রায়পুরে দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে ডাকাতিয়া নদী

লেখক: Admin
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

দুর্জয় হোসেন চাঁন মিয়া

 

রায়পুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বর্তমান পরিস্থিতি দূষণে অস্তিত্ব-সংকটে পড়েছে ডাকাতিয়া নদী। একসময়ের খরস্রোতা ডাকাতিয়া নদী এখন যৌবন হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় তলদেশ ও দুইপাড় ভরাট হয়ে গভীরতা কমে নদীটি আজ মরা খালে পরিণত হয়েছে। ডাকাতিয়া নদীকে দ্রুত প্রভাবশালীদের কবল থেকে মুক্ত করে খননের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অন্যদিকে প্রভাবশালীদের হাতে চলছে নদী দখলের মহোৎসব। অনেকেই নদীর ভেতর গড়ে তুলেছেন দোকান, ঘরবাড়ি। পাশাপাশি পৌর শহরের সব বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে এই নদীর তীরে। এতে নদীর পানি শুধু দূষিতই হচ্ছে না, বরং বাতাসে ছড়াচ্ছে বিষবাষ্প। কালের সাক্ষী হয়ে এখনো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বয়ে চলছে একসময়ের খরস্রোতা ডাকাতিয়া নদী।

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ডাকাতিয়া নদীকে ঘিরেই রায়পুরের কৃষি ও কৃষিভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশ। আজকে রায়পুর যে কারণে বিখ্যাত, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এত গুরুত্বপূর্ণ, তার প্রধানতম কারণ হচ্ছে ডাকাতিয়া নদী। এই নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল এশিয়ার সর্ব বৃহত্তম রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র। প্রতি বছর এখানে অবমুক্ত করা হতো লাখ লাখ রেণুপোনা, যা মুক্ত জলাশয়ে মাছের চাহিদা পূরণ করত।

সেই সঙ্গে জীবিকার প্রধান অবলম্বন ছিল এ উপজেলার বিশাল জেলেপল্লির মানুষ। আজ তারা তাদের ঐতিহ্যের পেশা ছেড়ে দিয়ে বর্তমান প্রজন্মকে বিভিন্ন পেশায় অভ্যস্ত করছে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে।

ডাকাতিয়ায় একসময়ে সেই সুদূর ঢাকাসহ সারা দেশ থেকে পণ্য পরিবহন করা হতো। ছিল যাত্রীবাহী লঞ্চঘাট, আর আজ ডাকাতিয়া শুধুই পৌরবাসীর বর্জ্যের ভাগাড়। হারিয়ে ফেলেছে তার স্রোত, স্বচ্ছ পানির কলকল ধ্বনি। এখন আর শোনা যায় না মাঝি-মাল্লাদের ভাটিয়ালি, জারি-সারি গানের সুর। দেখা হয় না দাঁড় বেয়ে চলা রঙিন পালতোলা নৌকা। নদীতীরের বিশুদ্ধ বাতাস আজ রিতিমতো দুঃস্বপ্ন। দুর্গন্ধে আজ নাক চেপে হাঁটতে হয় নদীর পাড়ে। ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ডাকাতিয়া নদীর পানি। প্রভাবশালীদের হাত থেকে দখলমুক্ত ও দ্রুত খনন করে ডাকাতিয়া নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুসা বলেন, নদীটির নাব্য ফিরিয়ে আনতে খনন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান খান বলেন, নদী দখলমুক্ত করার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। নতুন করে কেউ দখল করতে চাইলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

📢 আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর:

👉 বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন