
রামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার আওতায় দিন ৩ নং ভাদুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড উত্তর গ্রাম সাগর খানের বাড়ীর বাসিন্দা মকবুল আহমেদ এর ছেলে সাগর খানের ক্রয় খরিদ কৃত সম্পত্তি জোর পূর্বক সন্ত্রাসী কায়দা করে দখল দেওয়ার চেষ্টা নাল জমি মাটি দিয়ে ভরাট করে তাজুল ইসলাম নামের এক ব্যাক্তি। এমন অভিযোগ করেন মকবুল আহমেদ তার ছোট ভাই তাজুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে।
মকবুল আহমেদ সাংবাদিকদের জানান,আমরা ৬ ভাই তার মধ্যে আমি একজন মকবুল আহমেদ। আমার ছেলে সাগর খান আমাকে তার উপার্জনের বহু টাকা আমার পিছনে ব্যয় করেছে। এমনিতে আমি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত। আমার ভাইয়েরা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েও আমার খোঁজ খবর নেন-নি। কেবল বাবার দেওয়া ওয়ারিশ সম্পত্তি দখল দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠছে ছোট ভাই তাজুল ইসলাম।আমি তাদের কে জমি দি-নাই দেখে আমাকে কয়েকবার মারধর করেছে। তাদের হাতে মার খেয়ে এখন আমি ক্যান্সারে আক্রান্ত।
তিনি আরও বলেন, আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র আমার ভাইয়েরা দ্বায়ী। আমি তাদের কে কখনো ক্ষমা করবো না। তারা আমার ঘরে এসে আমাকে হুমকি প্রদান করে, এবং আমার অসুস্থ শরীরে গায়ের দিকে তেড়ে আসে দ্যাঁ, ছেনি, কুড়াল, লাঠি ও হকিস্টিক নিয়ে। আমার বাবার সন্তান হিসেবে যতটুকু সম্পত্তি পাওয়ার কথা, ততটুকু সম্পত্তি আমার ছেলে সাগর খান কে রামগঞ্জ সাব- রেজিস্ট্রার অফিসে গিয়ে সাব- রেজিস্ট্রার এর মাধ্যমে সাব কাওলা দলিল মূলে আমি দলিল দাতা পাঁচ দশমিক পাঁচ তিন শতাংশ জমির মালিকানা থেকে পাঁচ দশমিক তিন চার শতাংশ জমি রেজিষ্ট্রেশন করে দিয়েছি।

২১নং উত্তর গ্রাম মৌজার ২৫- ২৩৮ নং খতিয়ান ভুক্ত সি এস সাবেক দাগ ১৩৩,১৩৩,ও ১৩৭ দাগের আর এস হাল দাগ ১৪৫,১৪৬,১৫৫ দাগ।যাহার দলিল নং- ৯০৭ জমির পরিমাণ পাঁচ দশমিক তিন চার শতাংশ জমির বর্তমান মালিক সাগর খান। যেহেতু সাগর খান আমার ছেলে না হলেও সেই আমাকে নিজের পিতার মতো করে লালন পালন করেছে।এখনো করে,আমি তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে আমার চিকিৎসা বাবদ নগদ ১২ লাখ টাকা নেওয়ার পরিবর্তে তাকে গ্রহীতা করে পাঁচ দশমিক পাঁচ তিন শতাংশ এর মধ্যে পাঁচ দশমিক তিন চার শতাংশ জমি আমার নামের পরে তাহার নামে দিয়ে থাকি। বর্তমানে সাগর খান আমার সকল স্ব-সম্পত্তির মালিক হবে আমার মৃত্যুর পর।এতে আমার বিক্রি করা সম্পত্তিতে পূর্বের সংসারে ছেলে বা মেয়ে কেউ এসে দাবী করিলে তায় গ্রহণ যোগ্য হবেনা বলে জানান তিনি।
সাগর খানের মা গর্ভ ধারণী সাংবাদিক দের বলেন, আমার ছোট দেবর তাজুল ইসলাম আমার স্বামী কে দফায় দফা মারধর করেছে। আমি মহিলা হয়ে কিছুই করতে পারিনি। তাজুল ইসলাম এর ছেলে আমার গায়ে হাত তুলছে।সেই না কি সেনাবাহিনীর কনস্টেবল এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশীদের মাঝে পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছে। ছেলে সেনাবাহিনীর কনস্টেবল বাবা রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর সহকারী এইচ ও তাদের অহংকার আর টাকার ক্ষমতার কাছে জিম্মি এলাকার মানুষ।
ভুক্তভোগী সাগর খান সাংবাদিকের মুঠোফোনে জানান,আমি নগদ টাকা ১০ লাখ টাকা দিয়ে বাবার কাছ থেকে খরিদ করেছি পাঁচ দশমিক তিন চার শতাংশ জমি।এখন আমি হামলা মামলার শিকার। আমার প্রতি পক্ষ তাজু ইসলাম আমার অসুস্থ বাবাকে হত্যার হুমকি প্রদান করে। এবং আমাকে অস্ত্র মামলা দিয়ে জেল হাজতে নেওয়ার হুমকি দেন প্রতিনিয়ত।
এবিষয়ে আমার মা হাজেরা বেগম কে বাদী করে লক্ষ্মীপুর জেলা জজ কোটে হাজির হয়ে এই মর্মে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রামগঞ্জ শাখায় একটি মিছ মামলা দায়ের করা হয়। যার মিছ মামলা নং- ২৩৮ /২০২৫ ধারা ১৪৪/১৪৫ ফৌঃ কাঃ বিঃ অনুযায়ী বিবাদী তাজু ইসলাম এর বিরুদ্ধে। ঐ মামলার তদন্তের ভার পড়ে রামগঞ্জ ভূমি কর্মকর্তা এসিল্যান্ড মহোদয় এর নিকট। তিনি আরও বলেন,বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়াদিন রয়েছে। অভিযুক্ত তাজু ইসলাম রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী এইচ-এ,ও রামগঞ্জ রাজনীতি যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক তাজু ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি দখল দেওয়ার চেষ্টা করছিনা,এ ঘটনা সত্য নয়। আমার আপন ভাই মকবুল আহমেদ এর সাথে আমাদের মালিকানা ওয়ারিশ কৃতক দখল কৃত সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা বিরোধ চলে আসছে।
