
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসের আওতাধীন ১৭ নং ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে কৃষি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলছে তালা। নেই কোনো তদারকি দায়িত্বে থাকা দুই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা।প্রতি বছরের মতো এবারও কৃষি পনোদানা পূর্ণ বীজ বিতরণের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে থাকা কৃষি অফিসে তালা ঝুলানো এমন দৃশ্য আসে চোখের নজরে। কৃষি অফিসটি বেশকিছু দিন ধরে খোলা না হওয়ার কারণে তালায় জং পড়া অবস্থা দেখা যায়।কৃষি অফিসের সামনে রয়েছে ময়লা আবর্জনা দরজায় থাকা শিকড় ও কড়ার উপর দিয়ে পড়ে থাকা কার্ডের পাউডার দেখা যাচ্ছে।এই কৃষি অফিসে কোন উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তার দ্বায়িত্বে রয়েছে,খোঁজতে গিয়ে জানতে পারি,কেউ বলতে পারেন-নি কে-বা কাহারা দ্বায়িত্বে আছেন।১৭ নং ভবানীগঞ্জ স্থানীয় প্রতিবেশি কৃষকরা জানান,১৭নং ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের একটি ব্লক কৃষি অফিস আছে কিন্তু দ্বায়িত্ব পালনে তারা কে বা কারা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নেই তাদের জানা।নাম ও পদ পরিচয় এবং কি কখনো এই ইউনিয়নে দেখেছেন বলে মনে হচ্ছে না কারোই। দীর্ঘ ৭ মাস পাড় হয়ে গেছে, এখন পর্যন্ত কৃষকদের জানা হয়নি উপসহকারী মাঠ কৃষি কর্মকর্তাদের নাম ও অফিস ঠিকানা। প্রতিটি ইউনিয়নের মতো ১৭নং ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে কৃষি অফিসের সু-ব্যবস্থা থাকার স্বর্থেও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল খালেক ইউনিয়ন কৃষি অফিসে না গিয়ে প্রতিদিন উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে বসে থাকেন ঘন্টার পর ঘন্টা প্রতিনিয়ত। আর দিকে ভবানীগঞ্জের কৃষকরা অফিস ঠিকানা জানতে চাইলে উপ-সহকারী কৃষি মাঠ কর্মী আবদুল খালেক তাদেরকে উপজেলা কৃষি অফিসের ঠিকানা দেয়।এবং বলেন, তাকে উপজেলা কৃষি অফিসে গেলেই দেখতে পাবেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অফিস না-কি তার ঠিকানা ও বসার কার্যালয় অফিস। তবে ইতি মধ্যে অনেক কৃষকরা তার কাছে পরামর্শ ও বিভিন্ন পনোদনা পূর্ণ বীজ নেওয়ার জন্য উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে তাকে খোঁজ করিলে জানা যেতো তার অফিস ঠিকানা ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের কৃষি অফিসে।তার খোঁজে তাকে না পেয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে ভবানীগঞ্জের স্থানীয় কৃষক’রা।এমন শত শত অনিয়মের অভিযোগ তুলেন কৃষি উপ-সহকারী কৃষি মাঠ কর্মী আবদুল খালেক এর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী কৃষকরা।আবদুল খালেক কৃষি উপ-সহকারী কৃষি মাঠ কর্মী হয়ে মানুষের কাছে পরিচয় দিচ্ছেন তিনি একজন উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা । যার ফলে কথায় কথা উপজেলা কৃষি অফিসে চলে আসতে হচ্ছে কৃষকদের।এইসব অভিযোগ শুনবার পরে কৃষি উপ-সহকারী কৃষি মাঠ কর্মী আবদুল খালেক কে অনেক খোজাখুজি করেও তার সন্ধান কোথাও পাওয়া যায়নি।যে কারণে তার মুঠোফোনে কল করে ঘটনার সম্পর্কে জানার জন্য তাকে কল করা হলে আবদুল খালেক কল রিসিভ করেন।এবং তাকে সালাম জানিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ঘটনার সম্পর্কে জানতে চাইলে আবদুল খালেক উত্তেজনা ভাষায় প্রশ্ন করেন কিসের সাংবাদিক, এসময় কর্মকর্তারা কোথায় থাকে আপনার জানা নেই বলে উত্তেজনা ভাষায় কথা বলার শেষে তিনি বলেন,আমি আমার অফিসে।কোন অফিসে আবারও জিজ্ঞেস করে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজনা ভাষায় বলে আপনে কোন অফিসে কল করেছেন,কৃষি অফিসে কল করেছি বলা হলে তিনি অফিসে আছেন বলেন।যখন সাংবাদিক মুঠোফোনে বলেন,আমরাই তো আপনার অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। তিনি বলেন, আমি আমার উপজেলা কৃষি অফিসে আছি। ভবানীগঞ্জ কৃষি অফিসের দ্বায়িত্বে কে আছেন জানতে চাইলে তিনি জানান,আমি ও আমার আরও এক উপ-সহকারী কর্মকর্তা দ্বায়িত্বে আছি। কিন্তু আমি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে বসি,ওটাই আমার অফিস ঠিকানা। আমার সাথে যিনি আছে তিনি সেই অফিসে বসেন।আজ কি কৃষকদের বীজ দেওয়া হচ্ছে জিজ্ঞেস করে জানতে চাইলে তিনি প্রশ্নের জবাবে বলেন, না এটা আমার অফিস।একপর্যায় উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে আবদুল খালেক কে খুজতে থাকে সাংবাদিকরা তাকে সেখানেও না পেয়ে আবারও কল করা হয় তার মুঠোফোনে। কল রিসিভ করে আসছি বলে দীর্ঘ ৩ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকা হয়েছে তার অপেক্ষায় সাংবাদিকদের কে। কিন্তু তার আসার নাম নেই। দফায় দফা কল করার পরে আবদুল খালেক সদর উপজেলা সিনিয়র উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কক্ষে আসলে তার সাথে সাক্ষাৎ করে জানতে পারি তার বাড়ি ১৭নং ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা বর্তমান কৃষি উপ-সহকারী কৃষি মাঠ কর্মী হিসেবে দ্বায়িত্ব পান তিনি।এছাড়া তিনি তার পরিবার সদস্যদের নিয়ে লক্ষ্মীপুর শহরে পৌরসভা বাসা ভাড়া করে বসবাস করেছেন। ভবানীগঞ্জে তার নিজ এলাকায় কৃষি অফিসে নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি সেখানে দ্বায়িত্ব পালন না করে লক্ষ্মীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অফিস ঠিকানা দিয়ে লক্ষ্মীপুরে ভাষা ভাড়া করে থাকা হচ্ছে তার পেশা আর নেশা। এদিকে ভবানীগঞ্জ কৃষি অফিসে কোন উপ-সহকারী কর্মকর্তা দ্বায়িত্ব আছেন,প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে তিনি জানান,ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে কোনো কৃষি অফিস নেই। ওটাকে কৃষি অফিস বলেনা,ওটার নাম হচ্ছে ব্লক অফিস। আমার ঠিকানা এখানে,আমার নিয়োগও এখানে। শুধু দ্বায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যায় ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে।তিনি আরও বলেন, ৩টি ওয়ার্ড আমার দ্বায়িত্বে আছে। আর বাকী গুলি আরও উপসহকারীদের দ্বায়িত্ব রয়েছে।ঐ অফিসে যাচ্ছেন না কেনো জানতে চাইলে তিনি জানান,মাঝখানে কিছু দিন আগে চেয়ারম্যান সাহেব ইউনিয়ন পরিষদে নির্মাণ কাজ করেছে। আমাদের কাছ থেকে কৃষি অফিসের চাবি নিয়ে গেছে। আমরা চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে চাবি কয়েকবার চাওয়া হয়েছে কিন্তু চাবি না দেওয়ার কারণে আমাদের ঐ অফিস বসা হচ্ছে-না। এবিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা জানেন, কি-না প্রশ্ন করে জিজ্ঞেস করিলে তিনি আবারও বলেন,আমাদের কর্মকর্তা কে কয়েকবার বলা হয়েছে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। কৃষকদের বীজ না দিয়ে স্টক করে ঘরে রাখা হয়েছে বিভিন্ন আইটেম এর বীজ।গোপনে খোঁজ নিলে মিলবে কৃষকদের সাথে প্রতারণার ঝাল জালিয়াতির গোপন তথ্যের আসল রহস্য । এছাড়া আসল কৃষকদের নিকট না গিয়ে রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন সমন্বয়কদের পরিচয়ে তাদের দেওয়া আইডি কার্ড দিয়ে দেওয়া হয়েছে নাম বিহীন মন গড়া কৃষকদের নামে বেনামে বিভিন্ন জাতের কৃষি বীজ পূর্ণ। পরবর্তী সংখ্যা দেখতে চোখ রাখুন দৈনিক লক্ষ্মীপুরের কথা ও জাতীয় পত্রিকায়।
