
স্টাফ রিপোর্টার
লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার ইউনিয়নে ইউনিয়নে থাকা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে তীব্র ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। গত ৯ মাস ধরে এসব কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহ একপ্রকার পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে গ্রাম ও চরাঞ্চলের গর্ভবতী নারীসহ সাধারণ সেবাগ্রহীতারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ের এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে আয়রন, ক্যালসিয়াম, অ্যান্টিবায়োটিক, প্যারাসিটামলসহ সাধারণ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে ৯ মাস ধরে কোনো নতুন কিট সরবরাহ পাওয়া যায়নি। ফলে প্রসূতি মায়েদের মতো সংবেদনশীল সেবাপ্রার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে স্থানীয় বাজার থেকে চড়া দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
ডিডিএস কিটের (DDS Kit) মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে আয়রন ও ফলিক এসিড, ক্যালসিয়াম উইথ ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, অ্যালবেনডাজল, প্যারাসিটামল, প্যান্টোপ্রাজল, ডায়াজেপাম, অ্যান্টিবায়োটিক (এমোক্সিসিলিন, সিপ্রোফ্লোক্সাসিন), খাবার স্যালাইনসহ প্রায় ২৫ ধরনের জরুরি ওষুধ সরবরাহ করার কথা। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যের পুষ্টি রক্ষায় অন্তত ১২০০ পিস আয়রন ও ফলিক এসিড এবং ৪০০ পিস ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট কিটে অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর তাক মাসের পর মাস খালি পড়ে আছে।
কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকা থেকে দরিদ্র পরিবারগুলো কোনো রকমে কষ্ট করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসলেও খালি হাতে তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা এক ভুক্তভোগী গর্ভবতী নারী বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম বিনামূল্যে রক্তস্বল্পতার ও পুষ্টির ওষুধ পাব। কিন্তু ডাক্তার দেখানোর পর জানানো হয় ওষুধ নেই, বাইর থেকে কিনতে হবে।বাজারের ওষুধের যে দাম, আমাদের জন্য তা কেনা কষ্টকর।
স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওপরের মহল থেকে ওষুধ না পৌঁছানোয় তারা সাধারণ মানুষকে পর্যাপ্ত সেবা দিতে পারছেন না। কেন্দ্রগুলো খোলা রেখে পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সরবরাহে তারা এখন অসহায়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকবাসী। তারা অবিলম্বে সরকারি সরবরাহের প্রয়োজনীয় ডিডিএস কিট বরাদ্দ দিয়ে চরাঞ্চলের প্রান্তিক জনগণ ও প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
