লক্ষ্মীপুরে ইকবাল ও বাহার কোম্পানীর পাহাড় ট্রলির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দশে পড়ার আশঙ্কা

লেখক: Admin
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুর সদর থানার আওতায়ধীন ২০নং চররমনী মোহন ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে ২টি ইটভাটার কারণে হুমকির মুখে রয়েছে করাতির হাট বাজারে যাওয়া পথে সরকারি বেড়ী খালের উপরে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ। এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশী গণ সাংবাদিকদের জানান,স্থানীয় গ্রাম কাঁচা ও পাকা সড়ক গুলোতে প্রতি বছরে গ্রীষ্ম মৌসুম কালে ইকবাল ও বাহার কোম্পানীর ২টি ব্রিকসে্ অতিরিক্ত মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। তারা আরো বলেন, পুলিশ সকালে এসে পাঁচ মিনিট ছিলেন, তারা চলে যাওয়ার পরে আবারো শুরু হয়েছে পাহাড় ট্রলি চলাচল। ইট ভাটার মালিক, ইকবাল ও বাহার দুই কোম্পানির এক একজনের ১২-১৫টি করে পাহাড় ট্রলি ও পিকআপ ট্রাক রয়েছে, যে কারণে সরকারি বেড়ী নষ্ট হচ্ছে। গত রবিবার দুপুরে তথ্য সংগ্রহ কালে দেখা যায় ভারবাহী নিষিদ্ধ এইসব পাহাড় ট্রাক ট্রলি দিয়ে ইকবাল কোম্পানী ও বাহার কোম্পানী মিলে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ার দৃশ্য। এক একটা ব্রিক ফিল্ডে দেখা যায় এ যেনো মাটি নয়, যেন চট্টগ্রামের পাহাড় তলী। ইকবাল ও বাহার কোম্পানি নিরবে কোটি কোটি কালো টাকার পাহাড় তৈরি করার এ যেনো প্রতিযোগিতা। এইসব নিষিদ্ধ পাহাড় ট্রলি ট্রাক দিয়ে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে আজ গ্রাম ও শহরে কোটি কোটি টাকার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত। এলজিইডি স্থানীয় সরকারের আওতায় ভুক্ত গ্রামীণ কাচাঁ সড়ক ও পাকা সড়ক গুলো ভেঙে যাচ্ছে এবং চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে,যা স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প গুলো বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করছে। পথচারীরা জানান, অতিরিক্ত মাটি বোঝাই ট্রাকগুলো রাস্তার ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করে পিচঢালাই ভেঙে দিচ্ছে, ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাগুলো কাদায় পরিণত হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে আইন থাকলেও, প্রশাসনের উদাসীনতা ও ইটভাটা মালিকদের অবহেলায় প্রতি বছর এই ক্ষতি বেড়েই চলেছে, যা স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইটভাটায় মাটি ও ইট পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড় ট্রলি ট্রাক। এছাড়াও ভেকু মেশিনগুলো ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি মাটি ও ইট বহন করে, যা রাস্তার ভিত্তি দুর্বল করে দেয়। ফলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় কাচা ও পাকা সড়ক গুলো। কৃষি জমির উপরের উর্বর মাটি কেটে নেওয়ার ফলে জমির স্বাভাবিক কাঠামো নষ্ট হয় এবং মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যায়, যা পরোক্ষ ভাবে রাস্তার ক্ষতি করে।ইটভাটা ও মাটি পরিবহনের বিষয়ে আইন থাকলেও, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও দুর্নীতি এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশী মহলদের। অটো রিকশাচালক ও সিএনজি চালক ড্রাইভার গণ সাংবাদিকদের ভিডিও লাইভে ক্যামেরার সামনে এসে অভিযোগ করে বলেন, লক্ষ্মীপুর জেলার মতো আর কোথাও নেই এরকম অনিয়ম, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় সরকারকে বারবার মেরামত করতে হচ্ছে, যা জনগণের করের অর্থের অপচয়। রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে কৃষি উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিছু ইটভাটা ও মাটি পরিবহনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও,বন্ধ হচ্ছেনা অবৈধ ইট ভাটার মাটি বহনকারী যানবাহন। কৃষি ফসলী জমি থেকে মাটি কাটে লাভ হচ্ছে দুটি পক্ষ,আর ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাজারো জনসাধারণ ও কৃষক। মাটি কেটে নেওয়ার কারণে কাঁচা সড়কে ও পাকা সড়কে পড়ে যেমন পরিবেশ দূষণ হয়, তেমনি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এতে করে প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য সেবার নেই প্রয়োজন, ধুলাবালি দিয়ে চলছে সাধারণ মানুষের জীবন যাপন।

📢 আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর:

👉 বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন