লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ অফিস সহায়ক আজম এর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি উপ-সহকারী তসিলদার জসিম উদ্দিন হাওলাদার বলেন,আজম অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য।
অফিসে সহায়ক আজমকে হুশিয়ার করা হয়েছে। আগামী কাল থেকে যদি এই ধরনের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়, অথবা এ ধরনের কোন অনিয়ম করে, তাহলে তাকে ভূমি অফিস থেকে বের করে দেয়া হবে বলে জানান ৭নং ভবানীগঞ্জ ভূমি তসিলদার উপ-সহকারী কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন হাওলাদার।
তিনি আরো বলেন, ভুক্তভোগীর ও অফিস সহায়ক আজমের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শোনা যায় পরে আমি বিষয়টি জানতে চাইলে অফিস সহায়ক আজম ভুক্তভোগীর নিকট হইতে নগদ ১০ হাজার টাকা জমা খারিজ বাবদ আবেদন করার কথা বলে নিয়েছে বলে ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী সুমি আক্তার জানান ।
পরে এই ঘটনায় আজমকে জিজ্ঞেস করিলে আজম প্রথমে অশিকার করে, পরে তাকে চাপ প্রয়োগ করিলে আজম নিজ মুখে স্বীকার করেন ভুক্তভোগীর নিকট হইতে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার ঘটনা সত্য। তাৎক্ষণিক এ ঘটনা শুনে টাকা ফেরত দিতে বলি, আজম টাকা ভেঙ্গে ফেলাই নগদে আজমের সঙ্গে থাকা নগদ ৩০০০ টাকা ভুক্তভোগীর নিকট দিতে বলি।
এবং বাকী ৭হাজার টাকা পরবর্তী ডেইটে দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করি। তবে অফিস সহায়কের ঘটনা কে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় অফিস সহায়ক আজমের পক্ষে সাংবাদিকদের সংবাদ না করতে সুপারিশ করেন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা তসিলদার জসিম উদ্দিন হাওলাদার।
এবং অফিসের ভিতরে সাংবাদিকদের পকেটে জোরপূর্বক ৫০০ টাকা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেও তিনি বারবার বলেন,এ ঘটনাকে বড় না করে এখানে সমাপ্তি করতে দৈনিক লক্ষীপুরের কথা কে নির্দেশ প্রদান করেন।
পরে সাংবাদিকদের আবারো ঘটে যাওয়া অনিয়মের বিরুদ্ধে কি ধরনের ব্যবস্থা নিবেন এমন বিষয়ে জানতে চাইলে, তহসিলদার উপ- সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জসীম উদ্দীন হাওলাদার বলেন,আপনি এখানে সমাপ্তি করেন। একথা বলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ভূমি অফিস থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের যাতায়াতের মোটরসাইকেল এর সামনে থাকা দৈনিক আলোকিত সকাল পত্রিকার লগুর ছবি তুলেন।
একই সময়ে অনিয়মকারী অফিস সহায়ক আজমকে অফিস থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে উপ- সহকারী কর্মকর্তা তহসিলদার জসিম উদ্দিন হাওলাদার।
তিনি বাহিরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা পালন করলেও অফিসের ভিতরে দুর্নীতি বিষয়ে সহযোগিতার দিক থেকে এক নাম্বার।
তার কথা শুনলে মনে হয় যে মসজিদের ইমাম ও ফেরেশতা, আসলে তাকে দেখলে বোঝা যায় না তার সহযোগিতায় অফিস সহায়ক আজমের দুর্নীতি শক্তি পাওয়ার মূল যন্ত্র তসিলদার উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জসীম উদ্দীন হাওলাদার।
অভিযোগ পেয়ে যেই সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া হয়, তাকে টাকার বিনিময়ে সমাধানের চেষ্টায় ভূমি তসিলদার উপ-সহকারী কর্মকর্তা জসীম উদ্দীন হাওলাদার প্রস্তুত থাকেন সর্বক্ষণ।
এদিকে সাংবাদিক গণ আজমের মুখ থেকে তথ্য পাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ব্যর্থ হন।পরে তার দেখা না পেয়ে সাংবাদিকরা উপ-সহকারী তহসিলদার ভূমি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন হাওলাদার কে জিজ্ঞাসা করে আজম কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,তাকে জরুরী কাজে পাঠানো হয়েছে। কোথায় পাঠানো হয়েছে আবারও জানতে চাইলে তিনি বলতে অনিহা প্রকাশ করেন।
