নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বালু লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের হাজিমারা মোল্লার হাট মাছ ঘাট চরকাচিয়া এলাকায় অবস্থিত ৭নং ওয়ার্ডে ডাকাতিয়া নদী থেকে অবৈধ বালু ব্যাবসা দীর্ঘ ১৭বছর থেকে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার দখলে ছিল। এখন এই ব্যবসা লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির রাসেল ও তার দলের নেতাকর্মী হুমায়ুন এবং ৪নং ওয়ার্ড রায়পুর উপজেলার ইউনিয়ন বিএনপির কতিপয় নেতা জলিল শীর্ষ নেতাদের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নে ডাকাতিয়া নদীর থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রির উৎসব শুরু করে উপজেলার ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দিদার ও তার বড় ভাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির মোল্লা সহ আরও অনেকে । তার কবল থেকে গত বছর ৫ আগস্ট তা দখলে নেন রায়পুর উপজেলার ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির রাসেল ও হুমায়ুন,এবং জলিল সহ তার দলের নেতাকর্মীরা। দীর্ঘদিন থেকে দিনরাত অবৈধভাবে খননযন্ত্র ড্রেইজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের করার পর তা উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে নিজেদের পকেট ভারি প্রতিমাসে প্রায় ১ কোটি টাকার বালু বিক্রি হচ্ছে।
বালু মহলের সাথে সংশ্লিষ্ট এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশের না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ম্যানেজ করে ডাকাতিয়া নদী ও খাল থেকে বালু তোলা হয়। এই বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন জায়গায় বালু বিক্রি হয়।
বালু উত্তোলন ড্রেইজার মেশিনে থাকা ২জন মেশিন চালক কে জিজ্ঞেস করে জানতে চাইলে একজন মুঠোফোনে কল করে এসে জানান রাসেল এর ড্রেইজার মেশিন।পরে বালু বিক্রির বিষয়ে রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির রাসেল কে জিজ্ঞেস করিলে তিনি আমতা আমতা ভাষায় নরম সুরে বলেন ড্রেইজার মেশিন আমার না মেশিনের মালিক হুমায়ুন।একপর্যায়ে হুমায়ুনের নাম্বার দেওয়া হলে কয়েকবার কল করা হলে হুমায়ুন কল রিসিভ করেন-নি। ডাকাতিয়া নদী থেকে বালু তোলার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
এদিকে দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ডাকাতিয়া মেইন নদীর কয়েকজন অপরিচিত জেলে'রা বলেন, আগে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন নেতারা বালু উত্তোলনে ছিল। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ আত্মগোপনে যাওয়ার পর সব দখলে নিয়েছে বিএনপির ইউনিয়ন নেতাকর্মী রাসেল ও হুমায়ুন এবং জলিল।
এ ব্যাপারে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর এলাকার স্থানীয়রা বিভিন্ন সংবাদ দাতা সাংবাদিকদের মাধ্যমে দৈনিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা প্রকাশ করেও বালু উত্তোলন বন্ধ করাতে পারেনি তা উল্লেখ করে কম্পিউটার টাইপের মাধ্যমে একটি কপি জমা দেওয়া হয়েছে। শুধু তায় নয় আগামীকাল একইসাথে রায়পুর ভূমি কর্মকর্তা ও সেনা ক্যাম্প রায়পুর ইনচার্জ এর বরাবর অভিযোগ করবেন ৩২ টি স্থানীয় পরিবারের ২০টি পরিবার। অভিযোগ কারীদের নিরাপত্তার সার্থে নাম প্রকাশ করা হয়নি।
যদিও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিছু ড্রেইজার মেশিন উচ্ছেদ করা হলেও এখনো পুরোপুরি ড্রেইজার মেশিনে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। তবে এইসব অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না করা হলেই যেমন ফসলী জমি হারাবে তেমনি হারাবে আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ। মেশিনের বাড়ির সাথে কাটা পড়ে ইলিশ, নতুন করে মাছের কোনো পোনা জন্ম নিতে দিচ্ছে না নদী দখল কারীরা। তেমনই দশে যাচ্ছে নিরীহ মানুষের ঘর বাড়ি। অবৈধ বালু উত্তোলন ড্রেইজার মেশিন বন্ধ করা একান্ত আবশ্যক ও জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশী গণ। তবে আর জরিমানা নয়, অবৈধ বালু উত্তোলন ড্রেইজার মেশিনের মালিকদের কে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার দাবি প্রার্থনা করছি। এবং একইসাথে জেল দেওয়ার দাবী জানাচ্ছি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: রাকিব হোসেন সোহেল
কার্যালয় : রুম নং ২১, উত্তর স্টেশন মার্কেট ২য় তলা, লক্ষ্মীপুর
www.lakshmipurerkotha.com