পর্ব -১
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ নাসির ও অর্থদাতা আবদুল মন্নান সহ ৪ ব্যাক্তির বিরুদ্ধে অসহায় পরিবার সদস্য কামালকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।
এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা।
সরজমিনে গিয়ে অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, রামগঞ্জ উপজেলার ৩নং ভাদুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ফকির বাড়ির বাসিন্দা মৃত তোফাজ্জল খান পরিবারদের সঙ্গে পূর্বের জায়গা জমি ও মৃত তোফাজ্জল খান এর স্ত্রী হাজোরা খাতুন প্রতিপক্ষ হানিফ নাছির জাকির আবদুল মন্নান সহ ৪ ভাই মিলে গত ২০০৯সালে জমির বাঘ বন্টন নিয়ে তাদের ফুফাতো ভাই ইউসুফ আলীর স্ত্রী সালেয়া বেগম কে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হত্যার করে উক্ত মামলার রাজ স্বাক্ষী হাজোরা খাতুন ও সাগর খান গংরা।
এঘটনার পর হইতে হত্যাকাণ্ডের পতিপক্ষ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হানিফ নাছির সহ তারা দলবদ্ধ হয়ে ভুক্তভোগী তোফাজ্জল খানের ছেলে কামাল খানকে কথায় কথায় বিভিন্ন ভাবে গায়েবী মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। শুধু তাই নয়, এসব বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের যে কেউ প্রতিবাদ করতে আসলে খেতে হয় মিথ্যা মামলা।
ভুক্তভোগী মামলার জাবিনে আসা কামাল খানের মা জননী হাজরা বেগম অভিযোগ করে দৈনিক লক্ষ্মীপুরের কথা, লক্ষ্মীপুর আর এফ টিভি,দৈনিক ভোরের খবর ডেইলি প্রেজেন্ট টাইম'স ও মোহনা নিউজ কে জানান, হানিফ, নাছির, জাকির ও আবদুল মন্নান আওয়ামী লীগের ক্ষমতা ব্যবহার করে আমাকে ও আমার ছেলে কামাল কে বাড়ি ঘরে থাকতে দিচ্ছে না। আমার ছেলে বাড়ি ঘরে আসলেই হামলা কারীরা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। প্রতিনিয়ত।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কায়দা করে বর্তমানে আওয়ামী লীগের দল পলাতক থাকলেও এরা কেউ পালায়নি, এরা এলাকার মানুষকে হামলা মামলা দিয়ে হয়রানি করা তাদের মূল ব্যবসা।হানিফ ও নাছিরের ঘরে চুরি করেছে এ ঘটনায় দুজন ধরা খেয়েছে চোরেরা নিজের মুখে স্বীকার করেছে স্বর্ণ ও নগদ টাকা সহ আরো জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে। চোরকে ধরে এনে পুলিশের হাতে না দিয়ে আজ কয়েক দিন ধরে ঘরের ভিতরে আটকে রেখে দফায় দফা চোরকে মারধর করছেন।
এলাকার মানুষ সবাই বলবে,চোর ধরা ও মারধর করার ঘটনা সত্য। কিন্তু আমার ছেলে নিরঅপরাধ,তাকে পুলিশ খাবার খেতে দেয়নি,খাবার থেকে তুলে ডেকে নিয়ে মিথ্যা মামলার এজাহার ভুক্ত গায়বী মামলা করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। আমি এই সাব্বির দারোগার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। আমি শুনেছি সে বদলি হয়ে গেছে, তাকে আইনের আওতায় এনে মিথ্যা মামলা দেওয়ার বিষয়ে বিচারকদের কাছে উপযুক্ত বিচার দাবি প্রার্থনা করছি।
ডাকাতি ও চুরি মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী কামাল বলেন, আব্দুর মন্নান অর্থদাতা ও হানিফ এবং তার জামায়েত নেতা নাছির তারা ৪ভাই মিলে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত পাওয়ার দেখাইয়া দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জায়গায় দখল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।এছাড়াও আমার নামে যতটা মিথ্যা মামলা দিয়েছে প্রত্যেকটি মামলাতে আমি রায় পেয়েছি। হানিফ নাছির তারা মামলাবাজ, আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে প্রতিনিয়ত৷
তিনি আরো বলেন, আমি নাকি চোর ডাকাত,আমি কখন কার ঘরে চুরি ডাকাতি করেছি তার প্রমাণ দিতে বলুন, কিন্তু কোন প্রমাণ না দিয়ে আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।আমি এর বিচার চাই,,আমি দীর্ঘ ১২বছর পরে বাড়িতে এসেও তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।এলাকায় ছিলাম না, তার পরেও আমি মিথ্যা মামলার আসামী হয়েছি।গত ২২, ১২, ২০২৫ইং তারিখ রাত সাড়ে ১০ঘটিকার দিকে রামগঞ্জ সোনাপুর আবুল খায়ের কোম্পানীর শাখা অফিসে চুরি হয়।
ঐদিন আমি চাঁদপুর জেলার কচুৃয়ার কাদলা এলাকায় ছোট বোনের বাসায় ছিলাম। যাহা সিসি টিভি ফুটেজ দেখা যায়, ঘটনার দিন ঐ ভিডিও ফুটেজ লক্ষ্মীপুর জেলা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেস করা হলে উক্ত মামলা থেকে আমাকে জাবিন দেওয়া হয় এবং উক্ত মামলায় দুই জন আসামী কে জিজ্ঞেস করিলে তারা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজ মুখের জবান বন্ধী দিয়ে আসামী কামাল খান কে চিনেন না এবং তাকে কখনো দেখেনি বলে জানান।
পরে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আসামী কামাল কে এই এজাহার ভুক্ত মিথ্যা মামলা থেকে জাবিন দেয়। রামগঞ্জ থানার এএসআই সাব্বির ও তার সঙ্গিও সোর্স বাহিনী ৭জন আমাদের বাড়িতে এসে রাতে খাবার খাওয়া অবস্থায় আমাকে ঢেকে নিয়ে থানায় বসিয়ে রেখে আমার নামে মিথ্যা মামলার এজাহার দায়ের করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।আমি নাকি নাছির ও হানিফ এদের ঘরে ডাকাতি করেছি, তাদের কেঁচি গেইটের তালা কেটে তাদের ঘর থেকে স্বর্ণ অলংকার চুরি করেছি বলে আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে গ্রেপ্তার করেছে।
আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষ, গ্রামের সবাই জানে।
হানিফ জাকির ও নাছির এবং আবদুল মন্নান এরা আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটাইয়া আমাদের উপর অন্যায়- অত্যাচার করতেছে৷ আমি ও আমার পরিবার মিথ্যা ও গায়বী মামলা থেকে মুক্তি চাই।
একপর্যায়ে অভিযুক্ত কারীদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের আয়নিত অভিযোগের ঘটনা সত্য কি-না জানার জন্য অভিযুক্ত কারীদের নিকট গিয়ে ঘটনার সম্পর্কে জানতে চাইলে, আমতাআমতা ভাঙা কন্ঠ হানিফ ও নাছির সাংবাদিকদের জানান,আমাদের মামলায় কামাল চোর গ্রেপ্তার হয়নি,হয়েছে রামগঞ্জ সোনাপুর আবুল খায়ের কোম্পানীর গোডাউনে চুরির মামলায়।
আবারও প্রশ্ন করে সাংবাদিকদের বলা হয় পূর্বের জায়গা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আপনাদের সাথে বিরোধ চলছে এলাকাবাসী আতংকে রয়েছে।পূর্বের শত্রুতার জের ধরে প্রতি হিংসা কারণে আপনাদের ইন্ধনে পুলিশ এএসআই সাব্বির তার সঙ্গীয় পুলিশ সোর্স বাহিনী নিয়ে এসে অসহায় নিরীহ কামাল খান কে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করেছে বলে জানতে চাইলে তারা বলেন,জায়গা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ঘটনা সত্য কিন্তু আমরা তাকে গ্রেপ্তার করাইনি একথা ভুল তথ্য দিয়েছে বলে সত্য ঘটনা কে মিথ্যা ও বানোয়াট মন্তব্য করে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এইসব কথা বলেন।
এলাকাবাসীর সুত্রে জানা যায়,হাজোরা খাতুন ৩নং স্বাক্ষী ও অত্র মামলার স্বাক্ষী গংদের কে হত্যা করে লাশ করার হুমকি প্রধান করে এবং শহীদ উল্যাহ মাষ্টার ও বাহার আলম এবং মজিবুল হক ওরূপে হলুদের ব্যাপারীর কৃতক ক্রয়কৃত সম্পত্তি জোর খাটিয়ে দখল দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশীরা আরও বলেন, তাদের প্রধান ইন্ধন দাতা হিসেবে অর্থদাতা গডফাদার হচ্ছে তাদের আরেক ভাই আবদুল মন্নান প্রবাসী অনলাইন শ্রেষ্ঠ জুয়াড়ী।
হারিছ মিয়া প্রকাশ কালু ফকির এর ছেলে হানিফ ফকির এর পূর্বের স্ত্রী শিরিন বেগম কে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গলায় উলনা পেছিয়ে মুখের ভিতরে টর্চ লাইট ঢুকিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করে।পরে পূর্বের স্ত্রী শিরিন বেগম লক্ষ্মীপুর জেলা জজ কোর্ট এর মাধ্যমে ডিভোর্স হয়ে যায়।
বিগত দিনে আওয়ামী লীগ করে এইসব অনিয়মের প্রভাব খাটিয়ে সরকার বিরোধী অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে হানিফ নাছির সহ তারা ৪ ভাই।প্রশাসনের নাকের ডগায় বসিয়ে দেখিয়ে দিলো অপরাধ কাকে বলে, এইসব কথা মন্তব্য করে সাংবাদিকদের জানান।
কেথুড়ি বাজারে এলাকার স্থানীয় অপরিচিত প্রতিবেশী কাছ থেকে জানা গেছে, হানিফ, জাকির নাছির ও আবদুল মন্নান সাবেক আওয়ামী লীগ দলীয় পদ পদবীর পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষ কে জিম্মি করা হচ্ছে ৪ভাইয়ের পেশা আর নেশা। এদিকে এক ভাই নাছির সাবেক আওয়ামী লীগ দল থেকে এসে নতুন করে জামায়াতের সক্রিয় কর্মী ও বীর মুক্তিযুদ্ধা সক্রিয় কমান্ডার পরিচয় দিয়ে বেড়ানো হচ্ছে তার প্রধান বিজনেস।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন,মকবুল আহমেদ প্রকাশ তোফাজ্জল হোসেন এর ছেলে কামাল হোসেন এর বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর এর রামগঞ্জ থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। যাহার এফআইআর নং-১০ তারিখ ২৪ শেই ডিসেম্বর২০২৫, জি আর নং-২০৮ ২৪শেই ডিসেম্বর ২০২৫,ধারা ৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোড ১৮৬০ সময় ০০. ৩০ ঘটিকা মামলায় তদন্তে সন্দিগ্ধ।এফআইআর নং-১ তারিখ ১ অক্টোবর ২০১১, জি আর নং-১৩৫, ১ অক্টোবর ২০১১,ধারা ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড ১৮৬০ সময় ১২ টা ৩০ মিনিট,অভিযোগ পত্রে অভিযুক্ত তদন্তে প্রাপ্ত।জি আর নং-০৮/ ৮৬ তারিখ ১২ই জুলাই ২০১০,ধারা ৪৫৭/৩৮০/৫১১ পেনাল কোড ১৮৬০,এজাহারে অভিযুক্ত।তিনি আরো বলেন, এইসব মামলার এজাহারে রয়েছে মোবাইল চুরি, স্বর্ণ ও নগদ টাকা সহ কয়েকটি চুরির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডাকাতি ও চুরি এখন দেশের সব জায়গায় হচ্ছে।এখন বাংলাদেশে সকল থানায় অভিযান চলমান।এছাড়া চোর কামাল কে ঘটনার প্রমাণ করে মামলাটি তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।তিনি আর বলেন, যদি কামাল নির্দোষ প্রমাণ হয় তাহলে তাকে এই এজাহার ভুক্ত মামলা থেকে মুক্তি পাবেন বলে জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: রাকিব হোসেন সোহেল
কার্যালয় : রুম নং ২১, উত্তর স্টেশন মার্কেট ২য় তলা, লক্ষ্মীপুর
www.lakshmipurerkotha.com