
পর্ব – ১
রায়পুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশীতে মাছঘাটের আধিপত্য বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। গতকাল শনিবার (১৬ মে) সকালে উপজেলার ২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের সাজু মোল্লার মাছঘাট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আহতদের মধ্যে রাব্বি (২২), ফরহাদ (২৭), সুমন (৩০) ও দেলোয়ার (৩২)-এর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা শফি উদ্দিন (৬০) অভিযোগ করে বলেন, একই ইউনিয়নের বিএনপি নেতা ফারুক সরদার, যুবদল নেতা আবুল কালাম আজাদ বলি এবং তারেক সরদারের নেতৃত্বে শতাধিক বহিরাগত লোক পরিকল্পিতভাবে মাছঘাট দখলের উদ্দেশ্যে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে রাব্বি ও ফরহাদসহ অন্তত ৮ জন আহত হন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রায়পুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মান্নান। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেয়।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বিএনপির ১নং ওয়ার্ড সহ-সভাপতি ফারুক সরদার বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে আমি এই ঘাটের মালিকানায় রয়েছি এবং কয়েকজনের সঙ্গে যৌথভাবে এটি পরিচালনা করে আসছি। আজকের ঘটনায় আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে মারামারি করেছে। বরং আমাদের পক্ষের দেলোয়ার ও সুমন আহত হয়েছেন।”
একইসঙ্গে অভিযুক্ত উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ (বলি) দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে জড়ানো হয়েছে। তিনি বরং সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন।
জানা গেছে, শফি সরদার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং মহিউদ্দিন গাজী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। অপরদিকে ফারুক সরদার একই ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি এবং আবুল কালাম আজাদ বলি উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত ৭ এপ্রিল ২০২৫ সালে উপজেলার মালেক খাঁ ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে স্পেনপ্রবাসী সাইজউদ্দিন দেওয়ান ও জসিম উদ্দিন বেপারী নিহত হন। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