এছাড়া আমি আমার চাচির কাছ থেকে সাড়ে দশ শতাংশ জমি খরিদ করেছি। এখানে সাগর খানের কোনো খরিদ করা সম্পত্তি নেই,যায় কিছুই আছে তা আমরা ৬ ভাইদের ওয়ারিশ সম্পত্তি। আমি আমার খরিদকৃত সম্পত্তির মধ্যে মাটি দিয়ে নাল জমি ভরাট করেছি। এছাড়া ভাই মকবুল আহমেদ তিনি অসুস্থ্য থাকা কালীন সময়ে আমার বড় ভাই ও আমার নিকট জমি বিক্রি করার কথা বলে নগদ টাকা নেওয়া হয়েছে কয়েকবার। বড় ভাইদের সাথে যোগাযোগ হয়েছে তারা ঢাকায় থেকে আসলে এলাকার গণ্যমান্য উপস্থিতিতে সমাধানে আশা হবে।
সেই বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। আপনি কেন আপনার L সাইজ জায়গায় মাটি দিয়ে ভরাট না করে সাগর খানের নাল জমিতে মাটি দিয়ে ভরাট করেছেন।এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আবারও জানান,জায়গার মালিক মকবুল আহমেদ আমার ভাই। আমি ও আমার বড় ভাইদের নিকট হতে জমি দেওয়ার কথা বলে ভাই মকবুল আহমেদ কে বিভিন্ন সময় নগদ টাকা দিয়েছি কয়েকবার। এখন ওই জমি না দিয়ে কি করে জমি বিক্রি করেন ভাই মকবুল আহমেদ, তার পালিত সন্তান সাগর খানের নিকট। তাজু ইসলাম আরো বলেন, সাগর খান কোনো জায়গার মালিক নয়,মালিক আমরা নিজস্ব ৬ পরিবার। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় সাগর খান গংদের দলিল ও খতিয়ানের চৌদ্দীতে রয়েছে square size, জমির পরিমাণ পাঁচ দশমিক তিন চার শতাংশ জমি। তাজু ইসলাম গংদের দলিলে রয়েছে Lসাইজ প্রকৃত পক্ষে দলিল সূত্রে অনুযায়ী তাজু ইসলাম গংরা।তিনি Lসাইজ মাটি দিয়ে ভরাট না করে স্কয়ার সাইজের মাটি দিয়ে সাগর খানের জায়গায় ভরাট করে বির্তকের সৃষ্টি করে যা সরেজমিনে সত্যতা পাওয়া গেছে।
তবে বর্তমান তাজু ইসলাম ও প্রবাসী সাগর খানের মধ্যে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আসংখ্যা রয়েছে। অভিযুক্ত তাজু ইসলাম পূর্বের ক্ষোভ প্রকাশের ধরে ভুক্তভোগীর বাড়িতে যেকোনো সময় হামলা ঘটনা ঘটার সম্ভবনা রয়েছে। তবে বেশির ভাগই দুই পক্ষের মধ্যে হামলা শিকার হয়ে খুন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। এমন অভিযোগে রামগঞ্জ থানার আওতায় দিন কেথুড়ি গ্রামের কেথুড়ি বাজারে স্থানীয় অপরিচিত প্রতিবেশী লোকজনের সঙ্গে মৌখিক আলোচনা করে কথা বলে স্বাস্থ্য সহকারী এইচ এ তাজু ইসলাম এর সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায় অসংখ্য অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তাজু ইসলাম এর বিরুদ্ধে।
অসংখ্য সাধারণ জনতা জানান,করোনা কালীন সময়ে করোনা টিকা দিতে গিয়ে নগদ পাঁচ হাজার টাকা দাবী করে জোর পূর্বক তাজু ইসলাম। শুধু তাই নয় ঐ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাজু ইসলামের বিরুদ্ধে ঐ ভুক্তভোগী ৩নং ভাদুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর নিকট অভিযোগ দেন।ঐ অভিযোগে দুই পক্ষের বৈঠক বসার সিদ্ধান্ত হয়।কিন্তু তাজু ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদে না যাওয়াতে সমাধান আর হয়নি।এক পর্যায়ে ঐ ভুক্তভোগীর ছেলে ফেইসবুক পেইজ পোস্টে এসে একটি লিখিত পোস্ট ভাইরাল করে স্বাস্থ্য সহকারী এইচ এ তাজু ইসলাম এর বিরুদ্ধে। যার ফলে কেথুড়ি বাজারের অপরিচিত স্থানীয় প্রতিবেশী লোকজনেরা প্রমাণ সহ দেয় সাংবাদিকদের নিকট তাজু ইসলাম এর বিরুদ্ধে দেওয়া পোস্ট।
এছাড়াও আরও রয়েছে সেনেটারী টয়লেট দেওয়ার কথা বলে নগদ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনদের। তবে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীদের দাবি এই মামলার বিচারকদের সঠিক তদন্ত করে সাগর খানের সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া একান্ত আবশ্যক ও জরুরী। না হলে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত কারীদের মধ্যে হামলা শিকার হইতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশী ও পথচারীরা।
