নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গত কয়েকদিন ধরে লক্ষ্মীপুর জেলা সহ আরো কয়েকটি জেলা বজ্র বৃষ্টি পাত শুরু হয়েছে টানা অবরত বৃষ্টি । যার ফলে রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি, কমলনগর, চন্দ্রগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুরে বৃষ্টি বৃষ্টি পানি জমতে দেখা যায়। অস্বাভাবিক জোয়ারে দেখা দিয়েছে মেঘনা নদীর পানির জোয়ার। শুরু হয়েছে লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় প্রায় ৮০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ৬০টি গ্রাম বন্যা প্লাবিত। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। হুমকির মুখে রয়েছে প্রায় ১৭ হাজারেরও অধিক হেক্টর ফসলী জমি। বুধবার ২২ আগস্ট বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘনার জোয়ারের পানি ঢুকে নদীর বাঁধ থেকে প্রায় ৮কিলোমিটার এলাকায় আশেপাশেই পানিবন্দি হয়েছে সাধারণ মানুষ। অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে নদী সংযুক্ত খাল,পুকুর, বসতঘর,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সহ রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে।
এতে মেঘনা উপকূলীয় এলাকার এইসব মানুষের জীবনযাত্রা চরম বিপর্যজনক হয়ে উঠেছে।এদিকে,লক্ষ্মীপুর উপজেলায় কয়েকটি জলাশয় ও পুকুর নর্দমা থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাছ জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। পল্লীখ্যাত উপজেলার ২০ নং চররমনী সহ লক্ষ্মীপুর ও রায়পুরে কয়েকটি গ্রামের অন্তত ৩ হাজার পানের বরজ পানি ঢুকে পান বরজ নষ্ট হয়ে দশে পড়ছে। এতে বিপুল পরিমাণে ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন পানচাষীরাও। তবে বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে পুরো এলাকা। পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে গেছে রাস্তা। ঘরের ভিতরেই খাটের উপর মাচা দিয়ে কোনরকম আতঙ্কে রাত্রিযাপন করতে হচ্ছে ঐ এলাকার স্থানীয়দের। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাউবো লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, নতুন বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে বেশ কিছু কাঁচা, আধা পাকা ঘরবাড়ি ও সড়কসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা প্রদানে কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ১৯৭৬ সালে রামগতি, কমলনগর, রায়পুর, রামগঞ্জ, চন্দ্রগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর সদরের একাংশে ৩৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ দেয়া হয়। পরবর্তীতে মেঘনার অব্যাহত ভাঙন ও ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে সে বাঁধটির প্রায় ৪০ কিলোমিটার নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকেই বৃষ্টিতে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি জমে ডুবে যায় এখানকার ঘরবাড়ী, ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাস্তাঘাট, হাটবাজার, ফসলী জমিসহ আরও বিভিন্ন এলাকা। একই রকম পরিস্থিতি ভয়াবহ দেখা দিয়েছে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১৫ টি ওয়ার্ডে, বুধবার সকাল থেকে পৌরসভার ১ হইতে ১৫ টি ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে দেখা যায় পানিবন্দি পৌরসভার পৌর বাসীগণ।পানি জমে থাকার কারণ জানতে চাইলে পৌর ৪ নং ওয়ার্ড বাসিন্দা কবির হোসেন, পাহাদ, শাহাদাৎ হোসেন, ও এমরান হোসাইন সহ আরো অনেকে দৈনিক লক্ষ্মীপুরের কথা কে জানান,আমরা দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দির শিকার, কিছু প্রভাব শালী আওয়ামী লীগের দলীয় ইন্ধন দাতা নেতাদের কারণে, ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না বৃষ্টির পানি এখন বন্যার পানির মতো হয়েছে।

পানি যাওয়া আশার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা আরও বলেন, এরা আওয়ামী লীগের কোটাদারী রাজনৈতিক দলের নেতা। এরা ঝোঁকের মতো এতোদিন মানুষের রক্ত শুষে খেয়েছে, এখন খাওয়া শেষ, দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তা ছাড়া যেসমস্ত জায়গা দিয়ে পানি নিষ্কাশন হবে সেইসব জায়গায় হয়েছে দোকান পাট খোঁজ নিলে মিলবে অসাধু আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাদের নামে বেনামে লুটপাট বানিজ্যের অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যার ফলে আমরা আজ পানিবন্দি সাধারণ মানুষ।তবে তাদের দাবী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হলে মানুষ পানিবন্দি হয়ে ডুবে মারা যাওয়ার আশংকা রয়েছে। তাদের দিনে রাতে ২৪ ঘন্টা চোখে ঘুম নেই সাপ ঝোঁকের ভয়ে আতংক কাটছে মানুষের জীবন যাত্রা। দেখা যাচ্ছে প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় ডুবে অনেকে ঘরের দরজা পর্যন্ত পানি।আবার কারোই কারোর ঘরে বন্যার পানির মতো ঢুকতে দেখা যায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: রাকিব হোসেন সোহেল
কার্যালয় : রুম নং ২১, উত্তর স্টেশন মার্কেট ২য় তলা, লক্ষ্মীপুর
www.lakshmipurerkotha.com