল করে বাদী জানিয়েছে।পরে পুলিশ ঘটনাস্থল তদন্ত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে বাদী ভুক্তভোগী লক্ষ্মীপুর জেলা জজ কোর্টে একটি মিস মামলা করেন ৭ধারা মিস মামলা নম্বর ১৪/২৩ ওই মামলা আসামিরা নিজ মুখে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ভবিষ্যতে এই ধরনের অনৈতিক ও জমি দখল ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোন অসংঘর্ষিক ঘটনা ঘটিয়ে বাদী পক্ষকে হয়রানি বা হামলার ঘটনা করবে না বলে স্বীকারোক্তি দেন। এছাড়াও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বাদীর আরো একটি মামলা করা হয় লক্ষ্মীপুর জেলার জজ কোর্ট আদালতে। সেই মামলায় স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় মামলার নম্বর ৩১৮ /২৪ স্থানীয়রা আরো বলেন,এই মূহুর্তে ঘটনাস্থলটি যেহেতুক সরেজমিন সঠিক তদন্ত করা হয়েছে এখন জরুরীভাবে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য কতৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন।

📢 আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর:

👉 বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন