
হোসেন চৌধুরী
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা চররুহিতা ইউনিয়ন এর রসুলগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষক কে বিদায় সম্মাননা দিলো,২৪/০২/২০২৫ ইং তারিখে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা চররুহিতা ইউনিয়ন রসুলগঞ্জ বহু মুখি উচ্চবিদ্যালয়ের নবগঠিত আহবায়ক কমিটি
৯ শিক্ষক সম্মানা বিদায়, লাইব্রেরী উদ্বোধন, এবং বার্ষিক ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক পুরুস্কার বিতারন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলার বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্টেট ও জেলাপ্রশাসক রাজিব কুমার সরকার, বিশেষ অতিথি ছিলেন জামশেদ আলম রানা, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সভাপতিত্ব করেন রসুলগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের এর আহবায়ক , ইউনিয়ন এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন। অনুষ্ঠান শুরুতে জেলা প্রশাসক এর আগমনে বিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রীদের প্যারট, কুসকাওয়াজ, লাইনে সারিবদ্ধভাবে ফুলের উষ্ণ অভ্যর্থনা, কমিটির সকলে ফুল দিয়ে জেলাপ্রশাসক ও উপজেলা কর্মকর্তােকে বরন করে নেন, জেলাপ্রশাসক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি পিতা কেটে উদ্বোধন করেন, এবং বই গুলো ও লাইব্রেরীর আসবাব পত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম পরিদর্শন করেন, জেলাপ্রশাসক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি উদ্বোধন শেষে অনুষ্ঠানে বলেন লক্ষ্মীপুর জেলায় আমার কর্মরত বিভিন্ন বিদ্যালয় ভিজিটের মধ্যে এই বিদ্যালয়টি পেয়েছি সবচাইতে সুশৃঙ্খল পরিপাটি বিদ্যালয়ে আসার পর আমার মনটা ভালোহয়েগেলো আজকে আমার সরকারি অনেক কর্মসূচী আছে তবুও তোমাদের সাথে একোত্রিতো হতে পের আমার ভীষন ভালোলাগলো।সবচাইতে সাজানো গুছানো একটি বিদ্যালয়, তিনি বলেন আমি সকল ছাত্রী দের কে বলি মনোযোগ দিয়ে শুনো, তোমরা জানো পড়া লেখা চাকরি, বিবাহ, সংসার এর পর মৃত্যু , এটাই কি শেষ? এটাই কি জীবন? না এর মাঝে ও একটা দীর্ঘ সময় আছে, এর পর ও একটা অমৃত জীবন আছে যে সময় টা হলো তোমাদের অর্জন, তোমরা এমন জীবন গঠন করবে যে জীবনে তোমাদের কর্মের মাজে তোমারা বেঁচে থাকবে যুগ যুগান্তর।আমি যতেোদিন এই জেলায় আছি ততোদিন এই বিদ্যালয় এর বিভিন্নরকম সমস্যা সমাধান সহ উন্নয়নে সহায়তায় থাকবো, তোমরা মেয়েরা অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ের পিড়িতে বসবেনা, তোমাদের উপর যদি কেউ জোর করে তোমরা প্রয়জনে তোমদের শিক্ষকদের বলবে, উপজেলা ইউএনও আছে মনে রাখবে তোমাদের সহায়তা করতে সরকার আছে, জেলাপ্রশাসক আছে, তোমরা পড়ার লিখার প্রতি মনোযোগী হও, কেউ ডাক্তার, কেউ শিক্ষক, কেউ ইন্জিনিয়ার, উকিল, ডিসি এসপি হবে, মনে আশা রাখো, প্রত্যয় রাখো, একদিন সফল হবেই, বেশিদিন নয়, আজ তোমরা উচ্চবিদ্যালয়ে, এর পর কলেজ এরপর ইউনিভার্সিটি এর পর তরুনদের বাংলাদেশ, তোমাদের জন্যা বাংলাদেশ তেমারাই পারবে এই দেশটাকে গড়তে
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সদর জামশেদ আলম রানা বলেন আজ আমি অত্যান্ত আনন্দিত আবেগাপ্লুত, রসুল গঞ্জ বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রছাত্রী তোমরা পরিপার্টি এমন একটা সুন্দর আয়েজন করেছো। বিশেষ করে আমি ধন্যাবাদ জনাই বিদ্যালয়ের কমিটিকে, সকল ছাত্র ছাত্রী দের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে তোমরা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবে বাবা মায়ের আদেশ মানবে, তোমরা শিক্ষার্থীরা জানো ১৫ থেকে ২৮ পয্যন্ত সবাই যুব শ্রেনীর, আজকের এই লাইব্রেরি, অভিভাবক এবং ছাত্র শিক্ষক সকলে মিলে যে সমাবেশ করেছো এতো