ঈদের মুখেও মেঘনার তীরে কান্নার রোল: কমলনগরের জেলেপল্লীতে নেই কোনো আনন্দ

লেখক: Admin
প্রকাশ: ২ দিন আগে

 

কবির হোসেন রাকিব,

স্টাফ রিপোর্টার:আর মাত্র চার দিন পরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। দেশজুড়ে যখন উৎসবের আমেজ, তখন লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরের জেলেপল্লীগুলোতে চলছে বুকফাটা হাহাকার। নদীতে মাছ নেই, ঘরে খাবার নেই, আর কপালে জুটেছে শুধু ঋণের বোঝা। উৎসবের এই দিনগুলোতেও কমলনগরের জেলেদের মুখে কোনো হাসি নেই, সবার চোখে কেবলই জল।

​নদীতে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে অনেক জেলে চরম দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তারা এবার ঈদে বাড়িই ফিরবেন না। উৎসবের আনন্দ যেখানে পরিবার-পরিজনকে নিয়ে কাটানোর কথা, সেখানে শূন্য হাতে বাড়ি ফেরার চেয়ে নদীতেই থেকে যাওয়াকে শ্রেয় মনে করছেন তারা।
​সরকারি সহায়তা থেকেও বঞ্চিত
​জেলেদের সবচেয়ে বড় ক্ষোভ ও দুঃখের জায়গা হলো, এত কষ্টের মাঝেও তারা কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পান না। কমলনগর উপজেলার মতিরহাট, মাতাব্বরহাট ও পাটোয়ারীরহাটসহ বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে জেলেদের এই চরম হতাশার চিত্র দেখা গেছে।
​দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে মেঘনা নদীতে জাল বেয়ে চলা প্রবীণ জেলে রুহুল আমিন মাঝি ক্ষোভ ও আক্ষেপ নিয়ে বলেন:
​”আমি ৩০ বছর ধরে নদীতে জাল (বেয়ে চলি)। কিন্তু আজ পর্যন্ত ১০ কেজি ওজনের সরকারি একটা চালের দানাও কপালে জোটেনি। আমাদের খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ নেই।”
​জেলেদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে জেলেদের জন্য নানা রকম সরকারি সহায়তার কথা বলা হলেও, প্রকৃত ও কর্মক্ষম জেলেরা অনেকেই সেই কার্ড বা চাল পান না।
​নৌ-পুলিশের হয়রানি ও মেঘনার শূন্যতা
​জেলেদের কষ্ট কেবল মাছের সংকটেই সীমাবদ্ধ নয়। নদীতে মাছ না পাওয়ার যন্ত্রণার পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে প্রশাসনের একাংশের হয়রানি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, নদীতে নৌ-পুলিশের জ্বালা-যন্ত্রণায় তারা অতিষ্ঠ। একদিকে নদীতে জাল ফেললে মাছ উঠছে না, অন্যদিকে পুলিশের নানামুখী চাপ ও হয়রানি—সবকিছু মিলিয়ে জেলেরা এখন কোণঠাসা।
​চরম হতাশা থেকে এক জেলে আক্ষেপ করে বলেন, “মনে হয় জেলের ঘরে জন্ম নেওয়াটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অপরাধ।”
​সুনসান নীরবতা মাছঘাটগুলোতে
​কমলনগর উপজেলার প্রধান প্রধান মাছঘাট—মাতাব্বরহাট, পাটোয়ারীরহাট এবং মতিরহাট—যেখানে বছরের এই সময়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর থাকার কথা, সেখানে এখন সুনসান নীরবতা। ঘাটে কোনো মাছ নেই। আড়তদার ও মাছ ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানের মুখে পড়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। দাদন বা অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখা ব্যবসায়ীরা যেমন পুঁজি হারানোর শঙ্কায়, তেমনি জেলেরা পড়েছেন দেনার দায়ে।
​সব মিলিয়ে, কমলনগরের শত শত জেলের জীবনকাহিনী এখন একই সূত্রে গাঁথা—ক্ষুধা, দেনা আর অবহেলা। ঈদের আনন্দ যখন প্রতিটি ঘরে কড়া নাড়ছে, তখন মেঘনাপাড়ের জেলেদের ঘরে চলছে কেবল বেঁচে থাকার নির্মম লড়াই। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ঈদের এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে যেন এসব প্রকৃত ও দুস্থ জেলেদের পাশে দাঁড়ায় প্রশাসন ও সরকার।

📢 আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর:

👉 বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন