মো: হোসেন চৌধুরী
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরে আজ ১২/৮/২০২৫ ইং তারিখ বিশ্ব যুব দিবস, এই দিবস পালিত হচ্ছে সমগ্র বিশ্বব্যাপি।
তারই ধারাহিকতায় লক্ষ্মীপুরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে সরকারি , বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবক সংস্থা ও সকল যুব শ্রেনীর যুবরা অংশ গ্রহন করছেন, এতে প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলাপ্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিষ্টেট রাজিব কুমার সরকার, রেলি, আলোচনা সভা,পথসভা, যুব মেলা, উদ্যোক্তা প্রদর্শনী সহ নানান আয়োজনে আয়োজিত আজকের এই দিবসটি। বিভিন্ন বক্তরা এই সময় বক্তব্যে যুবদের উন্নয়ন শক্তির নানান দিক তুলে ধরেন।
২০০০ সাল থেকে এই দিবসটি সারা পৃথিবী ব্যাপি পালন হয়ে আসছে। একটি সমাজব্যবস্থা কে পরিবর্তন করে দেওয়ার জন্য যুবারা হচ্ছে নিয়ামক শক্তি। সেই শক্তিকে অবহেলা করে কোন জাতি উন্নতির সোপানে উন্নীত হতে পারেনি।
তাই আসুন আমাদের যুবকদেরকে জাগিয়েও তুলে ঐক্যবদ্ধ করে দেশের সমাজকে সামনে এগিয়ে নেই।
বিশ্ব যুব দিবস। যুবরাই শক্তি যুবরাই বল, যুবদের নিয়ে উন্নয়ে লাঘব টেনে এগিয়ে চল।
১. পরিচিতি
বিশ্ব যুব দিবস (International Youth Day) প্রতি বছর ১২ আগস্ট সারা বিশ্বে পালিত হয়। এটি জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত একটি বিশেষ দিবস, যার উদ্দেশ্য বিশ্বব্যাপী তরুণ প্রজন্মের উন্নয়ন, অধিকার, সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ গুলো নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
২. ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট
১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তরুণদের সমস্যা ও উন্নয়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার প্রস্তাব উঠে। ১৭ ডিসেম্বর ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ১২ আগস্টকে "International Youth Day" ঘোষণা করা হয়। প্রথমবার দিবসটি উদযাপিত হয় ২০০০ সালে।
কিন্তু ইতিহাসের প্রাগৈতিহাসিকতার দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম যুবকদের ব্যাপারে বলেছিলেন আমি যে আদর্শবাদী আন্দোলন নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলাম সেই আদর্শবাদী আন্দোলনের সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছিলেন যুবকরা। অপরপক্ষে তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন বৃদ্ধরা।
৩. উদ্দেশ্য
যুব সমাজের ক্ষমতায়ন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ে তরুণদের ভূমিকা জোরদার করা। নীতি নির্ধারকদের তরুণদের সমস্যা ও চাহিদা সম্পর্কে অবহিত করা।
৪. গুরুত্ব ও প্রয়োজনিয়তা বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ১৬% তরুণ (১৫-২৪ বছর)—যারা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের বড় চালিকা শক্তি। সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পেলে তরুণরা সমাজ পরিবর্তনে মুখ্য ভূমিকা রাখতে পারে। যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে বাংলাদেশের
যুব সমাজকে উন্নয়নের মূল ধারায় যুক্ত করা জাতীয় উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। যেকোনো প্রকল্প এবং প্রতিষ্ঠান কে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হলে সে আন্দোলনে যদি যুবকদের সম্পৃক্তা থাকে তাহলে তা সফলতার দিকে যাবে, অতীত ইতিহাস তাই বলছে।
৫. উদযাপনের ধরন রেলি, আলোচনা সভা, সেমিনার, কর্মশালা ও কনফারেন্স আয়োজন।অনলাইন ক্যাম্পেইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি। যুব নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।পরিবেশ, শিক্ষা ও মানবাধিকার বিষয়ক সামাজিক উদ্যোগ।
৬. পরিশেষে
বিশ্ব যুব দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়, বরং এটি একটি সুযোগ—তরুণদের সম্ভাবনা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে স্বীকৃতি দিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নয়নের সোপান গড়ে তোলার।
যুব সমাজ যদি সঠিক শিক্ষা, নৈতিকতা ও দিকনির্দেশনা পায়, তবে তারা শুধু নিজেদের নয়, পুরো সমাজ ও বিশ্বকে এগিয়ে নিতে পারবে। যা ইসলামে ও এই যুবক ও যৌবনের মূল্য অনেক বেশি দিয়েছে।সে সময়ের ইবাদত কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: রাকিব হোসেন সোহেল
কার্যালয় : রুম নং ২১, উত্তর স্টেশন মার্কেট ২য় তলা, লক্ষ্মীপুর
www.lakshmipurerkotha.com