
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ লক্ষ্মীপুর সদর থানার আওতায়ধীন ১নং উত্তর হামছাদী ইউনিয়নে ভূমি অফিস সহায়ক হাবেজ উল্যা ঝাড়ুদার এর ছেলে রিপন দীর্ঘ ৮বছর ধরে সরকারী ভূমি অফিসে সরকারী নিয়োগ প্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মচারী এর পরিচয় দিয়ে অফিস সহকারীর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
কিসের ক্ষমতার বলে সরকারী ভূমি অফিসে বহিরাগত ভাড়া করা দালাল দিয়ে ভূমি সেবা নিতে আশা ভূমি গ্রাহকদের দেওয়া হচ্ছে সেবা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এইসবের মুল ইন্ধন দাতা গডফাদার হিসেবে সহযোগিতা করে আসছেন ১নং উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের ভূমি অফিস উপ-সহকারী ভূমি তহ্সিলদার আরিফ হোসেন।
তার কথা শুনলে মনে হয় যে মসজিদের ইমাম ও ফেরেশতা, তিনি যদিও নীতিতে ন্যায় ও সততা জ্ঞানী সৎ যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে ভূমি সেবা গ্রাহকদের কাছে শুরুতেই সততার পরিচয় দিয়ে থাকেন। কিন্ত তার আড়ালে রয়েছে আসল রহস্য, ভূমি সেবা নিতে আশা ভূমি গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চলছে দালাল দিয়ে সেবা নামের বানিজ্য।
এই যেন সরকারী ভূমি অফিস নয়, যেনো বেসরকারি একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, টাকা দিলে মিলে সেবা,আর না দিলে চলে বিভিন্ন জাতের লোহাগড়া অযুহাত। এই সুযোগে ভূমি সেবা নামের নেওয়া হয় ভূমি সেবা গ্রাহকদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা।
মনে হচ্ছে একটা টাকার মেশিন বসিয়েছে সরকারি ভূমি অফিসে,যেন ভূমি সেবা নিতে আশা ভূমি গ্রাহকদের জন্য। ভুক্তভোগী মামুন জানান,আরিফ ভূমি উপ – সহকারী তহসিলদার আমাদের কে না জানিয়ে কাগজ পত্র দলিল ও খতিয়ান না দেখে তার মন গড়া তদন্তে প্রতিবেদন রিপোর্ট দিয়েছে।
এর আগে আমাদের কাছে টাকা চেয়েছেন। কিন্তু আমরা তাকে টাকা দিতে অনিহা প্রকাশ করেছি বিদায়, আমাদের বিপক্ষের বাদীর নিকট ৫০ হাজার টাকার বিনিময় তাদের পক্ষে তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে।
এর আগে ১৪৪ ধারা মামলার তদন্ত রিপোর্ট আসছে আমরা বিবাদীর পক্ষে। কিন্তু সেখানে আমাদের বিপক্ষের বাদীর পূর্বে মৌরশ গণ তাদের মালিকানা সম্পত্তির দখলের চেয়েও আরও সাড়ে আট শতক জমি বেশি বিক্রি করা হয়েছে, মর্মে আমাদের মালিকানা সম্পত্তির সাড়ে আট শতক জমি কমে গেছে।
আমাদের বিপক্ষের বাদীপক্ষ গণ আমাদের দোকান দেখীয়ে তাদের মালিকানা দাবী করে আরিফ ভূমি তহ্সিলদার কে ভুল তথ্য দিয়ে ভুল তদন্ত রিপোর্ট করা হয়েছে।
আমরা এবিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের নিকট পূর্বের তদন্ত রিপোর্ট ও মালিকানা দলিল ও খতিয়ান দাগ নম্বর সহ বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে এবং আমাদের না জানিয়ে ভূমি তহসিলদার আরিফ টাকার বিনিময়ে মিথ্যা ও বানোয়াট তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে মর্মে, কম্পিউটার এর টাইপের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
আমরা উত্তরের অপেক্ষায় আছি,। আশা করছি সঠিক বিচার পাবো।এদিকে চন্দ্রগঞ্জ থেকে অনিক নামের এক ব্যক্তি কে সরকারি ভূমি অফিসে কম্পিউটার ম্যান হিসেবে নিয়োগ ছাড়াই দ্বায়িত্বে বসিয়েছেন ভূমি উপ-সহকারী তহ্সিলদার আরিফ।
তার পর হইতে সরকারি গোপন ব্যক্তিগত নথি এখন সেই ভাড়া করা কম্পিউটার ম্যান অনিকের হাতে।একইসাথে রয়েছে ভূমি অফিসে ঝাড়ুদার রিপন। সহকারী ভূমি তহসিলদারের দ্বায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় ঝাড়ুদার রিপন কেও।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা কমিশনার ভূমি( কর্মকর্তা) ও এক্সিকিউভ ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাশ কে দৈনিক লক্ষ্মীপুরের কথা পত্রিকার সম্পাদক রাকিব হোসেন সোহেল ঘটনার সম্পর্কে বিস্তারিত জানাইলে, তিনি ততক্ষণে তার মোবাইল থেকে উপ – সহকারী ভূমি তহসিলদার আরিফ হোসেন কে কল করে বাহিরের লোক ভূমি অফিসে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে, তহসিলদার আরিফ হোসেন অস্বীকার করে বলে, স্যার এখানে বাহিরের লোক কেনো থাকবে।
যে তথ্য দিয়েছে, সেই সঠিক তথ্য দিতে পারে-নি,বলে আমতা আমতা গলা ভাঙা কন্ঠে সত্য ঘটনা কে মিথ্যা ও বানোয়াট মন্তব্য ও অস্বীকার করে এইসব কথা সহকারী কমিশনার( ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাশ কে জানান।
একপর্যায়ে সাংবাদিক কে সহকারী কমিশনার ( ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাশ বলেন, আইনের উদ্ধে কেউ নয়, যদি এই ধরনের অনিয়ম আপনাদের চোখের নজরে পড়ে, তাহলে আমাকে জানাইবেন। অনিয়ম কারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এদিকে দিন দিন ১নং উত্তর হামছাদী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমি উপ-সহকারী তহ্সিলদার আরিফ হোসেন এর দুর্নীতি ঘুষ বানিজ্য দালাল দিয়ে বড় রূপ দারুণ করে চলছে, দেখার মতো কেউ নেই। অথচ যে কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা প্রতিবাদ করার চেষ্টা করে তাকে খেতে হয় রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে দালাল দিয়ে হত্যার হুমকি, না হয়, মা-র।
অভিযোগ পেয়ে যেই সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া হয়,তাকে টাকার বিনিময়ে সমাধানের চেষ্টায় ভূমি তহ্সিলদার আরিফ হোসেন সর্বক্ষণ প্রস্তুত থাকেন।
এদিকে সরকারি ভাবে অফিস কম্পিউটার ম্যান অনিক নামের ব্যক্তির নিয়োগের মিল পাওয়া যায়নি কোনো পদ পদবীর পরিচয়ে তথ্য।
আসলে তাকে দেখলে বোঝা যায় না তার সহযোগিতায় অফিস সহায়ক অনিক ও রিপন এর দুর্নীতি শক্তি পাওয়ার মূল যন্ত্র হচ্ছে উপ- সহকারী ভূমি তহ্সিলদার আরিফ হোসেন।
তবুও ১নং উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের ভূমি অফিসে উপ-সহকারী ভূমি তহ্সিলদার সহযোগিতায় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে অনিক নামের ব্যক্তি।
ভূমি অফিসে তার পরিচয় না মিললেও নিয়মিত নিয়োগের পরিচয় দিয়ে ভূমি সেবা নামে অর্থ বাণিজ্য করে যাচ্ছে ভূমি সেবা গ্রাহকদের নিকট।এতে করে একের পর এক হয়রানি শিকার হইতে হচ্ছে ভূমি সেবা গ্রাহকদের কে।
যেখানে থাকার কথা দুর্নীতি মুক্ত ভূমি সেবা। সেখানে রয়েছে অনিয়ম আর দুর্নীতি বড় কারখানা।
অথচ তাদের প্রত্যেকটি জায়গায় লেখায় থাকে দুর্নীতিকে না বলুন, দালাল থেকে দূরে থাকুন।
কিন্তু ভূমি অফিসের ভিতরে চলছে দালাল ও ভূয়া কর্মচারী দিয়ে তাদের অনিয়ম দুর্নীতির বানিজ্য।
অবশেষে দেখার মত কেউ রইল না। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসিয়ে দেখিয়ে দিল, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি কিভাবে করতে হয়।
অপরাধ বিষয়ে তথ্য দিতে গেলে ভূমি সেবা গ্রাহকদের খেতে হচ্ছে হুমকি। জমা খারিজ না করার ভয় ভীতি দেখিয়ে হুমকি। ঘুষ খাওয়া হবে, কিন্তু বাহিরে বলা যাবে-না,বললেই জমা খারিজ বাতিল ।
অফিস সহায়ক কামাল বলেন, উপ-সহকারী ভূমি তহ্লসিলদার আরিফ হোসেন আমাকে অফিসে পাত্তা দেয় না। বাইরের থেকে লোক ভাড়া করে এনে সরকারি গোপন নথিপত্র দেখাশুনা করতে দেয়া হচ্ছে। আমি কিছু বললে আমার গায়ের দিকে তেড়ে আসে আমাকে অফিস থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবী,দালাল সিন্ডিকেটের কারণে ১নং উত্তর হামছাদী ভূমি অফিস সহ আরও অন্যান্য ভূমি অফিস গুলোতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
সরকারি নির্ধারিত ফ্রী চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা ঘুষ হিসেবে গুনতে হচ্ছে। ভূমি প্রশাসনের উদাসীনতা ও রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে। এ অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধ হচ্ছে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল’রা।
