সারিবদ্ধ গোছানো ১১২টি ঘরের বাইরে বাঁধা রয়েছে চলাচলের পথ

লেখক: Admin
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

রায়পুর প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থানার আওতায়ধীন ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরবংশী গ্রামে বেশ সমস্যায় রয়েছে সারিবদ্ধ গোছানো ১১২টি ঘরের বাইরে বাঁধায় চলাচলের পথ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারীমিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের অস্থায়ী বাসিন্দাদের ভোগান্তির শেষ নেই।”

আরও দেখা যায় ১১২টি পরিবারে রয়েছে প্রায় হাজারো সদস্য সংখ্যা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভূকছে এইসব অসহায় নিরীহ মানুষ গুলো। যদিও ১১২ টি ঘরের জন্য সরকারের দেওয়া হয় ১০টি বিষিদ্ধ পানির টিউবওয়েল কল।”

কিন্তু তার মধ্যে তিনটি টিউবওয়েল কল ব্যবহার করা অনুপযোগী হয়ে পড়েছে প্রায় এক বছর যাবত। দীর্ঘ এক বছর যাবত বিশুদ্ধ পানির সংকটে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হইতে দেখা যায় প্রতিনিয়ত। শুধু তাই নয়, আরো রয়েছে, বাস্তাহারাদের মৃত্যুর পরে দাফনের ব্যবস্থা না থাকায় অভিযোগ।

বাস্তহারা বাসিন্দা রফিক বলেন,কিছু দিন পূর্বে আমাদের মধ্যে থেকে চিরবিদায় নিয়ে দুনিয়ার মায়া ছেড়ে পরকালের দুনিয়ায় চলে গেছেন আমাদের একজন, আমরা তাকে দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে হয়েছে মাটি দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকার কারণে।”

পরে এখানকার স্থানীয় প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাদের পারিবারিক কবরস্থানে মৃত ব্যক্তি দাফন করি।নুর জাহান বেগম বলেন,আমাদের একটা পুকুর দরকার গোসলের ব্যবস্থা নেই, আমরা কলে গোসল করতে পারি-না। আমাদের জন্য যেন এসিল্যান্ড ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় একটি পুকুরের ব্যবস্থা করেন।

এদিকে দুই সারিতে নির্মাণ করা হয়েছে ১১২টি ঘর। ঘরগুলোতে রীতিমতো বাসিন্দারা বসবাস করছে। এখানকার স্থানীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা বেশিরভাগই দিনমজুর,শ্রমিক ও ক্ষুঁদ্র ব্যবসায়ী। রুজি রোজগারের জন্য তাদের রিক্সা, ভ্যান নিয়ে প্রতিদিনিই বেড়িয়ে পড়তে হয়। কিন্তু আশ্রয়ণ এলাকা থেকে বের হতে তাদের বেশ কষ্ট পেতে হয়।”

কারীমিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পটিতে রয়েছে উত্তর দক্ষিনে দুটি গলিতে প্রায় ৬০০ ফুট করে ১২০০ ফুট কাঁচা রাস্তা। সলিংয়ের সংকটে ভুক্তভোগী অভিযোগ করে দৈনিক লক্ষ্মীপুরের কথা কে জানান,কাঁচা রাস্তায় চলাচলের পথে সলিংয়ের সুব্যবস্থা করা আমাদের জন্য জরুরী।”

বর্ষা বাদল হলে কলোনীর কাঁচা রাস্তা পানিতে মাঝে মাঝে ডুবে গিয়ে বড় বড় গর্তে রূপ ধারণ করে। তখন চলাচলে খুবই সমস্যা হয়। অনেক সময় রিক্সা ভ্যান বের করা যায় না।”

কারীমিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা দীল জাহান বেগম বলেন, আশ্রয়ণ ঘর করে দিয়েছে প্রায় ৫ বছর হয়েছে। কিন্তু সরকার এখানে চলাচলের রাস্তা দেয়নি। রাস্তার জন্য ইউএনও, অ্যাসিল্যান্ড, স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে একাধিকবার গিয়েছে তাতে কোন লাভ হচ্ছে না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কেউ অসুস্থ হলে তাকে কাধে করে প্রায় ৩০০ ফুট বয়ে নিয়ে তারপর রাস্তার ওপরে তুলে গাড়িতে নিতে হয়।”

আরেক বাসিন্দা জাহানারা বেগম বলেন, রাস্তার অভাবে চলাচলে সমস্যা ছেলে-মেয়েরা স্কুল, কলেজে যেতে লোধ কাদার উপর দিয়ে যায়।”

আরেক জন কারীমিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সৈয়দ আহমেদ বলেন,কাঁচা রাস্তা সলিং না থাকায় বাড়িতে ভ্যান আনতে পারি না। ভ্যানে কাচের সব জিনিস পত্র থাকে সামান্য আঘাত পেলেই ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বাজারেই অনিচ্ছা সত্বেও রেখে আসতে হয়।

আরেক বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের উচ্চ মহলের কাছে দাবী অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন তাদের কাঁচা রাস্তা সলিংয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।”

কারীমিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের অস্থায়ী বাসিন্দাদের সমস্যা সমাধ বিষয়ে জানতে চেয়ে ভুক্তভোগীদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন দৈনিক লক্ষ্মীপুরের কথা পত্রিকার সম্পাদক,রাকিব হোসেন সোহেল।

একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দৈনিক লক্ষ্মীপুরের কথা কে বলেন, কারীমিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের অস্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে থেকে তাদের সমস্যার কথা লিখিত আকারে জানাতে হবে। তাহলে সরজমিনে গিয়ে তাদের সমস্যা গুলি সমাধ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।

 

📢 আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর:

👉 বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন