নিজস্ব প্রতিবেদকঃ অভাব কখনো স্বপ্নকে হারাতে পারে না শফিকুল ইসলামের জীবন তার উজ্জ্বল উদাহরণ। দিনে ৩০ টাকা মজুরিতে ট্রাকের হেলপার হিসেবে কাজ করতেন তিনি, রাতে আলো-ছায়ার যুদ্ধের মধ্যে চালিয়ে যেতেন পড়াশোনা। তার জন্ম এক দরিদ্র পরিবারে। বাবা ছিলেন বিড়ি শ্রমিক, মা গৃহিণী। সাতজনের সংসারে খাবারের অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে পাশে দাঁড়ান তার শিক্ষক ও গ্রামের এক সিনিয়র ছাত্র। বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ পেয়ে তিনি আবার স্বপ্নে জ্বালালেন আলো।
শফিকুল দিনমজুর থেকে শুরু করে কাঠমিস্ত্রির সহযোগী, ব্যানার লেখক এমনকি ট্রাকের হেলপার হিসেবেও কাজ করেছেন। জীবনের প্রতিটি কষ্টকেই তিনি বানিয়েছেন এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। এসএসসিতে তিনি মানবিক বিভাগে জেলার একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে জিপিএ-৫ পান যা গ্রামে সবার কাছে বিস্ময় হয়ে ওঠে। এরপর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনও ছিল অভাব ও সংগ্রামে ভরা। কখনো পরীক্ষার ফি জোগাড় হয়নি, কখনো একবেলা না খেয়েই ক্লাসে গিয়েছেন। কিন্তু হাল ছাড়েননি।
অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে জায়গা করে নিয়েছেন। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, তার স্বপ্ন এখন আরও বড়—নিজের বাবা-মায়ের নামে দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়া, অভাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া, গ্রামে পাঠাগার তৈরি ও বয়স্কদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
শফিকুলের গল্প শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং একটি বার্তা, অভাব কোনো প্রতিবন্ধকতা নয়, বরং ইচ্ছাশক্তিই মানুষের প্রকৃত শক্তি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: রাকিব হোসেন সোহেল
কার্যালয় : রুম নং ২১, উত্তর স্টেশন মার্কেট ২য় তলা, লক্ষ্মীপুর
www.lakshmipurerkotha.com