লক্ষ্মীপুরে পৌরসভার পার্কিং নামে সড়ক বন্ধ করে চলছে পৌরসভার নির্মাণ কাজ

লেখক: Admin
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ লক্ষ্মীপুরে এমনিতেই একটি ছোট সড়ক এর মধ্যে পথচারীদের চলাচলের পথ বন্ধ করে পৌরসভা পার্কিং  দেওয়ার নামে বাউন্ডারি চলছে দেওয়াল তোলা নির্মাণ কাজ।

সকলের পরিচিত মুখ হচ্ছে লক্ষ্মীপুর শহরে পৌরসভা উত্তর স্টেশন হইতে দক্ষিণ স্টেশন পর্যন্ত একটি মাত্র পাকা রাস্তা সড়ক।

আকাঁ বাঁকা পৌরসভার রয়েছে কয়েকটি পাকাঁ রাস্তার সংযোগ বাজার সড়কে মেইন পৌরসভার চকবাজারের মিল।  চলছে বাজার সড়কে প্রতিনিয়ত অটোরিকশা সহ ছোট ও মাঝারি ধরনের বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল। যার ফলে প্রতিটি মুহূর্তে উত্তর স্টেশন হইতে দক্ষিণ স্টেশন পর্যন্ত, সড়কে জামজট লেগেই থাকে।

লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন থানা থেকে বিভিন্ন কাজে প্রয়োজনে আসা যাওয়া  হয় লক্ষ্মীপুর জেলা পৌরসভা বাজারে। লক্ষ্মীপুর জেলা হিসেবে সুপরিচিত একটি  মাত্র পৌরসভার বড় মেইন বাজার। উত্তর স্টেশন অথবা দক্ষিণ স্টেশনে আসার পরেই যানবাহন থেকে যাত্রীদের নেমে হেটে আসতে হয় বাজারের দিকে।

সওজ ও সড়কের আওতাধীন হচ্ছে পৌর আধুনিক বিপনী বিতান পৌরসভার নতুন মার্কেট এর সামনে পাকা রাস্তা সড়ক।  সেই জায়গার উপর দিয়ে পারাপার হইতে হচ্ছে বাজার মুখি পথচারীদের কে।

পূর্ব পাশে তার বিকল্প কোনো পথচারীদের চলাচলের পথ নেই। পাশে দিয়ে আসা যাওয়া করবে পথচারীরা,সেই চলাচলের পথ বন্ধ করার এমন দৃশ্য পড়ে সাবেক পৌরসভা সংলগ্ন সড়কের পূর্ব পাশে পৌর আধুনিক বিপনী বিতান মার্কেট এর সামনে।

বর্তমান আর এস রেকর্ড দারি অধিগ্রহণে ফাইনাল হয়ে আসা ছয় ফিট জায়গায় পৌরসভার থেকে কর্তন করে সড়ক ও জনপদের নামে রেকট জরিপে ফাইনাল হয়েছে বলে দাবি করেন বর্তমান মালিক সওজ ও সড়ক প্রকৌশলী বিভাগ।

সওজ ও সড়ক প্রকৌশলী সার্ভেয়ার সাইফুল ইসলাম দৈনিক লক্ষ্মীপুরের কথা কে জানান ,বর্তমান আর এস রেকর্ড দারি জায়গার মালিক সড়ক ও জনপদ। পৌরসভা নয়, পূর্বের মালিকানা দাবি করা আমি মনে করি বোকামি ছাড়া কিছু নয়।

পৌরসভা প্রশাসক,জেলা প্রশাসক মহোদয় ও পুলিশ সুপার মহোদয় সহ চারটি কার্যালয়ে ডাকে স্মারক কপি  প্রেরণ করা হয়েছে। যদি পৌরসভা স্মারক কপি পেয়েও বলে পায়নি, তাহলে বুঝে নিতে হবে তাদের দুর্বলতা আছে।

এর পরেও যদি কোনো অভিযোগ অথবা জায়গার মূল্য না পাইয়া থাকে, তাহলে জেলা প্রশাসক মহোদয় এর নিকট গিয়ে তাদের পাওনা বুঝিয়ে আনলেই হয়। তারা সড়ক ও জনপদের চলাচলের পথ বন্ধ করবে কেন।

পৌরসভার পার্কিং দেওয়ার এবিষয়ে দৈনিক লক্ষ্মীপুরের কথা জানতে চাইলে পৌরসভার প্রকৌশলী ভারপ্রাপ্ত সামছুল আলম বলেন,

এখানে পূর্বের পৌরসভার মালিকদের কয়েকটি বিল্ডিং ছিল, সেই সব বিল্ডিং ভেঙ্গে জনসার্থে ড্রেন করার জন্য পৌরসভার সহযোগিতা চেয়েছেন। পৌরসভা তখন কোনো অভিযোগ না করে জনসার্থে ড্রেন নির্মাণ কাজ করার লক্ষে সহযোগিতা করেন সওজ ও সড়ক প্রকৌশলী কর্মকর্তা কে। কিন্তু আমি পৌরসভা প্রকৌশলী সামছুল আলম ভারপ্রাপ্ত আর এস রেকর্ড দারি কে স্মারক কপি প্রদান না করে ছয় ফুট পৌরসভা জায়গা দাবি করে কিভাবে সওজ ও সড়ক প্রকৌশলী কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আর এস রেকর্ড সুত্রে বিনা নোটিশে পৌরসভার ছয় ফিট জায়গা সওজ ও সড়ক প্রকৌশলী সার্ভেয়ার সাইফুল ইসলাম দখলের উদ্দেশ্যে লাল চিহ্ন দেয়।যা দুই পক্ষে কে বিতর্কের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ও উদ্দেশ্য। বর্তমানে পৌরসভার জায়গায় পার্কিং এর কাজ শুরু করেছি,এখানে দোষের কিছু নেই। সওজ ও সড়ক প্রকৌশলী কর্মকর্তা অনুপস্থিত থেকে কি করে সম্ভব হচ্ছে স্মারক কপি প্রদান করা।

বিবাদী কে নোটিশ না করে,পুলিশ সুপার মহোদয় কে অনুলিপি দেওয়া কতটুকু গ্রহণ যোগ্য আছে তা আমার জানা নেই।যদি সওজ ও সড়ক প্রকৌশলী কর্মকর্তা পৌরসভার ছয় ফিট জায়গা নিয়ে থাকে,তাহলে তার মূল্য কোথায়, কাকে দিয়েছে সেই টাকা। পৌরসভার জায়গার কোনো মূল্য পায়নি। যার ফলে পৌরসভার জাগায় পার্কিং হবে। সওজ ও সড়কের ১৮ ফিট হতে ৩৬ ফিট পর্যন্ত তাদের দখলে আছে।

পৌরসভার নামে সওজ ও সড়ক প্রকৌশলী কর্মকর্তা ১৫ ফিট জায়গা দখলের অভিযোগে পৌরসভা প্রশাসক কে স্মারক কপি প্রদান করেন গত ১০/০৮/২০২৫ তারিখে। যাহার স্মারক নং-৩৫, ০১, ৫১৪৩, ৪৪১, ০৪, ০৪২, ২০২৫-৪২২১। উল্লেখ্য, নিয়মিত অটোরিকশা ভ্যান প্রাইভেট কার পুণ্যবাহী পিকআপ ও ট্রাফিক নিয়মিত চলাচল করে। সড়ক বিভাগীয়ধীন লক্ষ্মীপুর শহর সংযোগ (আর১৪৫) আঞ্চলিক মহাসড়ক ১ম কিলোমিটার সীমানা পৌর আধুনিক বিপনী বিতান মার্কেটের সামনে প্রাচীন নির্মাণ কাজ চলমান বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন সড়ক প্রকৌশলী বিভাগ লক্ষ্মীপুর।

উক্ত স্মারক কপির জবাবে পৌরসভার স্মারক কপি প্রদান করা হয় ১২/০৮/২০২৫ইং তারিখে সড়ক বিভাগীয়ধীন লক্ষ্মীপুর প্রকৌশলী কর্মকর্তার বরাবর।

যাহার স্মারক নং – ৪৬,৪২,৫১,৪৩,০০০,০১১,৯৯,০০,৩০,২৫-৮৯৩। উল্লেখ্য এল এ কেস নং-২১/৮০-৮১ মূলে১৬২৯৫,১৬২৯৮,১৬২৯৯,১৬,৩০০নং দাগে হুকুম দখল কৃত পৌরসভার ক্রয়কৃত ভূমি যাহা আর এস রেকর্ড মূলে১১০১৮ দাগে ৪০,৫০ শতাংশ পৌরসভা মালিকানাধীন রয়েছে। পৌর আধুনিক বিপনী বিতান ও সংলগ্ন জায়গা সওজ এর অধিগ্রহণ কৃত এল এ কেস নং- ১/২১-২২ এর অধিগ্রহণ রোয়েদাদ নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায় উক্ত দাগ সমূহ হতে কোনো ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়নি সড়ক বিভাগ।সওজ ও সড়ক প্রকৌশলী কর্মকর্তার স্মারক কপি অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে মন্তব্য করেছেন পৌরসভার প্রকৌশলী ভারপ্রাপ্ত সামছুল আলম।

কে নিবে পথচারীদের পথে চলাচলের দ্বায়িত্ব।দ্বায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন লক্ষ্মীপুর বাসীরা।

লক্ষ্মীপুরে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে পৌরসভা গাড়ি রাখার পার্কিং হবে বলে চলছে সড়কের উপর পৌরসভার  পার্কিং নির্মাণ কাজ। অথচ পৌরসভা পৌর আধুনিক বিপনী বিতান মার্কেটের নিচে রয়েছে একটি আন্ডার গাউন গাড়ির পার্কিং।নিচে আন্ডার গাউন গাড়ির পার্কিং থাকার সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের চলাচল পথ বন্ধ করে পৌরসভার পার্কিং নামে নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। দেখা যায় এখনো চলছে সেই অনিয়ম দুর্নীতি।

অবশেষে দেখার কেউ আর রইলো না। লক্ষ্মীপুর বাসীর অভিযোগ যে পরিমাণ পাকা সড়ক হওয়ার কথা ছিল, তা আর হয়নি,কি দরকার ছিল অসহায় নিরীহ ব্যবসায়ীদের বড় বড় ভবন ভেঙ্গে ফেলার। তবে ভবন ভেঙ্গে ফেলা মালিকদের দাবী যদি চলাচলের পথ বন্ধ করে সড়কের উপর পৌরসভার নামে পার্কিং করে, তাহলে আমরাও বাদ দিবো কি জন্য,শুরু হবে আমাদের ভেঙ্গে ফেলা ভবনের সামনের অংশ তোলা। তারা আরও বলেন, এমনিতেই সড়কের পাশের অনেক দোকানের মালিক একটু একটু করে রাতে তাদের ভেঙ্গে ফেলা অংশ উঠানো হয়েছে।

এখন যারা বাকী আছে তারা বাদ যাবে কেন,এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিচার করবে কে। বর্তমানে ভালো মানুষের দাম নেই, এই সমাজে আছে সব চোর চাপটাদের দাম। লক্ষ্মীপুরে এইসব অনিয়মের বিষয়ে প্রশাসনের চোখের নজরে পড়ে না। যদি পড়তো তাহলে দুর্নীতি বাজরা এগুলি করার সাহস করতো না। এক দলকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেও শান্তি পায়নি দেশের মানুষ। আরেক দল উঠে পড়ে লুটিয়ে ফুটিয়ে খাচ্ছে, আরও খাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের পিছনে উঠে পড়ে লেগেছে। সারাদেশে লুটের রাজ্য চলছে হত্যা, খুন, গুম,আর নির্যাতনের শিকারের খবর। তারা বলেন যদি ভাঙ্গা পর্যন্ত বাজার সড়ক রাস্তা পাকা না হয়। তাহলে কেনো আমাদের মত শতশত দোকান  ব্যবসায়ীদের ব্যবসার ক্ষতি করেছে।

এই ক্ষতি পূরণ চায়, দিতে হবে ভাঙ্গছে যে কর্তৃপক্ষ, তাকে দিতে হবে ক্ষতি পূরণ। রাস্তা সড়ক বাড়ানো নামে প্রতারণা করেছে আমাদের সাথে,মিথ্যা আর ষড়যন্ত্র করে আমাদের দোকান পাট ভাঙ্গা হয়েছে।  আমরা অবৈধভাবে দোকান পাট ভাঙ্গার বিরুদ্ধে উপযুক্ত বিচার প্রার্থনার দাবি জানাচ্ছি আইনের বিচারকদের নিকট।

এদিকে গড়ে উঠেছে ভ্যান যোগে অবৈধ ফুটপাত, ইজারা নেওয়ার নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যা দেখে কারোর মনে হবেনা সড়ক, বরং মনে হবে ফুটপাতের হাট-বাজার। এছাড়া যানবাহন চলাচলে যেমন ভোগান্তি বাড়ছে তেমনি দুর্ভোগ বাড়ছে স্থানীয়দেরও।

এই ফুটপাত দখল দেওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট আর ভোগান্তি। এই নিয়মকে পুরোনো নিয়ম বলছেন বিক্রেতারা। যানবাহনের চালক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের এমন দুর্বিষহ অবস্থার কেন অবসান হচ্ছে না সেটি জানেন না কেউ। এতে কিনতে আসা হচ্ছে পথচারীদের। আর যান চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সবাইকে।

অবৈধভাবে সড়কে চলমান পৌরসভা বাজারে কর্তৃপক্ষের কোনো হস্তক্ষেপ না থাকায় সড়কে দিন দিন বাড়ছে জামজট।
স্থানীয় ব্যবসায়িরা জানান, হাটবারে পৌরসভা শহর ক্রান্তিক হিসেবে  বেচাবিক্রি একটু ভালো হয়, আমাদের এমন অবস্থায় দোকান খোলা নিয়ে বিপাকে পড়েন তারা, তা সত্য। হাট শেষে অপরিচ্ছন্ন, নোংরা বর্জ্যের গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়তে হয় লক্ষ্মীপুর শহর বাসীদের কে। জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে যেনো পড়তে না হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন লক্ষ্মীপুর জেলা বাসীগণ।

📢 আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর:

👉 বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন