লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন মিছিলে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করেছে যুবলীগ ।এ সময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে মাদাম জিরো পয়েন্ট যুবলীগের গুলিতে ১ জন গুরতর আহত হয়ে ঘটনার স্থলে মারা যান।পরে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ শুরু হয়। তার পর হইতে শুরু হয়েছে পাল্টা পাল্টি ধাওয়া হামলা। চোখের পলকে হাজার হাজার কোটা আন্দোলন কারী শিক্ষার্থীরা গিরে পেলে শহরের ঘোটা মহাসড়কের মেইন পাকা মহাসড়ক গুলো। প্রথমে লক্ষ্মীপুর ঝুমুর ট্রাফিক বক্সে ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন ঝুমুর ইলিশ চত্বরে সামনে অবস্থান নেয়।সেখান থেকে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা স্লোগান নিয়ে দক্ষিণ স্টেশন হয়ে লক্ষ্মীপুর চকবাজার সংলগ্ন তমিজ মার্কেট এর সামনে সাবেক যুবলীগের নেতা সালা্হউদ্দিন টিপু বাসভবন উদ্দেশ্য করে সেখানে অবস্থান নেন। সেখানে অবস্থান নিতে না নিতে শুরু হয় তাদের গোলাগুলি। এতে সাবেক যুবলীগের নেতা ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সালা্হউদ্দিন টিপুর এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকলে তার এলোপাতাড়ি গুলির কারণে ১ দফা দাবী কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ছাত্র ছাত্রী ও ছাত্রলীগ,বিএনপি, জামাত, পথযাত্রী সহ শতাধিক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এদের মধ্যে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ছাত্র ছাত্রী ও ছাত্র লীগের নেতা সহ ১১ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।এদিকে ২ এ আগষ্ট শুক্রবার বাদ জুমার নামাজের পর অদ্য দুপুর ২টার দিকে শহরের তমিজ মার্কেট সংলগ্ন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন টিপুর বাসার সামনে পাল্টা পাল্টি হামলার ঘটনাটি ঘটে।পরে আইনশৃঙ্খলা পুলিশ বাহিনী সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এ ঘটনার পর থেকে শহর জুড়ে আতংকে রয়েছে পৌর লক্ষ্মীপুর বাসী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহরের চকবাজার মসজিদ এলাকা থেকে জুমার নামাজের পর মিছিল বের করার কথা ছিল শিক্ষার্থীদের। তাই আগে থেকেই সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন টিপুর নেতৃত্বে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। নামাজ পড়ে মুসল্লিদের দ্রুত চলে যেতে বাধ্য করেন তারা। এ সময় কিছু মুসল্লি মসজিদ থেকে বের হতে দেরী করায় শিক্ষার্থী মনে করে তাদের ধাওয়া করে যুবলীগ।কিছুক্ষণ পথ চলার পরে চক বাজার জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম সালাহউদ্দিন টিপু ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে দুই দিক থেকে দুটি মিছিল বের হয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের। ছাত্রলীগের মিছিলটি শহরের তমিজ উদ্দিন মার্কেট সংলগ্ন উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসার সামনে অবস্থান নেয়। এসময় কলেজ রোড বাজার ব্রিজ এলাকা থেকে দেশব্যাপী গণগ্রেফতার ও জুলাই মাসে গণহত্যার বিচার ও আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনকারী শতাধিক শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানে মিছিল নিয়ে বের হন। মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ করে সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বাসভবন অতিক্রম করে উত্তর তেমুহুনীর দিকে যাওয়ার পথে মিছিলের মধ্য থেকে সালাহ উদ্দিন টিপুর বাসা লক্ষ্য করে ইট ও পাথরের কনা নিক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেয়া উপজেলা চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন টিপুর নেতৃত্বে যুবলীগ নেতাকর্মীরা তাদের পাল্টা ধাওয়া করতে গেলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের সঙ্গে যুবলীগ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তবে জেলা পুলিশের উপস্থিতিতে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন টিপুর বাসা থেকে লাঠিসোটা নিয়ে যুবলীগের নেতাকর্মীরা বের হওয়ায় পুলিশ বিপাকে পড়েন। লক্ষ্মীপুর জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, পুলিশ তো কঠোর ভূমিকা রেখেছে। তিনি আরও বলেন,উপজেলা চেয়ারম্যান নেতাকর্মীদের নিয়ে এখানে দাঁড়ানো ঠিক হয়নাই,এভাবেই মিছিল থেকে আন্দোলনাকারীদের ইট মারা হলো কেন? কাজটা ঠিক করেননি তারা। পুলিশের সময় মত উপস্থিত না হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ সৃষ্টি হতো। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার পর হইতে দেখা যাচ্ছে লক্ষ্মীপুর ঝুমুর ইলিশ চত্বরে ট্রাফিক বক্স হইতে দক্ষিণ স্টেশন ও উত্তর স্টেশন এবং লক্ষ্মীপুর জেলা প্রেসক্লাব হয়ে তমিজ মার্কেট ও চকবাজার সহ পৌরসভা বাজারের বিভিন্ন অলিগলির মুখে জনসাধারণের নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টায় অগণিত গোয়েন্দা সংস্থা, ডিবি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কঠোর অবস্থান নেওয়া হলেও রবিবারে এই ঘটনার দিন পুলিশের কোনো ভূমিকা ছিল না। তার মূল কারণ হচ্ছে ঢাকায় কোটা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাই পুলিশ নিহত হয়েছে যার ফলে লক্ষ্মীপুরে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ছাত্র ছাত্রীদের ১দফা দাবী কোটা আন্দোলন মিছিলে বাধা দেইনি পুলিশ।পরে বিকাল ৩ টার দিকে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ছাত্র ছাত্রীদের মিছিলে বাধা দেওয়া এবং ছাত্রকে গুলি করে হত্য করা নিয়ে ছাত্রদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ শুরু হয়েছে, যার ফলে ছাত্রদের বাধ্য করে সাবেক যুবলীগের নেতা সালা্হউদ্দিন টিপুর বাসভবনে আগুন দিতে।তবে পথচারীরা বলেন ১৭ রাউন্ড গুলি চালিয়ে শতের অধিক মানুষকে আহত করা হয়েছে। তবে ১১ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া তথ্য জানা গেলেও বাকী আরও একজনের মৃত কংকর পাওয়া গেছে আগুনের কয়লার ভিতরে। এছাড়া আরও আগুন লাগিয়ে পুড়ানো হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপির বাসভবন।এর পরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এর কার্যালয়ে আগুন,লক্ষ্মীপুর উত্তর স্টেশনে নিউমার্কেট বভন,পৌরসভা কার্যালয়, বাগবাড়ী, মুক্তিযুদ্ধা কমপ্লেক্স, বঙ্গবন্দু সৃতিচারণ, ট্রাফিক বক্স, জেলা প্রেসক্লাব,ঝুমুর ইলিশ চত্বর,ঝুমুরে ট্রাফিক বক্স,বঙ্গবন্ধু সৃতিচারণ ও জীব গাড়ি, পাইভেট কার, মোটরবাইক আগুন দেয় এবং ভাংচুর করেন। এছাড়া আরও দেখা যায় ঝুমুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সিসি ক্যামেরা ভাংচুর শুরু করে প্রদক্ষীণ এর সিসি ক্যামেরা ও চকবাজার সিসি ক্যামেরা এবং দক্ষিণ স্টেশন হইতে লক্ষ্মীপুর জেলা শহরে পৌরসভার যত প্রকার ক্যামেরা ছিল সব ক্যামেরা ভাংচুর করেন ছাত্র আন্দোলন কারীরা। এখানে শেষ নয় সোমবার বিকাল ৫ টার দিকে পৌরসভার পৌর মেয়র মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়ার বাসভবনে ভাংচুর জনতার ঘরে আগুন দিয়েছেন ছাত্র আন্দোলন কারীরা। তবে ছাত্র হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত থামবে না তাদের এই যুদ্ধ বলে জানিয়েছেন ছাত্র আন্দোলনকারীরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: রাকিব হোসেন সোহেল
কার্যালয় : রুম নং ২১, উত্তর স্টেশন মার্কেট ২য় তলা, লক্ষ্মীপুর
www.lakshmipurerkotha.com