বড় সুশৃঙ্খল সমাবেশ লক্ষ্মীপুরে আমি আর দেখিনি তার জন্য তোমাদের এবং আয়োজকদের অভিনন্দন জানাই, আজকে যে লাইব্রেরি উদ্বোধন হলো তোমরা এখানে কমপক্ষে ১ ঘন্টা করে প্রতিদিন সময় দিবে বই পড়বে,তারুন্যে কে কাজে লাগাবে তারুন্য আর যুবরাই দেশ গড়বে, এই দেশ তোমাদের তোমরা এমন কিছু করবে যেন সবাই এদেশকে বিশ্বের কাছে উঁচু করে জানান দিতে পারি, দেশ পরিচিত হলে তোমরা পরিচিতি হবে দেশের স্বার্থে নিজের স্বার্থে নিয়মিত পাঠ্য বই এর পাশাপাশি বই পড়বে, ইভটিজিং, বাল্য বিবাহ মাদক আড্ডা নেশাকে না বলবে। সভার
সভাপতি সালাহউদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, স্যার আজকে যে অনুষ্ঠান এটা শিক্ষকদের বিদায়ী অনুষ্ঠান কে ঘিরে আমরা একত্রিত করেছি বিদায় অনুষ্ঠান, ছাত্র ছাত্রী দের সচেতনতা, লাইব্রেরি উদ্বোধন, এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পুরস্কার বিতরণ। দীর্ঘ ১৫ বছর এই বিদ্যালয়ে পর পর কয়েকজন অর্থাৎ ৭ জন শিক্ষক ১ জন অফিস সহকারী একজন ৪ র্থ শ্রেনীর কর্মকর্তা অবসরে গিয়ে ছিলো। কিন্তু কাউকে আত্মমর্যাদা সহিত সম্মানের সঙ্গে বিদায় দেওয়া হয়নি, এখানে ছিলো দুর্নীতি আর কতৃত্ববাদি, কোন সুশৃঙ্খল ছিলোনা। কোন নিয়ম মানা হতো না, শিক্ষকদের সঠিক বেতন ভাতা প্রদান করা হতোনা, আমি আহবায়ক কমিটির দায়িত্ব পাওয়ার পর নিয়ম নীতি সুশৃঙ্খলায় এনেছি, বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে শিক্ষকদের বেতন বাড়িয়েছি, ১১ লক্ষ টাকা ব্যায়ে একটি লাইব্রেরি করেছি ছাত্র ছাত্রীদের জ্ঞান চর্চার জন্য, বিদ্যালয়ের যে ভবনটি দেখেছেন সেই জমি টি এখনো রেষ্টুরি করা হয়নি, রেস্টুরি করার সিদ্বান্ত ও দিন তারিখ ধায্য করেছি এই জমিটা নিয়ে ও ভেজাল রেখে দিয়েছিলো পুর্বের কমিটি জমির মালিককে তার পাওনা বুজিয়ে দেয়নি, বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান কিভাবে আরে বৃদ্ধি করা যায় তার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট শিক্ষকদের একটি কমিটি করেছি। ১ টি ফুলের বাগান করেছি, বিভিন্ন সমস্যা নিরশনের জন্য একটি হোয়াটস এ্যাপ গ্রুপ খুলেছি যাতে ছবি ও ভিডিও এর মাধ্যমে তা দেখে সচেতন হয়ে কাজ করা যায়, প্রতিদিনের কাজের গাইড লাইন তৈরি করছি, আমাদের এখানে নদীর এপাশ বেড়ি বাঁধ এলাকা প্রত্যান্ত অঞ্চল দারিদ্র্য সিমার নিচে মানুষের বসবাস, এই গরিব পরিবারের ছেলেমেয়ে গুলোই বেশি আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী এদের অর্থের মান বাছাই করে বেতন ভাতা মওকুপের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিদ্যালয়ে কয়েকটি পরিত্যাক্ত ভবন আছে এগুলো সংস্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্যার আমাদের এই বিদ্যালয়ে পিছনে একটি পরিত্যাক্ত জির্ন শির্ন একটা অডিটোরিয়াম আছে যা পরিত্যাক্ত, আপনার আর্থিক সহায়তা ফেলে অডিটোরিয়াম সংস্কার করে আমরা এখানে সভা সেমিনার করবো বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী রা যেন উন্নত বড় বড় প্রতিষ্ঠান এর বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দেখতে পারে প্রজেক্টরের মাধ্যমে সেই লজিস্টিক সাপোর্ট সহায়তা স্যার আপনি আমাদের দিতে হবে। সভাপতি সালাহ উদ্দিন বিদায়ী সকল শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে করে বলেন আপনারা যতদিন বেঁচে থাকবেন ততোদিন এই বিদ্যালয়ে আসবেন, প্রতিটি অনুষ্ঠানে আপনারা আমন্ত্রণ পাবেন। প্রত্যেক শিক্ষক, অভিভাবক, ছাত্র ছাত্রী দের উদ্দেশ্য করে বলেন লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রতাপ গঞ্জ রেজাল্টের জন্য সব বিদ্যালয়ের ছেয়ে এগিয়ে আছে শতভাগ পাশ ৫০% এ এবং এ প্লাস উত্তির্ন হয়ে আসছে, আমি যতদিন দায়িত্বে আছি ততোদিন আমি এই বিদ্যালয়কে প্রতাপ গঞ্জের মতো করে গড়ে উঠাবো, শত ভাগ পাস ও এ প্লাস উত্তির্ন হয়ে যেন গড়ে আসে সব ম্যাকানিজম করবো, ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিদ্যালয় পরিচালিত হবে, সকল প্রকার পড়া লিখা বই পত্র এমন কি বিদ্যালয়ের সংকট শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে, বিদ্যালয়ে আরো সুন্দর আদর্শ বিদ্যালয় পরিচালনা করা হবে, ইভটিজিং এবং বাল্যবিবাহরোধ করে গড়বো যদি অভিভাবক এবং ছাত্র শিক্ষক সকলে মিলে আমাকে সহোযোগিতা করেন।
তিনি বিদায়ী শিক্ষকগনকে সকলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন বিদায়ী শিক্ষকরা হলেন
১/ মাস্টার রুহুল আমিন ভুঁইয়া, সহকারী শিক্ষক, ২/হেলাল উদ্দি, প্রধান শিক্ষক, ৩/ ভুপেন, নারায়ন দাস স: শি: ৪/রনজিত চন্দ্র মজুমদার সহ: শি:, ৫/ বাবুল চন্দ্র চক্রবর্তী,সহ : শিক্ষক ৬/ শহিদ উদ্দিন স: শি: ৭/ কামাল উদ্দিন সহ: শি : । ৮/ আমানত উলল্যা অফিস সহকারী ৯/ আবদুল আজিজ ৪তুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী
সকল শিক্ষকগনকে ছাত্র ছাত্রী রা কুচকাওয়াজ, ও প্যারটের সালাম প্রদর্শন করেন, ছাত্র ছাত্রী রা একে একে ফুলের মালা শিক্ষকের গলায় দিয়ে , ফুলের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান, প্রধান শিক্ষক আবু মোহাম্মদ আবু আবদুল্লাহ এবং আহবায়ক সালাহউদ্দিন বিভিন্ন উপহার ও সম্মাননা সৃতি উপহার বিদায়ি শিক্ষক গনের হাতে তুলে দেন, অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন অশ্রুজলে বক্তব্যে বলেন বয়সের শেষে এসে শিক্ষকতার পরিসমাপ্তিতে এসে কি পেয়েছি, অসম্মান, অমর্যাদা, বিদ্যালয়ের পুর্বের কমিটির সভাপতি আমাকে ধমক দিতো, জোর পুর্বোক রেজুলেশন, রিসিট এবং বিভিন্ন বিলের কাগজে স্বাক্ষর করাতো।আমি ছিলাম অসহায় এর মতো, কোন মত প্রকাশের স্বাধীনতা আমার ছিলোনা, ভয় আর ভয় আতংকের সাথে শিক্ষকতার দায়িত্বে ছিলাম, সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে প্রায় সময় পুর্বের সভাপতি কবির পাটোয়ারি আমাকে হুমকি ধামকি দিতো, আধিপত্য বিস্তার করতো। উল্লেখ থাকে যে কবির পাটোয়ারি ছিলো ইউপি চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, তার ভাগিনা এড: নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন (এমপি) এবং সাধারন সম্পাদক লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের এই প্রভাব গুলো কবির পাটোয়ারি সব খানে খাটাতো বলে শিক্ষক অভিভাবকের অভিযোগ, একে একে সকল শিক্ষক গন তাদের মনে জমানো আবেগ আপ্লুত কন্ঠে কথা গুলো বক্তব্যে তুলে ধরেন সকল শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুর্বে ক্লাসে শিখাতে গিয়ে ভুল করে আঘাত বাথা দেওয়ার ক্ষমা চেয়ে নিলেন। আজ সকল শিক্ষক খুশি আনন্দিত জীবনের শেষে এসে আর চাওয়ার কিছুই নেই, এই সম্মানই যেন তাদের শেষ ইচ্ছে ছিলো। বিদ্যালয়ের সভাপতি সালাহউদ্দিন এবং প্রধান শিক্ষক আহাম্মদ আবু আবদুল্লাহ সকল বিদায়ী শিক্ষক কে এবং আমন্ত্রিত অতিথি দেরকে নিজ হাতে আপ্প্যায়ন করেন এবং বিদ্যালয়ের গেট পয্যন্ত সকল শিক্ষাগুরুকে এগিয়ে দিয়ে আসেন।অনুষ্ঠানে সঞ্চালন করেন বিদ্যালয়ের সহকার শিক্ষক হুমায়ুন কবির, উপস্থিত ছিলেন সকল ছাত্র ছাত্রী, অভিভাবক, সাংবাদিক, স্থানিয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব, প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্ডেন প্রাইভেট বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারি, সহ রসুল গঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের আহবায়ক কমিটির সদস্য, সকল শিক্ষক গন ও ইউপি পরিষদের সচিব সহ সকল গ্রাম পুলিশ।
এলাকার স্থানীয় জনতার মন্তব্য চমৎকার সুন্দর একটি আদর্শ সুশৃঙ্খল অনুষ্ঠান এর আয়োজন করেছেন বর্তমান রসুল গঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের আহবায়ক কমিটি।
