খোরশেদ আলম ও আলামিন এর নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে চলছে রমারম বালু উত্তোলনে বানিজ্য

লেখক: Admin
প্রকাশ: ১ বছর আগে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার আওতাধীন ২০নং চররমনী মোহন ইউনিয়নের ০৪নং ওয়ার্ড চরকাচিয়া মৌজার সরকারি নদী হইতে শাখা খাল থেকে চলছে খোরশেদ আলম ও আলামিন এর বালু উত্তোলন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় দীর্ঘদিন ধরে চররমনী মোহন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা খোরশেদ আলম ও আলামিন মিলে সরকারি খাল দখল করে নিষিদ্ধ ড্রেইজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। বালু উত্তোলনের স্থান ২০নং চররমনী মোহন এর ০৪নং ওয়ার্ডে মাছ ঘাট হইতে ৪০০ পূর্ব দিকে। এক দিকে বর্ষা মৌসুম, অন্য দিকে বালু খেকোদের বালু উত্তোলন। অভিযোগ দিয়েও নেই কোনো তদারকি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের।

এলাকার স্থায়ী প্রতিবেশীদের অভিযোগ কোনো সরকারের আমলে পায়নি শান্তি,খোরশেদ আলম ও আলামিন মিলে আবারও শুরু করেছেন বালু উত্তোলন।

এর আগে বালু উৎসবে সেরা ছিলেন বাবুল ছৈয়াল, এখন বাবুল ছৈয়াল বন্ধ হলেও বন্ধ হয়নি ঐ এলাকার খোরশেদ আলম ও আলামিনের অবৈধভাবে বালু উত্তোলন।

সৈইরাচার সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৫বছর থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের পরিচয়ে খোরশেদ আলম ও আলামিন এর বালু উত্তোলন ছিল।এখনো সেই খোরশেদ আলম ও আলামিন এর বালু উত্তোলনে উৎসব চলছে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বিএনপির দলের নেতাকর্মীদের মেনেজও চলছে এইসব অবৈধ বালু উত্তোলনের ড্রেইজার মেশিন। সরকারি খাল থেকে নিষিদ্ধ ড্রেইজার মেশিনে বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করেন প্রতি ফুল বালু ১৭ টাকা থেকে ২০ টাকার ধরে।

এছাড়াও প্রতিটি পুকুর ও নাল জমি ভরাট করা হয় ৫লাখ টাকা হইতে ৮লাখ টাকার কন্টাকে। লাভের ক্ষেত্রে ক্রয় ও বিক্রি করা দুই পক্ষ,আর ক্ষতির সংখ্যা হাজারো মানুষ। হুমকির মুখে শত শত ঘর বাড়ি, ধ্বংস হয় কৃষকদের ফসলী নাল জমি।

৫শে-ই আগষ্ট বৈষম্য ছাত্র আন্দোলনের পর হইতে খোরশেদ আলম ও আলামিন এর শুরু হয় দিনরাত অবৈধভাবে ড্রেইজার মেশিন বসিয়ে মাটি খনন যন্ত্র নামের ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন। পরে ঐ বালু উচ্চ ধরে মূল্যে দিয়ে বিক্রি করেন বিভিন্ন জায়গায়।এতে নিজেদের পকেট ভারি করে, এবং প্রতিমাসে প্রায় ১ কোটি টাকার বালু বিক্রি করা যেন বানিজ্য।

বালু মহলের সাথে সংশ্লিষ্ট এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ম্যানেজ করে সরকারি খাল থেকে বালু তোলা হয়। এই বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন জায়গায় বালু বিক্রি করেন বালু উত্তোলন কারীরা।ড্রেইজার মালিকদের নিকট, জড়িত আছে ব্যাক্তিদের নাম জানতে চাইলে অনীহা প্রকাশ করে নাম বলতে চায়নি।

এ ব্যাপারে এলাকার স্থানীয়রা বিভিন্ন সংবাদ দাতা সাংবাদিকদের মাধ্যমে, জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেও বন্ধ হয়নি বালু উত্তোলন।

২০নং চররমনী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল বাড়ীর সামনে ড্রেইজার মেশিন বালু উত্তোলনের পাইব যাওয়ার পথে চোখের নজরে পড়ে। এইভাবে চলছে নদীর শাখায় প্রশাখার বিভিন্ন জায়গার স্থানে ড্রেইজার মেশিনে প্রতিযোগিতায় বালু উত্তোলন। নেই কোনো তদারকি দায়িত্বে থাকা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা তহসিলদারদের।

যদিও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থাকা কালীন সময়ে  ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী ভূমি কর্মকর্তা এসিল্যান্ড কিছু ড্রেজার মেশিন উচ্ছেদ করেন অভিযানের মাধ্যমে। কিন্তু এখনো পুরোপুরি নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন বন্ধ হয়নি বালু উত্তোলন। এসব নিষিদ্ধ ড্রেইজার মেশিনে বালু উত্তোলনের কাছে জিম্মি হাজারো পরিবার। দেশের আইন কানুন না মেনে চলছে রমারম বালু উত্তোলনে বানিজ্য। প্রশাসন কে বৃদ্ধ আঙুল তুলে দেখিয়ে দিলো অপরাধ কাকে বলে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কে তোয়াক্কা না করে চলছে এইসব নিষিদ্ধ ড্রেইজার মেশিনের মালিকদের অবৈধ বালু উত্তোলন।

তবে এইসব অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না করা হলেই যেমন ফসলী জমি হারাবে, তেমনি হারাবে আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ। মেশিনের বাড়ির সাথে কাটা পড়ে ইলিশ, নতুন করে মাছের কোনো পোনা জন্ম নিতে দিচ্ছে না নদী দখল কারীরা। একই সাথে দশে যাচ্ছে নিরীহ মানুষের ঘর বাড়ি। অবৈধ বালু উত্তোলন ড্রেইজার মেশিন বন্ধ করা একান্ত আবশ্যক ও জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশী জহির, কামাল, আকবর, মিলন সর্দার, কালা মাঝি,শরিফ সর্দার, শাহাজাহান ভূঁইয়া, আলম মাঝি,শেফালী বেগম, আয়শা খাতুন, মনি বেগম, জোহরা বেগম, আঁকলিমা আক্তার, রহিমা বেগম সহ আরও অনেকে ।

তবে আর জরিমানা নয়, অবৈধ বালু উত্তোলন ড্রেজার মেশিনের মালিকদের কে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার দাবি প্রার্থনা করছেন এলাকার স্থানীয়’রা।

📢 আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর:

👉 বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন