লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার আওতায়ধীন পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের বাঁশঘর বাসিন্দা মাওলানা শাহ মোঃ মনির হোসেন এর প্রতারণার কাছে হাজারো মানুষ জিম্মি। তার অপরাধ দিন দিন বড় হইতে যাচ্ছে,অবশেষে দেখার আর কেউ রইলো না। শাহ মনির হোসেন এর অত্যাচারে অতিষ্ঠ গ্রাম মহল্লা বাসী। এই, কে, মাওলানা শাহ মোঃ মনির হোসেন, যে কেউ তার ঝাল জালিয়াতির কাছে হার মানবে। অবশেষে মনির হোসেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের নাকের ডগায় বসিয়ে দেখিয়ে দিল ক্ষমতা কাকে বলে।প্রতিদিনের মতো তথ্য সংগ্রহ কালে রামগঞ্জ পৌরসভার পৌর ২ নং ওয়ার্ড বাঁশঘর বায়তুশ শরফ মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে ও মাওলানা শাহ মোঃ মনির হোসেন ইসলামিয়া এতিমখানার দিকে হঠাৎ চোখের নজরে আশে প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের চিত্র। মটর সাইকেল থামিয়ে জানার চেষ্টা করে এলাকাবাসীকে জিজ্ঞেস করলেই তারা জানান,বাঁশঘর বায়তুশ শরফ মাদ্রাসা কমপ্লেক্সটি ১৯৯৪ সালে নির্মাণ করা হয়।তারা আরও জানান,এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা দাতা হিসেবে মাওলানা শাহ মোঃ মনির হোসেন পরিচালনা করার দ্বায়িত্ব পানের পর হইতে দীর্ঘ ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত দ্বায়িত্ব পালন করেছিলেন বায়তুশ শরফ মাদ্রাসা কমপ্লেক্সটির মধ্যে। হঠাৎ মাওলানা শাহ মোঃ মনির হোসেন কে এক দল ক্ষমতাবান বিশেষ মহল বিগত ২ মাস পূর্বে উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয় তার অসামাজিক কার্যকলাপে কিশোর গ্যাংদের সঙ্গে জড়িত হয়ে এলাকার স্থানীয় লোকজন কে হামলা মামলার ভয় বৃতি দেখিয়ে জোর পূর্বক বাঁশঘর বায়তুশ শরফ মাদ্রাসা কমপ্লেক্সটির মালিক না হয়েও ভূয়া মালিক সেজে প্রতিষ্ঠানের নাম গোপন রেখে মাওঃ শাহ মোঃ মনির হোসেন ১২ শতাংশ জমি বিক্রি করেন ফ্রান্সের প্রবাসী সাইফুল ইসলাম ভূইয়ার নিকট।তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাও: শাহ মোঃ মনির হোসেন কমিটির রেজুলেশন সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা না করে নিজ ক্ষমতার বলে নিজ মর্জি মতো মন গড়া যায় খুশি তাই করে যান,কোন কাজে কমিটির সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ নেওয়া দরকার বলে প্রয়োজন মনে করেন নাই তিনি। এদিকে দীর্ঘক্ষণ সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর এলাকার স্থানীয় অপরিচিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলার পরে ঘটনার স্থলে গিয়ে ঐ প্রতিষ্ঠানে ঢুকার চেষ্টা করিলেও ঢুকা সম্ভব হয়নি মাদ্রাসার গেইট বন্ধ, বাহিরে দিয়ে তালা,ভিতরেও একই অবস্থা, প্রতিটি রুমে তালা ঝুলছে।এলাকার স্থানীয় সুত্রে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি এই মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই অবহিত কারণে তালা দিয়ে রেখেছে দ্বিতীয় পক্ষ গণ।কেন তালা ঝুলছে, জানতে চাইলে স্থানীয় অপরিচিত কয়েকজন লোক জানান,মাও: শাহ মোঃ মনির হোসেনের ঝাল জালিয়াতির কারণে,কি হয়েছে বলে জানার চেষ্টায় আবারও প্রশ্ন করে জিজ্ঞেস করলেই তারা বলেন,বহু বছর ধরে উক্ত প্রতিষ্ঠানটি এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মাওঃ শাহ মোঃ মনির হোসেন এর নেতৃত্বে খুব ভালোই চল ছিল,স্থায়ী প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক বাঁশঘর মাওলানা শাহ মোঃ মনির হোসেন ইসলামিয়া এতিমখানা ও বায়তুশ শরফ মাদ্রাসা কমপ্লেক্স।এই মাদ্রাসা কমপ্লেক্সটি হওয়ার পর হইতে বহু ছাত্র ছাত্রী শিক্ষক ও অনেক এতিম দুস্থ আবাসিকে ছিলো।সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় দিন ছিল মাওলানা শাহ মোঃ মনির হোসেন ইসলামিয়া এতিমখানা। সেই আমাদের না জানিয়ে গোপনে মাদ্রাসার নামের ১২ শতাংশ জায়গা ও বায়তুশ শরফ মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে সহ বিক্রি করে টাকার বানিজ্য করেছেন।আমরা এখন আমাদের জায়গা তার কাছ থেকে ৭ লক্ষ্য টাকার বিনিময়ে বুঝে নিয়েছি। এখন আর এখানে এতিম ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষক বলতে কেউ নেই,তা ছাড়া আমাদের এলাকায় কোন এতিম ছেলে মেয়ে নাই। আমাদের সকল অভিভাবকগণেরা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের মাদ্রাসার নাম পূর্বে ফোর কানিয়া নুরানী এতিমখানা কমপ্লেক্স নাম ছিল। উক্ত নামের দলিল ও খতিয়ান চাওয়া হলে ১০থেকে ১৫ জনের উপস্থিতিতে দেখাতে অনীহা প্রকাশ করেন আবুল খায়ের ও মাসুদ পাটোয়ারী। একপর্যায়ে মাসুদ পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন কোন তথ্য জানতে চাইলে মাসুদ ভূঁইয়ার নিকট গেলে সব জানতে পারবেন বলে জানিয়েছেন আবুল খায়ের ও আবদুল মান্নান পাটোয়ারী। এদিকে এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি যে বিগত ১৭/০৫ / ২০২৪ইং তারিখে রাশেদ আলম ভূঁইয়া, আব্দুল মন্নান পাটোয়ারী, নুরুন্নবী জুম্মা, মাসুদ আলম ভূঁইয়া, মোস্তফা, সোহাগ, আব্দুল আজিজ, নূর মোহাম্মদ,বিল্লাল হোসেন দাইয়া,জসিম উদ্দিন কুট্টি, জাহাঙ্গীর, জসিম হুজুর, মন্ত্রী কামাল, আবুল খায়ের, বাসু, গং সহ মিলে উক্ত শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রীদের কে বায়তুশ শরফ মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে ও এতিমখানা থেকে বের করে দেওয়া দেয়। শুধু তাই নয়, একই সাথে মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে থাকা চার লক্ষ টাকার আসবাবপত্র ও প্রতিষ্ঠানে থাকা অফিসে যাবতীয় রেকর্ড পত্র নিয়ে যান।এছাড়া ছাত্র ছাত্রীদের রান্না ঘর বাঙ্গচুর, দুই টন রট সহ ১০ হাজার ইটের কনা বিক্রি করে দেন তারা। বৃহস্পতিবার দিন অদ্য দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের সময় ঘটনার স্থলে কয়েকজন স্থানীয়দের উপস্থিতিতে নূরনবী চোম্ম এনডুয়েট এক্সমাট ফোনের কল এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের কে মাদ্রাসার সভাপতি মাসুদ আলম ভূঁইয়ার নাম পরিচয় দিয়ে শনিবার একই সময় আসতে বলা হয়। পরে শনিবার একই সময়ের মধ্যে যাওয়া হয়।এক পর্যায় সেখানে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বলেন, নুর নবী চোম্মা ও রাশেদ আলম ভূইয়া নামের দুই ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানান ,মাওলানা শাহ মোঃ মনির হোসেন এর বিরুদ্ধে আমাদের মামলা করা হয়েছে এখনো মামলা চলমান,এছাড়া তারা তাদের মোবাইল থেকে সাংবাদিকগণের মোবাইল মেসেঞ্জারে একটি ভিডিও দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুর মান্দারী জাদিয়া এতিমখানা মাদ্রাসা কমপ্লেক্সেও এক নারীকে ধর্ষণ, ও বলদকারী সহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হওয়ায় ঘটনার চিত্র। দেখা যায় যমুনা টিভির সাক্ষাৎতে ভিডিও ফুটেজ মাও: শাহ মোঃ মনির হোসেন এর অপকর্মের বিরুদ্ধে। তারা আরো বলেন যে,প্রতিষ্ঠান ও জায়গার কোন রেজুলেশন না থাকার সর্থেও ঝাল জালিয়াতি করে মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে ১২ শতাংশ জমি বিক্রি করে মাও: শাহ মোঃ মনির হোসেন। যাহার আগত দুটি খতিয়ান নং- ৯৪৫ /৯৪৫ ও দুই দাগ যেমন- ১৫১৭/১৫২০ দাগে বিভক্ত, ঐ দুই খতিয়ানের দুই দাগে ১২শতাংশ জমির, পরে আরও তিন ব্যক্তি দিয়েছেন পাঁচ শতাংশ জমি। তারা হলেন, মাও : শাহ মোঃ মনির হোসেন,ফয়েজলের রহমান,ইস্কান্দার কমিশনার সহ তিন ব্যক্তির পাঁচ শতাংশ জমি দেওয়া হয়। যার ফলে পাঁচ শতাংশ জমি মাদ্রাসার এতিম খানার একটি ভবনে রয়েছে। মাদ্রাসার ১২ শতাংশ জমি নিয়ে মাওলানা শাহ মোঃ মনির হোসেন এর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে।এছাড়াও এলাকার একজন বয়স্ক ও একজন যুবক দুই ব্যক্তির নিকট মাওলানা শাহ মোহাম্মদ মনির হোসেন এর সভাব ও চরিত্র সম্পর্কে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তারা জানান যে,মাওলানা শাহ মোঃ মনির হোসেন অত্যন্ত ভালো মানুষ, প্রতিষ্ঠানের তিনি পৈতৃক বহু সম্পদ বিক্রি করিয়াছেন,হঠাৎ করে থানায় বৈঠকের পর কি হলো আমরা তাহা জানিনা,তবে কিছু জেনেছি উনার ছেলে শাহ মোঃ মাসুম বিল্লাহ কে না-কি ফ্রান্সের প্রবাসী সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া সাহেব ফ্রান্সে নিবে,কিন্তু মাওলানা শাহ মোঃ মনির হোসেন প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রি করার মতো লোক নয়। আমার জানা মতে এতিমখানা মাদ্রাসাকে তিনি খুব ভালোবাসেন, এঘটনার পর হইতে তেমন দেখা যায় না।আগে যেমন তাহাকে পথে ঘাটে বা দোকানে মাদ্রাসায় দেখতাম, এখন আর দেখি না,মাঝের মধ্যে দেখলেও তিনি সালাম দিয়ে এড়িয়ে চলে যান, কারোর সাথে কোন কথা বলেন না তিনি। ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য অভিযুক্ত কারী মাওঃ শাহ মোঃ মনির হোসেন কে বহুবার খোঁজাখুঁজির পরে একপর্যায়ে লক্ষ্মীপুর সদর জাদিয়া ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় একজন প্রভাষক গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান বিষয় কর্মরতে আছেন।সেখানে গিয়ে জিজ্ঞেসা বাদের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে কতটুকু সত্য রয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি জানান যে, আমার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ জঘন্য, মিথ্যা, ও বানোয়াট, কাল্পনিক, ছাড়া আর অন্য কিছু নয়। প্রয়োজন হলে বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।তবে প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সকলের কাছে স্থানীয়দের অভিযোগ মাওলানা শাহ মোঃ মনির হোসেন হুজুর কে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে জিজ্ঞেসাবাদের মাধ্যমে উপযুক্ত বিচার করা একান্ত আবশ্যক ও জরুরী বলে দাবী কামনা করছেন রামগঞ্জ পৌরসভা বাঁশ ঘর ২ নং ওয়ার্ড কিছু এলাকাবাসী।