এদিকে সরকারি ভাবে অফিস সহায়ক ঝাড়ুদার ও কম্পিউটার ম্যান কামরুল হাসান সহ তাদের দুই জনের নিয়োগের মিল পাওয়া যায়নি পদ পদবীর পরিচয়ে তথ্য।
তবুও তারা ১৭নং ভবানীগঞ্জ ভূমি অফিসে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা তসিলদারের সহযোগিতায় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ভূমি অফিসে তাদের পরিচয় না মিললেও তারা নিয়মিত নিয়োগের পরিচয় দিয়ে ভূমি সেবা নামে অর্থ বাণিজ্য করে যাচ্ছে ভূমি সেবা গ্রাহকদের নিকট।
অফিস সহায়ক আজম খান, কখনো অফিস ইনচার্জ কর্মকর্তা, কখনো ভুমি কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে ভূমি সেবা গ্রাহকদের কাছ থেকে ভূমি সেবা নামে হাতিয়ে নিচ্ছে মোট অংকের টাকা। লিখে দেওয়া হচ্ছে মোবাইল নম্বর যার মধ্যে থাকে না নাম ও ঠিকানা। একটি কাগজে লেখা থাকে দুর্নীতিকে না বলুন অথচ তাদের ভিতরেই চলছে দুর্নীতি।
অনিয়ম দুর্নীতি ধরা খেলে সমাধান করতে প্রস্তুত থাকেন ১৭নং ভবানীগঞ্জ ভূমি তহসিলদার উপ-সহকারী কর্মকর্তা জসীম উদ্দীন হাওলাদার। এতে করে একের পর এক হয়রানি শিকার হইতে হচ্ছে ভূমি সেবা গ্রাহকদের। যেখানে থাকার কথা দুর্নীতি মুক্ত ভূমি সেবা। সেখানে রয়েছে অনিয়ম আর দুর্নীতি বড় কারখানা।অথচ তাদের প্রত্যেকটি জায়গায় লেখায় থাকে দুর্নীতিকে না বলুন, দালাল থেকে দূরে থাকুন।
কিন্তু ভূমি অফিসের ভিতরে চলছে দালাল ও ভূয়া কর্মচারী দিয়ে তাদের অনিয়ম দুর্নীতি বানিজ্য। অবশেষে দেখার মত কেউ রইল না। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসিয়ে দেখিয়ে দিল সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি কিভাবে করতে হয়।
অপরাধ বিষয়ক তথ্য দিতে গেলে ভূমি সেবা গ্রাহকদের খেতে হচ্ছে হুমকি। জমা খারিজ না করার ভয় ভীতি দেখিয়ে হুমকি। ঘুষ খাওয়া হবে, কিন্তু বাহিরে বলা যাবেনা,বললেই জমা খারিজ বাতিল ।
একপর্যায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভি দাস কর্মকর্তার অধিনে অন্তর্ভুক্ত থাকায় ১৭নং ভবানীগঞ্জ ভূমি অফিসে অনিয়ম দুর্নীতি বানিজ্য বিষয়ে বিস্তারিত জানাইলে তিনি দৈনিক লক্ষ্মীপুরের কথা কে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন,পরে অনিয়ম দুর্নীতি ও ভুক্তভোগীর নিকট হইতে ১০হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়ে লিখিত আকারে অভিযোগ দেওয়া হলেই, তিনি ভুক্তভোগী ও সাংবাদিক উপস্থিত রেখে ভূমি অফিস সহায়ক আজম খান কে জিজ্ঞেসা বাদ করিলে আজম খান ভুক্তভোগীর চাচা বেলাল হোসেন এর মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জবানবন্দি দিয়ে তিনি নিজ মুখে শিকার করেন।
দৈনিক লক্ষ্মীপুরের কথা পত্রিকা সম্পাদক রাকিব হোসেন সোহেল ও দৈনিক আলোকিত সকাল পত্রিকার লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি ইসমাইল হোসেন এর দেওয়া অভিযোগ সত্যতা নিশ্চিত প্রমাণ হওয়ায়, অফিস সহায়ক আজম খান কে ১৭নং ভবানীগঞ্জ ভূমি অফিস থেকে বহিষ্কার করেন সহকারী কমিশন( ভূমি) কর্মকর্তা অভি দাস। তবে ভূমি অফিসে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্ম চারীদের নামের তালিকায় দেখা যাচ্ছে ভূয়া সরকারি কর্মচারী আজম খান ও কামরুল হাসান এর নাম তালিকা।
স্থানীয়দের দাবী,দালাল সিন্ডিকেটের কারণে ভবানীগঞ্জ ভূমি অফিস সহ আরও অন্যান্য ভূমি অফিস গুলোতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সরকারি নির্ধারিত ফ্রী চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা ঘুষ হিসেবে গুনতে হচ্ছে।ভূমি প্রশাসনের উদাসীনতা ও রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে। এ অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধ হচ্ছে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: রাকিব হোসেন সোহেল
কার্যালয় : রুম নং ২১, উত্তর স্টেশন মার্কেট ২য় তলা, লক্ষ্মীপুর
www.lakshmipurerkotha.com