
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে ভুল কীটনাশক ব্যবহার করে সর্বশান্ত হয়েছেন কৃষক বাবুল। পুড়ে গেছে এককর জমির ধান ক্ষেত। কীটনাশক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ ও নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এঘটনাটি ঘটে লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার আওতায়ধীন ১৪নং মান্দারী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড গন্তব্যপুর গ্রামে। ভুক্তভোগী বাবুল কৃষক বলেন, আমার নিজ চাষি জমি না থাকায় আমি সুদের উপর ও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে এবং সম্মতির মাধ্যমে কিস্তি ও লোনের মাধ্যমে টাকা নিয়ে এক একর বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করি। ধানের জমিতে মাজরা পোকার আক্রমণ রোধে গন্তব্যপুর স্থানীয় বাজারে সততা ট্রেডার্স এর মালিকের কাছে গিয়ে কীটনাশক চাইলে দোকানী আমির হোসেন তাকে নীল প্লাস পাউডার ও তরল সিলেকশন দেন। নীল প্লাস ও সিলেকশন তরল ওষুধ স্প্রে করে ক্ষতিগ্রস্থ হয় কৃষক ।
নিরুপায় হয়ে গতকাল ১৯ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তার বরাবর একখানা লিখিত অভিযোগ সুত্রে ক্ষতিগ্রস্ত বিষয়ে জানান ভুক্তভোগী চাষি বাবুল কৃষক। কৃষি কর্মকর্তা ও নির্বাহী কর্মকর্তা কে দেওয়া অভিযোগের কপি সাংবাদিক দিয়ে তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায় একপর্যায়ে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় অভিযোগের ঘটনা সত্য।
এ বিষয়ে কীটনাশক বিক্রেতা সততা ট্রেডার্স এর মালিকের মুঠোফোনে একাধিক বার কল করার পরে সাংবাদিকের মুঠোফোনে কল রিসিভ করিল কৃষক বাবুলের এক একর ফসলী জমি চাষাবাদে ভুল কীটনাশক ওষুধ দেওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে কীটনাশক ওষুধ ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, আমার নীল প্লাস ও সিলেকশন ওষুধ দিয়ে শতভাগ কৃষক চাষাবাদ করে।
আমি খোঁজ নিয়ে জানছি বাবুল কৃষক তার লোকের মাধ্যমে নীল প্লাস ও সিলেকশন ওষুধদের সাথে আরো ২টা কীটনাশক নামক ঘাসের ওষুধ যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে বলে ভুল কীটনাশক ওষুধ দেওয়ার সত্য ঘটনা কে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টায় কীটনাশক ওষুধ ব্যবসায়িক আমির হোসেন বলেন,আমি আমার জায়গা থেকে ১০০% সঠিক।ভুল করিলে কৃষক বাবুল করেছে আমি নয়।কৃষক বাবুল কে দোষী মন্তব্য করেছেন ভুল কীটনাশক ওষুধ ব্যবসায়ী আমির হোসেন।
ধান নষ্ট হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে উল্লেখ করে উপজলো কৃষি অফিসার বলেন, তদন্তে যদি বের হয় কীটনাশক ওই দোকানী দিয়েছেন, তাহলে আমরা তার লাইসন্স বাতিল করতে পারি।
এদিকে ভুক্তভোগী ও এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশী কৃষকরা জানান,গত এক সাপ্তাহ আগে মান্দারী ইউনিয়ন কৃষি অফিসার ইউনুস নবী কে ফসলী জমি ধান নষ্ট করার অভিযোগ করে সরজমিনে গিয়ে তদন্তের মাধ্যমে ভুল কীটনাশক ওষুধ দিয়ে কৃষক বাবুলের ফসলী জমির ধান নষ্ট করার অভিযোগে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে একটি সুবিচার কামনা করেও ব্যর্থ হয়েছেন কৃষক।
বাবুল কৃষকের অভিযোগে সরজমিন না যাওয়া ও কৃষক মাঠে কৃষি অফিসার কে না ছিনার কারণ জানতে মান্দারী কৃষি অফিসে গিয়ে দেখা যায় চার টার আগেই সাড়ে তিনটার দিকে কৃষি অফিস বন্ধ। পরে উপ-সহকারী কৃষি অফিসার এর মুঠোফোনে কল করে জানতে চাইলে ইউনুস নবী তেলে বেগুনে আগুন,তিনি বলেন, কৃষকের সমস্যা হলে কৃষি অফিসে কে না জানিয়ে সাংবাদিক কে জানায় কেন। সাংবাদিক কি কৃষকের সমস্যা সমাধান করতে পারবে।
এমন বক্তব্যের জবাবে সাংবাদিকরা জানান,আপনাকে গত এক সাপ্তাহ হয় অভিযোগ দিয়েছেন কৃষক। কিন্তু আপনি সরজমিনে না যাওয়ার কারণে সেই ভুক্তভোগী কৃষক সাংবাদিক কে জানাইতে বাধ্য হয়েছে।সেটা কি কৃষকের অপরাধ! জানতে চাইলে কৃষি উপ-সহকারী ইউনুস নবী বলেন,আপনি আমাকে ব্ল্যাক ম্যান করার চেষ্টা করার কথা জানিয়ে তিনি তার দোষ শিকার না করে কৃষি অফিস ৪টার আগে বন্ধ হওয়া এবং কৃষকরা মাঠে না চিনার কারণ ও কৃষকের অভিযোগ পেয়েও ঘটনার স্থলে গিয়ে পরিদর্শন না করার অভিযোগে সত্য ঘটনা কে এড়িয়ে গিয়ে নিজে কে সাধুবাদ মনে করেছে।
মনে হচ্ছে, তিনি ভাজা মাছটাও উল্টে খেতে জানেন না, এতো সৎ এবং যোগ্য কৃষি অফিসার ইউনুস নবী কৃষক ধরদী।অথচ প্রতিটি গ্রীষ্ম মৌসুমে ও বর্ষা মৌসুমে কৃষি অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়ের থেকে কৃষকদের জন্য বিভিন্ন জাতের বীজ ও সার কীটনাশক ওষুধ আসে। কৃষক যদি কৃষি অফিসার কে না চিনেন তাহলে কৃষকের প্রশ্ন, সরকারি এইসব বীজ ও সার কীটনাশক ওষুধ উপ-সহকারী কৃষি অফিসার ইউনুস নবী কাকে দিচ্ছে।কৃষক বলেন, আমরা কৃষক হয়ে তাকে এই ফসলী জমির আসে পাশে দেখছি মনে হচ্ছে না সেই না-কি মান্দারী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার।
কৃষকদের অভিযোগ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে ভুল কৃষক দেখিয়ে তার পক্ষে কিছু রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের সাপোর্ট কারীকে দিচ্ছে সরকারি বীজ ও সার কীটনাশক ওষুধ। আমি বর্গা চাষী কৃষক হিসেবে ভুল কীটনাশক ওষুধ ব্যবসায়ী সততা ট্রেডার্স আমির হোসেন থেকে আমার এক একর ফসলী জমির ধানের ক্ষতি পূরণ ফিরে পেতে চায় আইনের বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেট ও কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে।
