লক্ষ্মীপুর সদর থানা প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরে মাসজিদের ইমাম ও জামায়াতের ইসলামী দলের কর্মী হত্যার আলোচিত ঘটনায় ৩২জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে এদিকে মিঝি বাড়ি মসজিদের ইমাম মাওলানা কাওসার হত্যার ঘটনার তদন্তের গভীরতা বহু ষড়যন্ত্রের তীর অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে তৃতীয় পক্ষের লোকজন। গত বৃহস্পতিবার সকালে এমন ঘটনা ঘটে। পরবর্তী নিহত ইমাম মাওলানা কাউসারের জানাযা নামায শুক্রবার বিকালে অনুষ্ঠিত হয়।
সরেজমিন গিয়ে তথ্য সংগ্রহ কালে খোঁজ নিয়ে জানা যায় বাংগাখাঁ ইউনিয়ন রাজিবপুর গ্রামের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আরজু ইয়াবা নিয়ে বহুবার গ্রেপ্তার হয়েও তার মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়নি। ছোট থেকে বড় সকলের পরিচিত মাদক ইয়াবা কারবারি আরজু। তারই সহদর ভাই স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা কাউসার (৫৫)। মাদক কারবারি আরজুর পুত্রও সমাজে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার পানির মটর চুরির অভিযোগও রয়েছে।
এ নিয়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রিয়াজ এবং স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ করে। পরবর্তী সময়ে আরজু তার দলবল নিয়ে হামলা চালায় রিয়াজ গংদের উপর। পরবর্তীতে রিয়াজও পাল্টা হামলা চালায় আরজুর উপর। তাৎক্ষণিক ঘটনাটি দৃশ্যমান হওয়ায় ইমাম মাওলানা কাউসার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।এঘটনা কে কেন্দ্র করে আহত হন ৩ জন। ইমাম মাওলানা কাউসার ঐ দিন আসর ও মাগরিবের নামায পড়িয়ে তার নিজ ঘরে চলে যায়। হঠাৎ তিনি অসুস্থ হলে তাকে নেয়া হয় লক্ষীপুর আধুনিক হসপিটালে। সেখানে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করার পর সাথে সাথে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার কথা জানান তার স্বজনদের।পরে তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসে।
লাশ বাড়িতে আনার পরে আবারও গভীর রাতে ময়না তদন্তের উদ্দেশ্যে সদর হাসপাতালে নেয়া হয় তার মৃত দেহ।নিহত মাওলানা কাওসার জামায়াত ইসলামী দলের কর্মী ছিলেন বলে দাবী জামায়েত ইসলামী লক্ষ্মীপুর দায়িত্বশীলদের।নিহত মসজিদের ইমাম মাওলানা কাউসার এর পুত্র ও আহত আরজু সাংবাদিকদের বলেন,কামাল মেম্বারের নির্দেশে রিয়াজ তাদের উপর হামলা চালায়। বক্তব্যের সময় সেখানে জামায়েত ইসলামী দলের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
ইমাম সাহেবের ছেলে ও তার ভাইয়ের বক্তব্যের কোথাও যুবদলের সোহাগ ইমাম সাহেবের ভাতিজা নাম নেই। হঠাৎ তৃতীয় পক্ষের ষড়যন্ত্রের তীর যুবদলের সোহাগ দিকে।সোহাগের নাম উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত নির্দিষ্ট একটা গুষ্টি । ইমাম সাহেব সোহাগের সম্পর্কে চাচা।
স্থানীয়রা জানান, সোহাগ লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকার ১৩ নং ওয়ার্ডে একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৩ নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। তাকে ফাসাঁতে কিছু স্থানীয় জামায়েত ইসলামী দলের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এমন ষড়যন্ত্রের বীজ বুনছে বলে জানান স্থানীয় এলাকাবাসী।
এ নিয়ে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। অন্যদিকে সঠিক ও সুস্পষ্ট বিচার দাবী করেন স্থানীয় এলাকাবাসী। শুধু তায় নয় হত্যার ঘটনা কে কেন্দ্র করে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী আন্দোলন দলীয় নেতাদের একের পর এক বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তবে জামায়াতের কর্মী ও মসজিদের ইমামের হত্যার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে জানান জামায়াতের ইসলামী নেতারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: রাকিব হোসেন সোহেল
কার্যালয় : রুম নং ২১, উত্তর স্টেশন মার্কেট ২য় তলা, লক্ষ্মীপুর
www.lakshmipurerkotha.com