শাহ আলম আজাদ
পর্ব ১
উপজেলা প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুর ৩নং দালাল বাজার বন বিভাগের সামাজিক বনাঞ্চল বন বিট রেঞ্জ কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণাধীন অধিনে রয়েছে ১৭নং ভবানীগঞ্জ শাখায় সামাজিক বনাঞ্চল বন বিভাগ কার্যালয়।দিলীপ কুমার এই অফিসে বন বিট কর্মকর্তা হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন।
সেই সুবাদে অফিসের বন বিট কর্মকর্তা দিলীপ কুমার কয়েক রকমে জব্দ করা সরকারি গাছ অবাধে এক রাতে নিধন করার অভিযোগ উঠেছে।এমন অভিযোগ করেন এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশী গণ,১৭নং ভবানীগঞ্জ বন বিট কর্মকর্তা দিলীপ কুমার এর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দিলীপ কুমার বন বিভাগের বন বিট কর্মকর্তার চলছে চোরাকারবারি সিন্ডিকেট। এতে গাছ চোরাকারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়ে উঠেছে বন বিটের নিয়ন্ত্রণাধীন সামাজিক বনাঞ্চল।
বন বিভাগ,স্থানীয় দালাল দিয়ে ,গাছ চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের বহুপক্ষীয় যোগসাজশে ব্যাপক গাছ পাচার হয়ে যাচ্ছে ১৭নং ভবানী গঞ্জ মহাসড়কের বনবিট কার্যালয়ের সামনে থেকে।
চোরাকারবারিরা রাতের বেলা লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী বন বিভাগের রেঞ্জাধীন বনবিটের আওতাভুক্ত সামাজিক বন এলাকায় বন বিভাগের রোপিত সামাজিক বনায়নের নানা ধরনের ছোট-বড় গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশী গণ সরকারি বাগানের গাছ জব্দ করে অফিস এর সামনে স্তুপ করে রাখে।
পরে দিন শেষে রাতে ১৭নং ভবানী গঞ্জ বন বিট কর্মকর্তা দিলীপ কুমার একটি গাড়ি যোগে পাচার করে দেয় গাছ গুলি।যদিও কিছু লোক গাছে নাম্বার দেওয়া কথা বলে দিলীপ কুমার বন বিট কর্মকর্তা কে, কিন্তু তিনি রাজি হননি জব্দ করা গাছে নাম্বার দিতে। এরপর দিলীপ কুমার জব্দ করা কাটা গাছ রাতে গাড়ি ভর্তি করে মহাসড়ক দিয়ে পাচার করে বিভিন্ন ইটভাটা ও স মিলে। ৬এ আগষ্ট রোজ বুধবার দিনে গাছ জব্দ করা হয় রাতে গাছ নিধনের ঘটনা ঘটে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন,বন বিভাগ ও তাদের দালালদের চাঁদা দেওয়ার বিষয়টি অনেক পুরনো। যাঁরা বৈধ পন্থায় নিয়ে আসছে, তাঁরা চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। আবার যাঁরা অবৈধভাবে সামাজিক বনাঞ্চল উজাড় করে গাছ পাচার করছেন,তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশী গণ আরও বলেন,বন বিট কর্মকর্তা দিলীপ কুমার দীর্ঘদিন ধরে এক জায়গায় দ্বায়িত্বে থাকার কারণে চাঁদা বাজঁদের পরিচিত দীর্ঘদিনের মুখ।
তাই এইসব অনিয়মের অভিযোগ পেয়েও বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ দিলীপ কুমার বন বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনিয়া প্রকাশ করেন। মনে হচ্ছে এইসব অনিয়মের পক্ষে বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ। যার ফলে বন বিভাগের বন বিট কর্মকর্তা দিলীপ কুমার অনিয়ম কারী দুর্নীতি বাজঁদের হাতের হাতিয়ার,ও শিকড় থেকে শিকড়ে গজাইয়া ভয়ংকর রুপ দারণ করা তাদের পেশা আর নেশা।
সরেজমিনে গিয়ে বন বিট কর্মকর্তা দিলীপ কুমার কে জিজ্ঞেস করে জব্দ করা গাছ কোথায় আছে, জানতে চাইলে তিনি জবাব না দিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ একেবারেই অবান্তর।
গাছ নেওয়া ঘটনার সম্পর্কে আমাদের কোন হাত নেই। গাছ নেওয়ার কথা সত্য,কিন্তু কে বা কাহারা গাছ গুম করেছে সেই কথা এখন বলা যাবেনা। পরিস্থিতি আলোকে এখন তাদের নাম বলা যাচ্ছে না, সময় হলে সব বলবেন বলে সাংবাদিক কে চা খাওয়ার কথা বলে একটি এক হাজার টাকা নোট জোর পূর্বক পকেটে ঢুকিয়ে দেন বন বিট কর্মকর্তা দিলীপ কুমার।
পরে সাংবাদিক ঐ টাকা ফেরত দিয়ে চলে আসার সময় আবারও ঐ এক হাজার টাকার নোটটি সাংবাদিকের পকেটে জোর খাটিয়ে ঢুকিয়ে দিয়ে বলেন, আমরা এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিন্দুমাত্রও সম্পৃক্ত নই।তবে কারা এইসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, জানতে চাইলে তিনি এইসব বিষয়ে আর কথা না বাড়াতে নিষেধ করেন। এইসব অনিয়মের বিষয়ে দালাল বাজার বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মিথুন চন্দ্র দাসের নিকট মুঠোফোনে কল করে কলের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হলে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বলে জানান। অপরাধ শিকার করেছে দিলীপ কুমার, তিনি নিজের অপরাধ কে নির্মূল করার চেষ্টায় সাংবাদিকে টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছে এই কর্মকর্তা।
এই ঘটনার পরে আরও একটি নতুন করে ঘটনার সঙ্গে তিনি নিজেকে জড়ান,পূর্বের গাছ পাচার করার ঘটনা কে দামাচাপা দেয়ার জন্য আবারও পুকুরে গাছ এনে রাখেন বন বিট কর্মকর্তা দিলীপ কুমার। তার ভয়ে আতংকে রয়েছে এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশী গণ, এব্যাপারে কেউ মুখ খুললে বন বিভাগের গাছ কাটাা মামলায় জড়াবে বলে হুমকি দেন দিলীপ কুমার বন বিট কর্মকর্তা। তাই কেউ তার মামলার ভয়ে স্বাক্ষী দিতে চায়না তার অনিয়মের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় কর্মকর্তা নোয়াখালী আবু ইউসুফ এর নিকট কল করে দিলীপ কুমার গাছ গুম করা, ও সাংবাদিক কে টাকা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার চেষ্টা করার অপরাধে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,দিলীপ কুমার বনবিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে উত্থাপিত অভিযোগ উঠেছে সেই গুলির বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হবে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই বনবিট কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: রাকিব হোসেন সোহেল
কার্যালয় : রুম নং ২১, উত্তর স্টেশন মার্কেট ২য় তলা, লক্ষ্মীপুর
www.lakshmipurerkotha.com